ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একসঙ্গে খেলতো, এখন পাশাপাশি কবরেই চিরনিদ্রায় তিন বন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:২৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫
  • / 281

একসঙ্গে খেলতো, এখন পাশাপাশি কবরেই চিরনিদ্রায় তিন বন্ধু

আরিয়ান, বাপ্পি ও হুমায়ের; তিনজনই প্রায় সমবয়সী। একসঙ্গে স্কুলে যেত, একসঙ্গে খেলত। সোমবারও (২১ জুলাই) তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তারা একসঙ্গে স্কুলে গিয়েছিল। বাসায় ফেরার কথাও ছিল একসঙ্গে। কিন্তু একটি বিমান দুর্ঘটনায় তাদের জীবনপ্রদীপ অকালে নিভে গেল। তারা এখন পাশাপাশি কবরেই শুয়ে আছে।

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির এই শিক্ষার্থীদের করুণ মৃত্যুতে স্বজন ও এলাকাবাসী শোকে বিহ্বল। সেদিন স্কুল শেষে কোচিং ক্লাস চলছিল। ক্লাস শেষে তাদের ঘরে ফেরার কথা ছিল। তারা ফিরেছে, তবে নিথর দেহ হয়ে; সবাইকে কাঁদিয়ে।

জানা গেছে, তিনজনই একই পরিবারের সদস্য। দিয়াবাড়ির তারারটেক মসজিদ এলাকায় একসঙ্গেই বেড়ে উঠছিল। মৃত্যুও ঘটেছে একসঙ্গে, একই ঘটনায়।

মঙ্গলবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেল শোকাচ্ছন্ন পরিবেশ। দুদিন আগেও যে উঠানে খেলা করত শিশুরা, সেখানেই এখন তারা পাশাপাশি কবরস্থ।

চোখের জলে পরিবারের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্যদের বিদায় জানালেন স্বজনরা। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক। অঝোরে কাঁদছে বন্ধুরা, সহপাঠীরা, প্রতিবেশীরা।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বাপ্পি স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আবু শাহিনের সন্তান। একই ক্লাসে পড়ত তার ভাইয়ের ছেলে হুমায়ের। আর চতুর্থ শ্রেণির আরিয়ান, শাহিনের চাচাতো ভাই। সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা হলেও তারা ছিল বন্ধু, সহপাঠী ও খেলার সাথি।

সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতো স্কুলে গিয়েছিল তারা। বেলা ১১টায় স্কুল শেষে কোচিং ক্লাসে অংশ নেয়। দুপুর দেড়টায় কোচিং শেষ হওয়ার কথা ছিল।

জোহরের নামাজ শেষে বাপ্পিকে আনতে রওনা দিয়েছিলেন শাহিন। সঙ্গে ফেরার কথা ছিল আরিয়ান ও হুমায়েরেরও। কিন্তু রাস্তায়ই শোনেন বিকট বিস্ফোরণের শব্দ। কিছুটা এগিয়ে দেখেন ধোঁয়ার কুণ্ডলি; দৌড়ে পৌঁছান স্কুলে। তখনই বুঝতে পারেন, সব শেষ।

বিমানটি যে কক্ষে আঘাত হানে, তার ঠিক আগের কক্ষে ছিল বাপ্পি। তবে দুর্ঘটনার পর দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও পরে হাসপাতালে মারা যায় হুমায়ের, তারপর শাহিনের সন্তান বাপ্পিও।

আরিয়ানের সহপাঠী রাইয়ান আফনান বলেন, ‘আমি সেদিন স্কুলে ছিলাম, তবে তখন বাইরের লাইব্রেরিতে গিয়েছিলাম। গেট পার হতেই বিস্ফোরণের শব্দ শুনি।’

এই ঘটনায় ওই এলাকায় আরও দুই শিক্ষার্থী মারা গেছে, যাদের মরদেহ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। পুরো তারারটেক এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

একই এলাকার বাসিন্দা মোতালেব হোসেন বলেন, “মাত্র একদিন আগে যাদের স্কুলে যেতে ও খেলতে দেখেছি, তারা আজ নেই, এটা কল্পনাও করা যায় না।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

