এক নারীকে ঘিরে ববি’র দুই বিভাগ সংঘর্ষে
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৪:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
- / 2
এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করা নিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বাংলা ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর গেটের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের শান্ত করে দেন এবং তদন্তপূর্বক সুষ্ঠ বিচার করার আশ্বাস দেন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনন্দ বাজারে রসায়ন বিভাগের ১৪তম ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে বাংলা বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সিফাতের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী শনিবার সকাল ১০টার দিকে সিফাতকে ডেকে নিয়ে শহীদ মিনারের পিছনে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করার কথা জানায়। তবে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা হাতুড়ি দিয়ে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে।
এরপর বিকেল তিনটায় দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যে একসাথে বসেন। এক পর্যায়ে কথাকাটাকাটির জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় পাশের একটি চায়ের দোকান ভাঙচুর হয় এবং শিক্ষার্থীরা লাঠি-সোঠা দিয়ে একে অপরকে আঘাত করেন। এতে দুই বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী আহত হন।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং তাদের কাছে কোনো প্রমাণও নেই। তারপরও সকালে রসায়ন বিভাগের কয়েকজন আমাকে ডেকে নিয়ে পিটিয়েছে।” তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, নারী হেনস্তার অভিযোগ সমাধানের জন্য বসার সময় দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং একটি চায়ের দোকান ভাঙচুর হয়।
ঘটনার সময় নাছিমা বেগম নামের এক নারীর দোকান ভাঙচুরের শিকার হয়। তিনি জানান, “গত বৃহস্পতিবার রাতে আমার দোকানে চুরি হয়েছিল। আজ দোকানটায় ভাঙচুর করা হয়েছে। আমি অসহায়, আমার দোকানটি যেন ঠিক করে দেওয়া হয়।”
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ বলেন, রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সিফাতকে মারধরের হুমকি দেয় এবং হামলা করে। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদ বলেন, তাদের বিভাগের নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করার অভিযোগে সিফাতের বিরুদ্ধে সমাধান আলোচনা চলছিল। একই সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। তারা নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও সংঘর্ষের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের কথা শুনেছি। ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগও তদন্ত করা হবে।”
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। গুরুতর কেউ আহত হয়নি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিচার করা হবে।”


































