ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতিতে বিএনপি-এনডিএম ছাড়া সবাই রাজি

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:১৮:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫
  • / 136

‘জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫’-এর পূর্ণাঙ্গ খসড়া তৈরি হয়েছে। এতে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের পাশাপাশি প্রতিটি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানও যুক্ত করা হয়েছে। খসড়ার ২১তম প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সংসদে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ গঠন বিষয়ে সিপিবি বাদে সব দল একমত। আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি সমর্থন করেছে প্রায় সব দল; শুধু বিএনপি ও এনডিএম এতে দ্বিমত জানিয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের আগেই উচ্চকক্ষের প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করার প্রস্তাবেও রাজি হয়নি এই দুটি দল।

শনিবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে খসড়াটি পাঠিয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, উচ্চকক্ষে কোনো সংবিধান সংশোধনী পাস হলে তা কার্যকর হতে হলে নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে।

১৫তম প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী একইসঙ্গে দলের প্রধান থাকতে পারবেন না। এ বিধান সংবিধানে যুক্ত করার বিষয়ে বিএনপি, এনডিএম, ১২ দলীয় জোট ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আপত্তি জানিয়েছে।

নারী আসন প্রসঙ্গে খসড়ায় বলা হয়েছে, বর্তমান ৫০টি সংরক্ষিত আসন বহাল রেখে আগামী নির্বাচনে অন্তত ৫ শতাংশ নারী প্রার্থীকে সরাসরি মনোনয়ন দিতে হবে। এ বিষয়ে ২৬টি দল সম্মত হলেও জামায়াত আপত্তির কথা বললেও শেষ পর্যন্ত লিখিত আপত্তি দেয়নি।

নির্বাচন কমিশন নিয়োগে সাংবিধানিক কমিটি গঠনের বিষয়ে সব দল রাজি হলেও দুর্নীতি দমন কমিশন, কর্ম কমিশন, ন্যায়পাল, মহাহিসাব নিরীক্ষক এবং ন্যায়পাশ সংক্রান্ত নিয়োগে বিএনপিসহ চারটি দল আপত্তি জানিয়েছে।

সংবিধানের ৬(২) অনুচ্ছেদ সংশোধন করে নাগরিকদের পরিচয়ে ‘বাঙালি’ শব্দের পরিবর্তে ‘বাংলাদেশি’ ব্যবহারে ৩১টি দল একমত হয়েছে। এছাড়া সংবিধানের ৮, ৪৮, ৫৬, ১৪২ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার–সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ সংশোধনে গণভোটের বিধান রাখতে ৩০টি দল সম্মতি দিয়েছে।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, গণতন্ত্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি সংযোজনেও ৩১টি দল একমত হয়েছে। সংসদের দুই কক্ষের সদস্যদের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তাবে ২৮টি দল সম্মতি দিলেও ইসলামী আন্দোলন আপত্তি জানিয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাবে ৩১টি দল একমত হয়েছে। তবে গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ বিষয়ে বিএনপিসহ ছয়টি দল আপত্তি তুলেছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং তৃতীয় বৃহত্তম দলের প্রতিনিধিকে নিয়ে বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাবে সব দল রাজি হয়েছে। তবে শেষে দুটি শর্তে বিএনপিসহ সাতটি দল দ্বিমত জানিয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সরাসরি নির্বাচন কমিশনের অধীনে আনার বিষয়ে সব দল একমত হয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের স্থানীয় সরকারের অধীনে ন্যস্ত করার প্রস্তাবে ২৬টি দল সমর্থন দিয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতিতে বিএনপি-এনডিএম ছাড়া সবাই রাজি

সর্বশেষ আপডেট ১০:১৮:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫

‘জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫’-এর পূর্ণাঙ্গ খসড়া তৈরি হয়েছে। এতে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের পাশাপাশি প্রতিটি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানও যুক্ত করা হয়েছে। খসড়ার ২১তম প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সংসদে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ গঠন বিষয়ে সিপিবি বাদে সব দল একমত। আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি সমর্থন করেছে প্রায় সব দল; শুধু বিএনপি ও এনডিএম এতে দ্বিমত জানিয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের আগেই উচ্চকক্ষের প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করার প্রস্তাবেও রাজি হয়নি এই দুটি দল।

শনিবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে খসড়াটি পাঠিয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, উচ্চকক্ষে কোনো সংবিধান সংশোধনী পাস হলে তা কার্যকর হতে হলে নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে।

১৫তম প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী একইসঙ্গে দলের প্রধান থাকতে পারবেন না। এ বিধান সংবিধানে যুক্ত করার বিষয়ে বিএনপি, এনডিএম, ১২ দলীয় জোট ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আপত্তি জানিয়েছে।

নারী আসন প্রসঙ্গে খসড়ায় বলা হয়েছে, বর্তমান ৫০টি সংরক্ষিত আসন বহাল রেখে আগামী নির্বাচনে অন্তত ৫ শতাংশ নারী প্রার্থীকে সরাসরি মনোনয়ন দিতে হবে। এ বিষয়ে ২৬টি দল সম্মত হলেও জামায়াত আপত্তির কথা বললেও শেষ পর্যন্ত লিখিত আপত্তি দেয়নি।

নির্বাচন কমিশন নিয়োগে সাংবিধানিক কমিটি গঠনের বিষয়ে সব দল রাজি হলেও দুর্নীতি দমন কমিশন, কর্ম কমিশন, ন্যায়পাল, মহাহিসাব নিরীক্ষক এবং ন্যায়পাশ সংক্রান্ত নিয়োগে বিএনপিসহ চারটি দল আপত্তি জানিয়েছে।

সংবিধানের ৬(২) অনুচ্ছেদ সংশোধন করে নাগরিকদের পরিচয়ে ‘বাঙালি’ শব্দের পরিবর্তে ‘বাংলাদেশি’ ব্যবহারে ৩১টি দল একমত হয়েছে। এছাড়া সংবিধানের ৮, ৪৮, ৫৬, ১৪২ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার–সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ সংশোধনে গণভোটের বিধান রাখতে ৩০টি দল সম্মতি দিয়েছে।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, গণতন্ত্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি সংযোজনেও ৩১টি দল একমত হয়েছে। সংসদের দুই কক্ষের সদস্যদের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তাবে ২৮টি দল সম্মতি দিলেও ইসলামী আন্দোলন আপত্তি জানিয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাবে ৩১টি দল একমত হয়েছে। তবে গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ বিষয়ে বিএনপিসহ ছয়টি দল আপত্তি তুলেছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং তৃতীয় বৃহত্তম দলের প্রতিনিধিকে নিয়ে বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাবে সব দল রাজি হয়েছে। তবে শেষে দুটি শর্তে বিএনপিসহ সাতটি দল দ্বিমত জানিয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সরাসরি নির্বাচন কমিশনের অধীনে আনার বিষয়ে সব দল একমত হয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের স্থানীয় সরকারের অধীনে ন্যস্ত করার প্রস্তাবে ২৬টি দল সমর্থন দিয়েছে।