ঢাকা ০২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার টাকার মধ্যে হওয়া উচিত’

নিজস্ব প্রতিবদেক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • / 147

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। ছবি: সংগৃহীত

এলপিজির ১২ লিটার সিলিন্ডারে দাম ১ হাজার টাকার কম হওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। দেশে তীব্র গ্যাস সংকটকে রাজনীতিবিদ ও তাদের সহযোগী ব্যবসায়ীদের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির ফল বলে সরাসরি অভিযোগ করেছেন তিনি।

শনিবার (১১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজারের একটি হোটেলে ‘টেকসই এলপিজি অর্থনীতি গড়ে তোলা, পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলা এবং নিরাপত্তা জোরদার’ শীর্ষক পলিসি ডিসকাশন অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন।

উপদেষ্টা ফাওজুল বলেন, দেশের স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে সিলিন্ডারের বাজার মূল্য ১২০০ টাকার বেশি হওয়ায় শিল্প ও গৃহস্থালি ব্যবহারকারীরা যথাযথ সুবিধা পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, বিপুল পরিমাণ অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে, যার পেছনে এই প্রভাবশালী মহলের হাত রয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বাড়ানো হলেও অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন না বাড়ানোয় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা জানান, রূপসা সহ অনেক নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাসের লাইন দেওয়া হয়েছে। অথচ দেশীয় গ্যাস উৎপাদনের সংস্থা বাপেক্স-এর মাধ্যমে নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। এই ঘাটতি পূরণে গত বছর ৮৪ কার্গোর বিপরীতে এ বছর ১০৮ কার্গো এলএনজি আমদানি করতে হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে গ্যাস সংকটের বিকল্প হিসেবে এলপিজি-কে এগিয়ে আনার কথা বলেছেন ফাওজুল কবির খান। তিনি মনে করেন, ‘এলপিজি-র দাম ১ হাজার টাকার নিচে হওয়া উচিত।’ তবে এই দাম কমানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি দেশের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিদেশে টাকা পাচার ও সম্পদ অর্জনের না করে এলপিজি-র দাম কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরও প্রস্তাব করেন, ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এলপিজি ব্যবহার করা যেতে পারে, এবং এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। ভোলা এবং অন্যান্য নতুন স্থানে গ্যাস পাওয়া গেলে বর্তমান সংকট কিছুটা দূর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

‘এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার টাকার মধ্যে হওয়া উচিত’

সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

এলপিজির ১২ লিটার সিলিন্ডারে দাম ১ হাজার টাকার কম হওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। দেশে তীব্র গ্যাস সংকটকে রাজনীতিবিদ ও তাদের সহযোগী ব্যবসায়ীদের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির ফল বলে সরাসরি অভিযোগ করেছেন তিনি।

শনিবার (১১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজারের একটি হোটেলে ‘টেকসই এলপিজি অর্থনীতি গড়ে তোলা, পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলা এবং নিরাপত্তা জোরদার’ শীর্ষক পলিসি ডিসকাশন অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন।

উপদেষ্টা ফাওজুল বলেন, দেশের স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে সিলিন্ডারের বাজার মূল্য ১২০০ টাকার বেশি হওয়ায় শিল্প ও গৃহস্থালি ব্যবহারকারীরা যথাযথ সুবিধা পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, বিপুল পরিমাণ অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে, যার পেছনে এই প্রভাবশালী মহলের হাত রয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বাড়ানো হলেও অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন না বাড়ানোয় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা জানান, রূপসা সহ অনেক নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাসের লাইন দেওয়া হয়েছে। অথচ দেশীয় গ্যাস উৎপাদনের সংস্থা বাপেক্স-এর মাধ্যমে নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। এই ঘাটতি পূরণে গত বছর ৮৪ কার্গোর বিপরীতে এ বছর ১০৮ কার্গো এলএনজি আমদানি করতে হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে গ্যাস সংকটের বিকল্প হিসেবে এলপিজি-কে এগিয়ে আনার কথা বলেছেন ফাওজুল কবির খান। তিনি মনে করেন, ‘এলপিজি-র দাম ১ হাজার টাকার নিচে হওয়া উচিত।’ তবে এই দাম কমানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি দেশের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিদেশে টাকা পাচার ও সম্পদ অর্জনের না করে এলপিজি-র দাম কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরও প্রস্তাব করেন, ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এলপিজি ব্যবহার করা যেতে পারে, এবং এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। ভোলা এবং অন্যান্য নতুন স্থানে গ্যাস পাওয়া গেলে বর্তমান সংকট কিছুটা দূর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।