ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এনবিআরের আরও পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
  • / 229

এনবিআর-দুদক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও সদস্যের বিরুদ্ধে কর ও শুল্ক আদায়ে অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ এবং কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজীর আহমেদ এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, এনবিআরের কিছু কর্মকর্তা কর ও শুল্ক আদায়ের ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে করদাতাদের কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা নিজেরা লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত পরিমাণ কর আদায় না করে করের পরিমাণ কমিয়ে দিতেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘুষ না পেয়ে কর্মকর্তারা কর ফাঁকির মিথ্যা মামলা করে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছেন বলেও জানা যায়।

তিনি আরও বলেন, অনেক করদাতা আগাম কর দেন, কেউ কেউ বেশি কর দেন। নিয়ম অনুযায়ী কর হিসাবনিকাশ করার পর বাড়তি করের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ অনুযায়ী, করের বাড়তি টাকা ফেরত পেতে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘুষ বা উপহার বাবদ অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ ধরনের অর্থ ফেরতের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করে নিজেরাও লাভবান হচ্ছেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন স্টেশনে কর্মরত অবস্থায় একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শুল্ক, ভ্যাট এবং ক্ষেত্রবিশেষে আয়কর ফাঁকির সুযোগ করে দিয়ে এবং নিজে লাভবান হয়ে রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন কিছু কর্মকর্তা। তারা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের বাইরে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

এই প্রেক্ষিতে এনবিআরের ভ্যাট, বৃহৎ করদাতা ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল রশীদ মিয়া, এনবিআরের সদস্য লুতফুল আজীম, এনবিআরের সিআইসি-এর সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, ঢাকা কর অঞ্চল-১৬-এর উপ-কর কমিশনার মোহাম্মদ শিহাবুল ইসলাম, এবং এনবিআরের যুগ্ম কমিশনার মো. তারেক হাছান—এই পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্যানুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এর আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ছয়জন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (২৯ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এনবিআরের আরও পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

সর্বশেষ আপডেট ১০:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও সদস্যের বিরুদ্ধে কর ও শুল্ক আদায়ে অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ এবং কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজীর আহমেদ এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, এনবিআরের কিছু কর্মকর্তা কর ও শুল্ক আদায়ের ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে করদাতাদের কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা নিজেরা লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত পরিমাণ কর আদায় না করে করের পরিমাণ কমিয়ে দিতেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘুষ না পেয়ে কর্মকর্তারা কর ফাঁকির মিথ্যা মামলা করে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছেন বলেও জানা যায়।

তিনি আরও বলেন, অনেক করদাতা আগাম কর দেন, কেউ কেউ বেশি কর দেন। নিয়ম অনুযায়ী কর হিসাবনিকাশ করার পর বাড়তি করের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ অনুযায়ী, করের বাড়তি টাকা ফেরত পেতে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘুষ বা উপহার বাবদ অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ ধরনের অর্থ ফেরতের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করে নিজেরাও লাভবান হচ্ছেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন স্টেশনে কর্মরত অবস্থায় একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শুল্ক, ভ্যাট এবং ক্ষেত্রবিশেষে আয়কর ফাঁকির সুযোগ করে দিয়ে এবং নিজে লাভবান হয়ে রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন কিছু কর্মকর্তা। তারা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের বাইরে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

এই প্রেক্ষিতে এনবিআরের ভ্যাট, বৃহৎ করদাতা ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল রশীদ মিয়া, এনবিআরের সদস্য লুতফুল আজীম, এনবিআরের সিআইসি-এর সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, ঢাকা কর অঞ্চল-১৬-এর উপ-কর কমিশনার মোহাম্মদ শিহাবুল ইসলাম, এবং এনবিআরের যুগ্ম কমিশনার মো. তারেক হাছান—এই পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্যানুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এর আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ছয়জন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (২৯ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।