ঐক্য থেকে দূরত্বে ‘জুলাই’: নেতৃত্বে দ্বন্দ্বে হতাশ
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫
- / 99
কতো প্রাণ, কতো রক্ত আর কতো অঙ্গহানির গল্পে গড়া জুলাই; যাকে ঘিরে মানুষের আকাঙ্ক্ষার ডানা মেলেছিল আকাশসমান। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে বিভেদ আর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে কতটুকু জীবিত আছে ‘জুলাই স্পিরিট’, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
চব্বিশের জুলাই কেবল একটি অভ্যুত্থানের স্মারক নয়, ছিল ছাত্র-জনতার সম্মিলিত স্বপ্ন, প্রতিবাদ আর প্রতিরোধের প্রতীক। সেদিন রাস্তায় ছিল শিক্ষার্থী, শ্রমিক আর সাধারণ মানুষ। লক্ষ্য ছিল ১৬ বছরের শোষণের অবসান ও একটি নতুন বাংলাদেশ। সেই ঐকতানে ছাত্রসমাজের নেতৃত্বে মানুষ লড়াই করেছে দল-মত নির্বিশেষে।
কিন্তু হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ আর রক্তেভেজা পথ ধরে আসা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাগুলো আঘাতপ্রাপ্ত হতে থাকে অল্প সময়ের ব্যবধানে। চিড় ধরে ঐক্যের প্রাচীরে। অভ্যুত্থানের পরপরই কৃতিত্বের লড়াইয়ে ভাঙন ধরে সমন্বয়কারীদের মধ্যে। কেউ কেউ দলীয় পরিচয় প্রকাশ করে হয়ে গেছেন আলাদা, অনেকে আবার রাজনৈতিক দল গঠন করে ধারণ করেন নতুন পরিচয়।
অভ্যুত্থানের নায়কদের কাঁদা ছোড়াছুড়ি ক্ষণে ক্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ঐক্য ধরে রাখার আকাঙ্কাকে। দুর্নীতি কিংবা নৈতিকতার প্রশ্নে আটকা পড়েছেন কেউ কেউ।
শুধু কি ছাত্র নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব? সিনিয়র রাজনীতিবিদরাও কখনো কটুবাক্য ছুঁড়েছেন সম্মুখ সারির ‘জুলাই যোদ্ধা’দের দিকে। আবার পাল্টা জবাবে কখনো মেজাজ হারিয়েছেন তরুণরাও। সব মিলিয়ে ৩৬৫ দিনের নতুন বাংলাদেশের সামনে এখন বড় প্রশ্ন; কতটুকু জীবিত আছে জুলাই স্পিরিট?
মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, “যে স্পিরিট থেকে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, সেখানে আমরা দাঁড়িয়ে নেই। আমরা অনেক দূরে চলে গেছি। কারণ, মূল চেতনার সঙ্গে আমরা সম্মিলিতভাবে দূরে থেকেছি। আমরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছি।”
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিপ্লব-পরবর্তী পরিস্থিতি অশান্ত থাকার নজির আছে ইতিহাসে। সেই সঙ্গে আছে এদেশে প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির সংস্কৃতিও। তবে তারা মনে করেন, নেতৃত্বে দ্বন্দ্ব-বিভেদ থাকলেও গণমানুষের অধিকারের মঞ্চ ‘জুলাই’কে ধারণ করবে যুগে যুগে।
উপস্থাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. আব্দুন নূর তুষার বলেন, “যতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষ অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করবে, ততদিন স্পিরিট বেঁচে থাকবে। বাঙালি জাতির প্রতিটি সংগ্রাম তার পরের সংগ্রামের মধ্যে বেঁচে আছে।”
সাংবাদিক আশরাফ কায়ছার বলেন, “আমরা অনেক কিছু চাই এবং আগামীকাল সকালের মধ্যে চাই; এভাবে তো হয় না। শাসনতন্ত্র ভারসাম্য নিয়ে সংলাপ হয়েছে। এভাবে ধারাবাহিকভাবে হাঁটতে থাকলে একদিন দারুণ গণতান্ত্রিক পথে ফেরত যেতে পারবো।”
বিশ্লেষকরা মনে করেন, গুম, খুন, দুর্নীতি তথা রাষ্ট্রীয় অনাচার থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় ৫৬ হাজার বর্গমাইলে যে ‘জুলাই’-এর আগমন, তাকে চর্চা করতে হবে শহিদদের আত্মত্যাগের চেতনায়; যেখানে সব প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকবে শুধুই বাংলাদেশ।
































