নিয়োগ ইস্যুতে আপত্তি
ঐকমত্য বৈঠক থেকে বিএনপির সাময়িক ওয়াকআউট
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫
- / 83
ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দফার ২০তম দিনের বৈঠক থেকে সাময়িকভাবে ওয়াকআউট করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার (২৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় বৈঠক শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই দলটি এ সিদ্ধান্ত নেয়।
বৈঠকে আলোচ্য দুটি বিষয়ের একটি ছিল; সরকারি কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) এবং ন্যায়পাল নিয়োগের প্রক্রিয়া। কমিশনের প্রস্তাব ছিল এসব নিয়োগে একটি কমিটি গঠনের বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার। বিএনপির দাবি, এ ধরনের কমিটি গঠন করলে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা খর্ব হবে এবং ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বৈঠক থেকে বেরিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি—সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের জন্য কমিটি গঠন করলে এবং সেটি সংবিধানে যুক্ত করলে ভবিষ্যতে একনায়কতান্ত্রিক প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এজন্য আমরা বৈঠক থেকে সাময়িক ওয়াকআউট করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি কাঠামো চাই যাতে স্বৈরশাসনের কোনো পথ উন্মুক্ত না থাকে। এজন্য আমরা তিনটি জায়গায় রক্ষাকবচ রাখার প্রস্তাব দিয়েছি। বিচার বিভাগের সংস্কার এগোচ্ছে, ফ্রিডম অব প্রেস প্রায় প্রতিষ্ঠিত, তাই নির্বাহী বিভাগের সঠিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করাই এখন জরুরি।”
সালাহউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, “জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব রয়েছে নির্বাহী বিভাগকে কার্যকর রাখা। কিন্তু যদি অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে জনগণের নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা খর্ব করা হয়, তবে রাষ্ট্রের ভারসাম্য নষ্ট হবে।”
তিনি বলেন, “আমরা চাই, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনার জন্য শক্তিশালী আইন থাকুক; কিন্তু সাংবিধানিকভাবে নিয়োগে কমিটি বাধ্যতামূলক করা যুক্তিযুক্ত নয়।”
বিএনপির ওয়াকআউটের পর একপর্যায়ে বৈঠকস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অ্যালার্ম বেজে ওঠায় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা সাময়িক স্থগিত হয়।
ওয়াকআউট প্রসঙ্গে দলটির অবস্থান ব্যাখ্যা করে সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা আলোচনার টেবিল ছেড়ে চলে গিয়েছি, তবে এটা চূড়ান্ত নয়। আমরা আবার পরবর্তী আলোচনায় ফিরে আসতে পারি, আমাদের অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতেই।”
































