ঢাকা ০৭:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এসিল্যান্ডের গাড়ির ধাক্কায় শিশু নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 104

এসিল্যান্ডের গাড়ির ধাক্কায় শিশু নিহত

কুমিল্লার হোমনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)–এর সরকারি গাড়ির ধাক্কায় ফাইজা আক্তার নামে দুই বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, সকালে মা–বাবার সঙ্গে ফাইজা উপজেলা পরিষদের ভেতরে আসে। কিছুক্ষণ পর সহকারী কমিশনারকে আনতে একটি সরকারি জিপ দ্রুতগতিতে মাঠে প্রবেশ করে এবং ঠিক সেই সময় শিশুটিকে চাপা দেয়। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন তাওবুর হোসেন।

নিহত ফাইজার বাবা ফাইজুল হক একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। তাদের বাড়ি বরিশালের উজিরপুরে। শোকার্ত মা জানান, “মেয়ে চিপস খেতে চেয়েছিল। আমি দোকানে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ দেখি গাড়িটি দৌড়ে এসে ওকে চাপা দিল। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল।”

ফাইজুল হক বলেন, তাদের দুই সন্তানের মধ্যে ফাইজা ছোট। ছেলে টিউলিপ প্রশাসন ইনস্টিটিউটে পড়ালেখা করায় ফাইজা সেদিন মায়ের সঙ্গে বাইরে অপেক্ষা করছিল। “মেয়েটা শুধু চিপস চাইছিল। সেই চিপস আর খাওয়া হলো না। এসিল্যান্ডের গাড়ি আমার সন্তানের জীবন কেড়ে নিল। আমি ন্যায়বিচার চাই,”—কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন তিনি।

দুর্ঘটনার পর শিশুটির মরদেহ পরিবারের সদস্যরা নিজ গ্রামের বাড়ি উজিরপুরে নিয়ে যাচ্ছেন।

ঘটনার পর এসিল্যান্ড আহাম্মেদ মোফাচ্ছের ও সদ্য যোগ দেওয়া ইউএনও শহিদুল ইসলাম হাসপাতালে গিয়ে শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ান। শিশুটির বাবাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে এসিল্যান্ড নিজেও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “ঘটনার সময় আমি গাড়িতে ছিলাম না। খবর পেয়েই ছুটে আসি। আমারও সন্তান আছে—এ দৃশ্য দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। আইনি প্রক্রিয়ায় সব ধরনের সহযোগিতা করব।”

দুর্ঘটনার পর থেকে চালকের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরে জানা যায়, তিনি গাড়িটি উপজেলা কার্যালয়ে রেখে হাসপাতালের দিকে ছুটে যান।

টিউলিপ প্রশাসন ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক মো. ইব্রাহিম জানান, ফাইজা সেদিন মায়ের সঙ্গে ভাইকে নিয়ে বিদ্যালয়ে এসেছিল। “এমন প্রাণবেদনাদায়ক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন,”—বলেন তিনি।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ফাইজার বাবার সহকর্মী এবং বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত ব্যক্তিরা চালককে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মিছিল করেন।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এসিল্যান্ডের গাড়ির ধাক্কায় শিশু নিহত

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

কুমিল্লার হোমনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)–এর সরকারি গাড়ির ধাক্কায় ফাইজা আক্তার নামে দুই বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, সকালে মা–বাবার সঙ্গে ফাইজা উপজেলা পরিষদের ভেতরে আসে। কিছুক্ষণ পর সহকারী কমিশনারকে আনতে একটি সরকারি জিপ দ্রুতগতিতে মাঠে প্রবেশ করে এবং ঠিক সেই সময় শিশুটিকে চাপা দেয়। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন তাওবুর হোসেন।

নিহত ফাইজার বাবা ফাইজুল হক একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। তাদের বাড়ি বরিশালের উজিরপুরে। শোকার্ত মা জানান, “মেয়ে চিপস খেতে চেয়েছিল। আমি দোকানে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ দেখি গাড়িটি দৌড়ে এসে ওকে চাপা দিল। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল।”

ফাইজুল হক বলেন, তাদের দুই সন্তানের মধ্যে ফাইজা ছোট। ছেলে টিউলিপ প্রশাসন ইনস্টিটিউটে পড়ালেখা করায় ফাইজা সেদিন মায়ের সঙ্গে বাইরে অপেক্ষা করছিল। “মেয়েটা শুধু চিপস চাইছিল। সেই চিপস আর খাওয়া হলো না। এসিল্যান্ডের গাড়ি আমার সন্তানের জীবন কেড়ে নিল। আমি ন্যায়বিচার চাই,”—কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন তিনি।

দুর্ঘটনার পর শিশুটির মরদেহ পরিবারের সদস্যরা নিজ গ্রামের বাড়ি উজিরপুরে নিয়ে যাচ্ছেন।

ঘটনার পর এসিল্যান্ড আহাম্মেদ মোফাচ্ছের ও সদ্য যোগ দেওয়া ইউএনও শহিদুল ইসলাম হাসপাতালে গিয়ে শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ান। শিশুটির বাবাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে এসিল্যান্ড নিজেও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “ঘটনার সময় আমি গাড়িতে ছিলাম না। খবর পেয়েই ছুটে আসি। আমারও সন্তান আছে—এ দৃশ্য দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। আইনি প্রক্রিয়ায় সব ধরনের সহযোগিতা করব।”

দুর্ঘটনার পর থেকে চালকের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরে জানা যায়, তিনি গাড়িটি উপজেলা কার্যালয়ে রেখে হাসপাতালের দিকে ছুটে যান।

টিউলিপ প্রশাসন ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক মো. ইব্রাহিম জানান, ফাইজা সেদিন মায়ের সঙ্গে ভাইকে নিয়ে বিদ্যালয়ে এসেছিল। “এমন প্রাণবেদনাদায়ক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন,”—বলেন তিনি।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ফাইজার বাবার সহকর্মী এবং বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত ব্যক্তিরা চালককে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মিছিল করেন।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।