ওবায়দুল কাদেরের ‘পালক পুত্রের’ বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুদক
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:০২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
- / 92
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠজন ও স্থানীয়ভাবে ‘পালিত পুত্র’ হিসেবে পরিচিত আসাদুজ্জামান হিরুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগগুলো যাচাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (২৩ নভেম্বর) বিকেলে দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, অভিযোগের প্রাথমিক মূল্যায়ন শেষ করে হিরুর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুদক জানায়, হিরুর বিরুদ্ধে চোরাচালান, হুন্ডি লেনদেন, শুল্ক ফাঁকি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও অর্থপাচারসহ বহু ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন এবং বিদেশে টাকা পাচার করেছেন।
বর্তমানে আসাদুজ্জামান হিরু ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের (এনডিই) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি গুলশান-১-এর ডিএনসিসি মার্কেটের সভাপতি এবং প্যারাগন, লন্ডন টাচ, প্যারিস গ্রুপ ও ওয়েস্ট ফিল্ডসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি এসব ব্যবসাকে ঢাল হিসেবে কাজে লাগিয়ে অবৈধ আর্থিক সাম্রাজ্য তৈরি করেছেন। হিরু ও তার স্ত্রী ইসরাত জাহানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং কর ফাঁকির মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা অর্জনের অভিযোগও জমা পড়েছে।
এ অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে দুদক দুই সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করেছে। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন এবং তার সঙ্গে সদস্য হিসেবে আছেন উপসহকারী পরিচালক আবু তালহা। তারা হিরুর সম্পদ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান করবেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে পুলিশ আসাদুজ্জামান হিরুকে গ্রেপ্তার করে। জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হিরু প্রায়ই নিজেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ‘পালিত পুত্র’ দাবি করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন।
