একসঙ্গে খেলতো, এখন পাশাপাশি কবরেই চিরনিদ্রায় তিন বন্ধু

সর্বশেষ আপডেট ০১:২৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫

আরিয়ান, বাপ্পি ও হুমায়ের; তিনজনই প্রায় সমবয়সী। একসঙ্গে স্কুলে যেত, একসঙ্গে খেলত। সোমবারও (২১ জুলাই) তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তারা একসঙ্গে স্কুলে গিয়েছিল। বাসায় ফেরার কথাও ছিল একসঙ্গে। কিন্তু একটি বিমান দুর্ঘটনায় তাদের জীবনপ্রদীপ অকালে নিভে গেল। তারা এখন পাশাপাশি কবরেই শুয়ে আছে।

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির এই শিক্ষার্থীদের করুণ মৃত্যুতে স্বজন ও এলাকাবাসী শোকে বিহ্বল। সেদিন স্কুল শেষে কোচিং ক্লাস চলছিল। ক্লাস শেষে তাদের ঘরে ফেরার কথা ছিল। তারা ফিরেছে, তবে নিথর দেহ হয়ে; সবাইকে কাঁদিয়ে।

জানা গেছে, তিনজনই একই পরিবারের সদস্য। দিয়াবাড়ির তারারটেক মসজিদ এলাকায় একসঙ্গেই বেড়ে উঠছিল। মৃত্যুও ঘটেছে একসঙ্গে, একই ঘটনায়।

মঙ্গলবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেল শোকাচ্ছন্ন পরিবেশ। দুদিন আগেও যে উঠানে খেলা করত শিশুরা, সেখানেই এখন তারা পাশাপাশি কবরস্থ।

চোখের জলে পরিবারের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্যদের বিদায় জানালেন স্বজনরা। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক। অঝোরে কাঁদছে বন্ধুরা, সহপাঠীরা, প্রতিবেশীরা।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বাপ্পি স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আবু শাহিনের সন্তান। একই ক্লাসে পড়ত তার ভাইয়ের ছেলে হুমায়ের। আর চতুর্থ শ্রেণির আরিয়ান, শাহিনের চাচাতো ভাই। সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা হলেও তারা ছিল বন্ধু, সহপাঠী ও খেলার সাথি।

সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতো স্কুলে গিয়েছিল তারা। বেলা ১১টায় স্কুল শেষে কোচিং ক্লাসে অংশ নেয়। দুপুর দেড়টায় কোচিং শেষ হওয়ার কথা ছিল।

জোহরের নামাজ শেষে বাপ্পিকে আনতে রওনা দিয়েছিলেন শাহিন। সঙ্গে ফেরার কথা ছিল আরিয়ান ও হুমায়েরেরও। কিন্তু রাস্তায়ই শোনেন বিকট বিস্ফোরণের শব্দ। কিছুটা এগিয়ে দেখেন ধোঁয়ার কুণ্ডলি; দৌড়ে পৌঁছান স্কুলে। তখনই বুঝতে পারেন, সব শেষ।

বিমানটি যে কক্ষে আঘাত হানে, তার ঠিক আগের কক্ষে ছিল বাপ্পি। তবে দুর্ঘটনার পর দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও পরে হাসপাতালে মারা যায় হুমায়ের, তারপর শাহিনের সন্তান বাপ্পিও।

আরিয়ানের সহপাঠী রাইয়ান আফনান বলেন, ‘আমি সেদিন স্কুলে ছিলাম, তবে তখন বাইরের লাইব্রেরিতে গিয়েছিলাম। গেট পার হতেই বিস্ফোরণের শব্দ শুনি।’

এই ঘটনায় ওই এলাকায় আরও দুই শিক্ষার্থী মারা গেছে, যাদের মরদেহ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। পুরো তারারটেক এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

একই এলাকার বাসিন্দা মোতালেব হোসেন বলেন, “মাত্র একদিন আগে যাদের স্কুলে যেতে ও খেলতে দেখেছি, তারা আজ নেই, এটা কল্পনাও করা যায় না।”