ঢাকা ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাড়া দাবির ন্যায্যতা: উপ-প্রেস সচিব

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৫১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
  • / 158

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বাড়িভাড়া বাড়ানোর জন্য আন্দোলন করছেন। তাদের এই দাবি অনেকটাই ন্যায্য। আমি গ্রামে বড় হয়েছি এবং গ্রামের স্কুলে লেখাপড়া করেছি। শিক্ষকদের কষ্ট নিজের চোখে দেখেছি। তাদের বাড়িভাড়ার দাবি পূরণ করা হলে সেটা সব দিক থেকে সবার জন্য আনন্দদায়ক হবে।

আজ শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

উপ-প্রেস সচিব বলেন, তবে এই দাবি আদায় করতে গিয়ে শিক্ষকরা যদি জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করেন, সেটা দুঃখজনক। সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে তাদের দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদের বাড়িভাড়া কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, আপাতত পাঁচ শতাংশ বাড়িভাড়া বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। আগামী বাজেটের আগে আরও পাঁচ শতাংশ বাড়ানো যায় কিনা, সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। কিন্তু শিক্ষকদের অনেকেই চাইছেন সরকার এখনই যেন তাদের দাবিগুলো মেনে নেয়। এটি কতটা বাস্তবসম্মত, সে বিষয়ে বিবেচনা প্রয়োজন।

সুখবর দিয়ে আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, সরকার পাঁচ শতাংশ বাড়ি ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও ন্যূনতম বাড়িভাড়া বৃদ্ধি হবে ২,০০০ টাকা। এর ফলে যাদের বেতন স্কেল ২০ হাজার টাকার কম, তাদের বাড়িভাড়া প্রায় দশ শতাংশই বাড়বে। জানি অধিকাংশ শিক্ষকের মূল বেতনই ২০ হাজার টাকার কম। সেক্ষেত্রে তাদের দাবির বড় অংশ পূরণ হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, যে সব স্কুল এমপিওভুক্তির সব শর্ত পূরণ করেছে, তাদের শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি সরকার অবশ্যই বিবেচনায় রাখবে। তবে আমাদের এটাও দেখতে হবে, এমপিওভুক্ত হয়েছে কারা। বছরের পর বছর রাজনৈতিক বিবেচনায়, তদবিরের জোরে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। ছাত্র-শিক্ষক থাকুক বা না থাকুক, এমপিওভুক্তি হয়েছে। কোনো রকম ছাপড়ি ঘর থাকলেই হলো।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলগুলোতেও এর প্রভাব দেখা গেছে। গতকাল প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, ২০০-এর অধিক কলেজে কেউ পাস করেনি। এসএসসিতেও মোটামুটি একই অবস্থা। এখন যাদের শিক্ষার এই হাল, তাদেরকে কেন জনগণের টাকা দিয়ে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে?

পোস্টের শেষে তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্ত স্কুলগুলো সরকার নির্ধারিত ক্রাইটেরিয়া মেনে এমপিওভুক্ত হয়েছে কিনা, সেই বিষয়টি তদন্ত করার সময় এসেছে। ক্রাইটেরিয়া মানার কোনো স্বচ্ছতা নেই। ফলাফলও তা প্রমাণ করছে। এমন সব স্কুল এবং শিক্ষকদের কেন বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে, সেটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাড়া দাবির ন্যায্যতা: উপ-প্রেস সচিব

সর্বশেষ আপডেট ১২:৫১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বাড়িভাড়া বাড়ানোর জন্য আন্দোলন করছেন। তাদের এই দাবি অনেকটাই ন্যায্য। আমি গ্রামে বড় হয়েছি এবং গ্রামের স্কুলে লেখাপড়া করেছি। শিক্ষকদের কষ্ট নিজের চোখে দেখেছি। তাদের বাড়িভাড়ার দাবি পূরণ করা হলে সেটা সব দিক থেকে সবার জন্য আনন্দদায়ক হবে।

আজ শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

উপ-প্রেস সচিব বলেন, তবে এই দাবি আদায় করতে গিয়ে শিক্ষকরা যদি জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করেন, সেটা দুঃখজনক। সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে তাদের দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদের বাড়িভাড়া কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, আপাতত পাঁচ শতাংশ বাড়িভাড়া বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। আগামী বাজেটের আগে আরও পাঁচ শতাংশ বাড়ানো যায় কিনা, সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। কিন্তু শিক্ষকদের অনেকেই চাইছেন সরকার এখনই যেন তাদের দাবিগুলো মেনে নেয়। এটি কতটা বাস্তবসম্মত, সে বিষয়ে বিবেচনা প্রয়োজন।

সুখবর দিয়ে আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, সরকার পাঁচ শতাংশ বাড়ি ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও ন্যূনতম বাড়িভাড়া বৃদ্ধি হবে ২,০০০ টাকা। এর ফলে যাদের বেতন স্কেল ২০ হাজার টাকার কম, তাদের বাড়িভাড়া প্রায় দশ শতাংশই বাড়বে। জানি অধিকাংশ শিক্ষকের মূল বেতনই ২০ হাজার টাকার কম। সেক্ষেত্রে তাদের দাবির বড় অংশ পূরণ হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, যে সব স্কুল এমপিওভুক্তির সব শর্ত পূরণ করেছে, তাদের শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি সরকার অবশ্যই বিবেচনায় রাখবে। তবে আমাদের এটাও দেখতে হবে, এমপিওভুক্ত হয়েছে কারা। বছরের পর বছর রাজনৈতিক বিবেচনায়, তদবিরের জোরে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। ছাত্র-শিক্ষক থাকুক বা না থাকুক, এমপিওভুক্তি হয়েছে। কোনো রকম ছাপড়ি ঘর থাকলেই হলো।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলগুলোতেও এর প্রভাব দেখা গেছে। গতকাল প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, ২০০-এর অধিক কলেজে কেউ পাস করেনি। এসএসসিতেও মোটামুটি একই অবস্থা। এখন যাদের শিক্ষার এই হাল, তাদেরকে কেন জনগণের টাকা দিয়ে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে?

পোস্টের শেষে তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্ত স্কুলগুলো সরকার নির্ধারিত ক্রাইটেরিয়া মেনে এমপিওভুক্ত হয়েছে কিনা, সেই বিষয়টি তদন্ত করার সময় এসেছে। ক্রাইটেরিয়া মানার কোনো স্বচ্ছতা নেই। ফলাফলও তা প্রমাণ করছে। এমন সব স্কুল এবং শিক্ষকদের কেন বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে, সেটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।