ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসিতে কি নিয়ে নালিশ করেছে জামায়াত?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 9

নির্বাচনি প্রচারণায় নারী কর্মীদের ওপর হামলা, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ঘাটতি, সিসি ক্যামেরা স্থাপনে অস্পষ্টতা এবং প্রশাসনের একপাক্ষিক আচরণসহ একাধিক অভিযোগ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে নালিশ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে দলের প্রতিনিধিরা এসব বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং সাবেক সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলামসহ চারজন।

বৈঠক শেষে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, ঢাকা-১৫ আসনসহ দেশের বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় প্রচারণায় নামা নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের অপদস্থ করা হচ্ছে, নেকাব খুলতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, নারীদের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া একটি ইতিবাচক দিক হলেও একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা গভীর উদ্বেগের বিষয়।

নারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি বা বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন— এমন অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, জামায়াতের প্রতি নারীদের বাড়তে থাকা সমর্থন দেখেই একটি বড় দল ভয়ভীতি প্রদর্শনের কৌশল নিয়েছে।

ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সার্কুলার এখনো কার্যকরভাবে দৃশ্যমান নয়। যেসব কেন্দ্রে ক্যামেরা বসানো হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় কম এবং অধিকাংশ ক্যামেরা কেন্দ্রের বাইরের দিকে মুখ করা। এতে ভেতরের অনিয়ম বা সহিংসতার প্রমাণ সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

নির্বাচনে পাঁচ শতাংশ নারী প্রার্থী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে জামায়াত নেতা বলেন, দলীয়ভাবে তাদের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। সামাজিক ও পারিবারিক বাস্তবতার কারণে অনেক নারী সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে ভবিষ্যতে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন।

প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট নিয়েও সংশয় তুলে ধরে তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠানো ব্যালট ১২ তারিখের মধ্যে পৌঁছালে তা গ্রহণ করা হবে বলে নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেছে। পাশাপাশি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষপাতমূলক ভূমিকা নিয়েও প্রতিকার চাওয়া হয়েছে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দলটি আশা করছে, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সমতাভিত্তিক নির্বাচনী মাঠ নিশ্চিত করবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইসিতে কি নিয়ে নালিশ করেছে জামায়াত?

সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনি প্রচারণায় নারী কর্মীদের ওপর হামলা, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ঘাটতি, সিসি ক্যামেরা স্থাপনে অস্পষ্টতা এবং প্রশাসনের একপাক্ষিক আচরণসহ একাধিক অভিযোগ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে নালিশ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে দলের প্রতিনিধিরা এসব বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং সাবেক সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলামসহ চারজন।

বৈঠক শেষে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, ঢাকা-১৫ আসনসহ দেশের বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় প্রচারণায় নামা নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের অপদস্থ করা হচ্ছে, নেকাব খুলতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, নারীদের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া একটি ইতিবাচক দিক হলেও একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা গভীর উদ্বেগের বিষয়।

নারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি বা বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন— এমন অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, জামায়াতের প্রতি নারীদের বাড়তে থাকা সমর্থন দেখেই একটি বড় দল ভয়ভীতি প্রদর্শনের কৌশল নিয়েছে।

ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সার্কুলার এখনো কার্যকরভাবে দৃশ্যমান নয়। যেসব কেন্দ্রে ক্যামেরা বসানো হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় কম এবং অধিকাংশ ক্যামেরা কেন্দ্রের বাইরের দিকে মুখ করা। এতে ভেতরের অনিয়ম বা সহিংসতার প্রমাণ সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

নির্বাচনে পাঁচ শতাংশ নারী প্রার্থী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে জামায়াত নেতা বলেন, দলীয়ভাবে তাদের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। সামাজিক ও পারিবারিক বাস্তবতার কারণে অনেক নারী সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে ভবিষ্যতে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন।

প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট নিয়েও সংশয় তুলে ধরে তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠানো ব্যালট ১২ তারিখের মধ্যে পৌঁছালে তা গ্রহণ করা হবে বলে নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেছে। পাশাপাশি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষপাতমূলক ভূমিকা নিয়েও প্রতিকার চাওয়া হয়েছে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দলটি আশা করছে, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সমতাভিত্তিক নির্বাচনী মাঠ নিশ্চিত করবে।