ঢাকা ০৩:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একাত্তরে নিজ পরিবারের অবস্থান জানালেন মির্জা ফখরুল

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৩:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • / 128

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগী। ছবি: সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজের পরিবারের অবস্থান সম্পর্কে প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার প্রয়াত বাবা মির্জা রুহুল আমিন সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ফখরুল বলেন, এই মিথ্যাচার শুরু হয় গত আওয়ামী লীগের শাসনের সময়।

সোমবার (১০ নভেম্বর) তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাসে এই বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশে কেউ মিথ্যার চাষ করবে না।

ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, ১৯৭১ সালের মার্চের ২৭ তারিখে তার বাবা তার নানাবাড়িতে যান মা ও দুই বোনকে নিয়ে। এরপর এপ্রিল মাসে তিনি ভারতের ইসলামপুরে রিফিউজি ক্যাম্পে যান এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রায় পুরো সময় সেখানে থাকেন। ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও স্বাধীন হওয়ার পর তার বাবা ফিরে আসেন। ফিরে এসে দেখেন, সব লুট হয়ে গেছে। অর্থাভাবে তার মা গয়না বিক্রি করে দেন। ফখরুল জানান, তিনি অর্থনীতি শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং প্রথম বেতন মায়ের হাতে তুলে দেন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের পর দেশের কোটি কোটি মানুষ ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবন গড়ে তুলেছেন। তার বাবার নামে গত ৫৪ বছরে কোনো মামলা হয়নি। ঠাকুরগাঁও জেলার আধুনিকতার শুরু তার বাবার হাতেই। জেলা জুড়ে সৎ মানুষ তার বাবার সুনাম জানে। মৃত্যুর পরে তার স্মৃতির জন্য যে ফাউন্ডেশন তৈরি হয়েছে, তা পরিচালনায় স্থানীয় নামকরা রাজনীতিবিদরা দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৭ সালে তার মৃত্যুতে সরকারি শোক প্রকাশ করা হয়।

ফখরুল অভিযোগ করেন, তার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার শুরু হয়েছে গত আওয়ামী লীগের শাসনে এবং গত এক বছরে কিছু ব্যক্তি যারা নিজেদের জুলাই আন্দোলনের অংশ মনে করে, তারা মিথ্যাচারে অংশ নিচ্ছে। তিনি বলেন, মিথ্যা, গুজব ও অপবাদ সমাজ ধ্বংস করে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিজের সারাজীবন তিনি দেশ ও জাতির জন্য কাজ করেছেন। গত বছরের জুলাই আন্দোলনে নতুন প্রজন্ম দেশকে আশা দেখিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্ম সত্যের পথে থাকবে, মেধা, বুদ্ধিমত্তা, সততা ও নীতির ভিত্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। শঠতা ও মিথ্যা দিয়ে পপুলিজম কেনা যায়, কিন্তু দেশ গড়া যায় না। তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান, অভিজ্ঞতা, দেশপ্রেম ও নতুন প্রজন্মের সাহসের সঙ্গে মিলিয়ে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও সৎ বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করতে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

একাত্তরে নিজ পরিবারের অবস্থান জানালেন মির্জা ফখরুল

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৩:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজের পরিবারের অবস্থান সম্পর্কে প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার প্রয়াত বাবা মির্জা রুহুল আমিন সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ফখরুল বলেন, এই মিথ্যাচার শুরু হয় গত আওয়ামী লীগের শাসনের সময়।

সোমবার (১০ নভেম্বর) তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাসে এই বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশে কেউ মিথ্যার চাষ করবে না।

ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, ১৯৭১ সালের মার্চের ২৭ তারিখে তার বাবা তার নানাবাড়িতে যান মা ও দুই বোনকে নিয়ে। এরপর এপ্রিল মাসে তিনি ভারতের ইসলামপুরে রিফিউজি ক্যাম্পে যান এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রায় পুরো সময় সেখানে থাকেন। ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও স্বাধীন হওয়ার পর তার বাবা ফিরে আসেন। ফিরে এসে দেখেন, সব লুট হয়ে গেছে। অর্থাভাবে তার মা গয়না বিক্রি করে দেন। ফখরুল জানান, তিনি অর্থনীতি শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং প্রথম বেতন মায়ের হাতে তুলে দেন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের পর দেশের কোটি কোটি মানুষ ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবন গড়ে তুলেছেন। তার বাবার নামে গত ৫৪ বছরে কোনো মামলা হয়নি। ঠাকুরগাঁও জেলার আধুনিকতার শুরু তার বাবার হাতেই। জেলা জুড়ে সৎ মানুষ তার বাবার সুনাম জানে। মৃত্যুর পরে তার স্মৃতির জন্য যে ফাউন্ডেশন তৈরি হয়েছে, তা পরিচালনায় স্থানীয় নামকরা রাজনীতিবিদরা দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৭ সালে তার মৃত্যুতে সরকারি শোক প্রকাশ করা হয়।

ফখরুল অভিযোগ করেন, তার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার শুরু হয়েছে গত আওয়ামী লীগের শাসনে এবং গত এক বছরে কিছু ব্যক্তি যারা নিজেদের জুলাই আন্দোলনের অংশ মনে করে, তারা মিথ্যাচারে অংশ নিচ্ছে। তিনি বলেন, মিথ্যা, গুজব ও অপবাদ সমাজ ধ্বংস করে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিজের সারাজীবন তিনি দেশ ও জাতির জন্য কাজ করেছেন। গত বছরের জুলাই আন্দোলনে নতুন প্রজন্ম দেশকে আশা দেখিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্ম সত্যের পথে থাকবে, মেধা, বুদ্ধিমত্তা, সততা ও নীতির ভিত্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। শঠতা ও মিথ্যা দিয়ে পপুলিজম কেনা যায়, কিন্তু দেশ গড়া যায় না। তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান, অভিজ্ঞতা, দেশপ্রেম ও নতুন প্রজন্মের সাহসের সঙ্গে মিলিয়ে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও সৎ বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করতে।