কথায় কথায় গুলি করে, কে এই ‘দুর্ধর্ষ রায়হান’
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৪১:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
- / 98
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় যুবদল কর্মী মো. আলমগীর ওরফে আলম (৫৫) হত্যাকাণ্ডে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. রায়হানের নাম উঠে এসেছে। পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রায়হানের নেতৃত্বেই আলমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যায় অংশ নেয় ৮ থেকে ১০ জন, সময় নিয়েছে মাত্র দুই মিনিট।
পুলিশ জানিয়েছে, কথায় কথায় গুলি ছোড়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসী রায়হান। তাকে ধরতে একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও এখনো তাকে পাওয়া যায়নি। রাউজান ও ফটিকছড়ির পাহাড়ি এলাকা তার আস্তানা, যেখানে থেকে সে অপরাধ সংঘটিত করে, বিশেষ করে গুলি করে হত্যার পর দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যায়। মূলত চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের কাছ থেকে দীক্ষা নিয়ে দুর্ধর্ষ হয়ে উঠেছে রায়হান।
নিহত আলমকে হত্যার মূল কারণ হিসেবে পুলিশ চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধকে দায়ী করেছে। আলম একসময় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাউজান এলাকায় তিনি ‘ডাকাত আলম’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অস্ত্র ও মাদকসহ বিভিন্ন মামলায় ১২ বছর কারাগারে ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পান। তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ
গত শনিবার বিকালে আলম মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার সময় রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কায়কোবাদ জামে মসজিদের সামনে গুলিবিদ্ধ হন। আলমের স্ত্রী ও সন্তান তখন পেছনের অটোরিকশায় ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মসজিদের পাশে লুকিয়ে থাকা ৮-১০ জন অস্ত্রধারী আলমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থলেই আলম মারা যান। হত্যাকারীরা দুই মিনিটের মধ্যে পালিয়ে যায়। আলমের শরীরে পাঁচটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
মোবাইলে আতঙ্কের সাক্ষ্য
এক ব্যক্তির সঙ্গে আলমের মোবাইলে কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে আলম সন্ত্রাসী রায়হানের নাম উল্লেখ করে আতঙ্ক প্রকাশ করেন। আলম বলেন, “তুমি যে শোডাউন করিয়েছ আতঙ্ক সৃষ্টি করে, আমাকে তো মেরেও ফেলতে পারতো। আমাকে তাড়ানোর জন্য এসব করা হয়েছে।”
আলম হত্যার সঙ্গে রায়হানের সংশ্লিষ্টতা পুলিশ ধরছে। চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) বেলায়েত হোসেন বলেন, “রায়হানের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। আলম হত্যার ঘটনাতেও তার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।”
রায়হানের অতীত ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড
রায়হান রাউজানের ৭ নম্বর ইউনিয়নের জুরুরকুল খলিফা বাড়ির মৃত বদিউল আলমের ছেলে। ছোট সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে খুন, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে নগরী ও জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর ১৩টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি হত্যা মামলা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাউজানে যুবদল নেতা মো. সেলিম, মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও আলম হত্যার নেপথ্যে সরাসরি রায়হান অংশ নেয়। এছাড়া ছাত্রদল নেতা পিয়ার মোহাম্মদ বাবুকেও রায়হান গুলি করেছে।
নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে মো. বখতিয়ার হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল রিফাতকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় রায়হানকেও আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতার চারজন হলেও রায়হান এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, “আলম হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা হবে। রায়হানকে ধরতে অভিযান চলছে।”
রায়হান দীর্ঘদিন ধরে কথায় কথায় গুলি চালানো, এলাকায় চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত। আলম হত্যার মধ্য দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে তার নাম।

































