ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উখিয়ায় বৈদ্যুতিক ফাঁদে বন্য হাতির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, উখিয়া
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৭:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / 65

উখিয়ায় বৈদ্যুতিক ফাঁদে বন্য হাতির মৃত্যু

কক্সবাজারের উখিয়ায় আবারও বন্যপ্রাণী হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রাজাপালং ইউনিয়নের খয়রাতি পাড়ার একটি মাঠে সকালে একটি বন্য হাতির মৃতদেহ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের ধারণা, অবৈধ বৈদ্যুতিক ফাঁদে স্পৃষ্ট হয়ে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ভোরে স্থানীয়রা মাঠে হাতির দেহ পড়ে থাকতে দেখে বন বিভাগকে জানান। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা গিয়ে পায়ের ছাপ, বৈদ্যুতিক তারের টুকরোসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।

স্থানীয়দের মতে, গভীর রাতে হাতিটি খাবারের সন্ধানে বসতি এলাকায় ঢুকে পড়ে। সকালে লোকজন ঘর থেকে বের হয়ে বিশাল দেহটি দেখতে পেয়ে হতবাক হয়ে যান। অনেকেই এ ধরনের নিষ্ঠুর ফাঁদ ব্যবহারের প্রতিবাদ জানান।

বন বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, কেউ ফসল রক্ষার জন্য কারেন্টযুক্ত ফাঁদ পেতে রেখেছিল এবং হাতিটি সেখানে স্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। কর্মকর্তারা জানান, মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে নমুনা পরীক্ষা করা হবে এবং দায়ীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

ঘটনাটি নিয়ে পরিবেশবাদী ও সংরক্ষণকর্মীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বনভূমি কমে যাওয়া, খাদ্যের অভাব ও চলাচলপথ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় হাতিরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে; কিন্তু প্রতিরোধে বৈদ্যুতিক ফাঁদ ব্যবহার বিপজ্জনক এবং বেআইনি। এতে বন্যপ্রাণীসহ মানুষও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

এলাকাবাসী বলেন, ফসল নষ্ট হলেও হাতি হত্যার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত নয়। তারা নিরাপদ ও মানবিক প্রতিরোধব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।

বন বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন অনুযায়ী বন্যপ্রাণী হত্যা বা হত্যায় অবহেলার শাস্তি জরিমানা থেকে কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, বিষয়টি জানা হয়েছে, তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাতি–মানুষ সংঘাত কমাতে করিডর পুনর্গঠন, বাফার জোন তৈরি, সৌরভিত্তিক নিরাপদ প্রতিরোধ এবং স্থানীয়দের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। এসব উদ্যোগ না নিলে এ ধরনের মৃত্যু ঠেকানো কঠিন।

হাতির মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

উখিয়ায় বৈদ্যুতিক ফাঁদে বন্য হাতির মৃত্যু

সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৭:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের উখিয়ায় আবারও বন্যপ্রাণী হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রাজাপালং ইউনিয়নের খয়রাতি পাড়ার একটি মাঠে সকালে একটি বন্য হাতির মৃতদেহ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের ধারণা, অবৈধ বৈদ্যুতিক ফাঁদে স্পৃষ্ট হয়ে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ভোরে স্থানীয়রা মাঠে হাতির দেহ পড়ে থাকতে দেখে বন বিভাগকে জানান। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা গিয়ে পায়ের ছাপ, বৈদ্যুতিক তারের টুকরোসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।

স্থানীয়দের মতে, গভীর রাতে হাতিটি খাবারের সন্ধানে বসতি এলাকায় ঢুকে পড়ে। সকালে লোকজন ঘর থেকে বের হয়ে বিশাল দেহটি দেখতে পেয়ে হতবাক হয়ে যান। অনেকেই এ ধরনের নিষ্ঠুর ফাঁদ ব্যবহারের প্রতিবাদ জানান।

বন বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, কেউ ফসল রক্ষার জন্য কারেন্টযুক্ত ফাঁদ পেতে রেখেছিল এবং হাতিটি সেখানে স্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। কর্মকর্তারা জানান, মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে নমুনা পরীক্ষা করা হবে এবং দায়ীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

ঘটনাটি নিয়ে পরিবেশবাদী ও সংরক্ষণকর্মীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বনভূমি কমে যাওয়া, খাদ্যের অভাব ও চলাচলপথ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় হাতিরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে; কিন্তু প্রতিরোধে বৈদ্যুতিক ফাঁদ ব্যবহার বিপজ্জনক এবং বেআইনি। এতে বন্যপ্রাণীসহ মানুষও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

এলাকাবাসী বলেন, ফসল নষ্ট হলেও হাতি হত্যার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত নয়। তারা নিরাপদ ও মানবিক প্রতিরোধব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।

বন বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন অনুযায়ী বন্যপ্রাণী হত্যা বা হত্যায় অবহেলার শাস্তি জরিমানা থেকে কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, বিষয়টি জানা হয়েছে, তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাতি–মানুষ সংঘাত কমাতে করিডর পুনর্গঠন, বাফার জোন তৈরি, সৌরভিত্তিক নিরাপদ প্রতিরোধ এবং স্থানীয়দের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। এসব উদ্যোগ না নিলে এ ধরনের মৃত্যু ঠেকানো কঠিন।

হাতির মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন।