ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসি মেরুদণ্ডহীন, ‍নির্বাচন বর্জনের হুঁশিয়ারি এনসিপির

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / 194

ইসি মেরুদণ্ডহীন, ‍নির্বাচন বর্জনের হুঁশিয়ারি এনসিপির

নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ‘একটি দলের উর্দি পরা মেরুদণ্ডহীন প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

রোববার (৩ আগস্ট) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী।

তিনি বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষ সুষ্ঠু ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। বর্তমানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চাইলেও একটি দল ছাড়া বাকি সবার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন নিজেই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী আরও বলেন, “ইসি যদি ভোট নেওয়া ও দেওয়ার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা নির্বাচনে অংশ নেব না।”

তার অভিযোগ, কমিশন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট দল ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ ঠেকাতে নানা উপায়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে, তবে এনসিপি আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে এবং ‘জুলাই সনদ’-এর আলোকে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি তুলবে।”

তিনি আরও জানান, দলের নিবন্ধন আবেদন সংশোধনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইতোমধ্যে ইসিতে জমা দেওয়া হয়েছে। দলটি ‘শাপলা’ প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার প্রত্যাশা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির পক্ষ থেকে আরও একটি দাবি তুলে ধরা হয়; প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন যেন প্রতি ১৫ দিন পরপর একটি অনলাইন ব্রিফিং আয়োজন করে।

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় এনসিপির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়। দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ এবং যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা।

নির্বাচন কমিশন এর আগে এনসিপিসহ ১৪৪টি নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আবেদন যাচাই করে তথ্য ঘাটতির বিষয়ে দলগুলোকে চিঠি দেয়। এনসিপির ক্ষেত্রে ছয়টি বিষয়ে ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল; জেলা ও উপজেলা কমিটির তালিকা, অফিস ভাড়ার চুক্তিপত্র, তহবিলের উৎস ও পরিমাণ, কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর, গঠনতন্ত্রে সংবিধানবিরোধী কোনো উপাদান নেই এ বিষয়ে প্রত্যয়ন, এবং প্রার্থী মনোনয়নে প্যানেল ব্যবস্থার উল্লেখ।

প্রসঙ্গত, গত জুন মাসে এনসিপি ট্রাকে করে ৪৩ হাজার ৩১৬ পৃষ্ঠার দলিল নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়। তবে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে দলটি ইসির মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়নি। কমিশন জানিয়েছে, ১৪৪টি দলের বেশিরভাগ আবেদনে বিভিন্ন ধরনের ঘাটতি রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইসি মেরুদণ্ডহীন, ‍নির্বাচন বর্জনের হুঁশিয়ারি এনসিপির

সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ‘একটি দলের উর্দি পরা মেরুদণ্ডহীন প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

রোববার (৩ আগস্ট) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী।

তিনি বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষ সুষ্ঠু ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। বর্তমানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চাইলেও একটি দল ছাড়া বাকি সবার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন নিজেই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী আরও বলেন, “ইসি যদি ভোট নেওয়া ও দেওয়ার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা নির্বাচনে অংশ নেব না।”

তার অভিযোগ, কমিশন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট দল ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ ঠেকাতে নানা উপায়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে, তবে এনসিপি আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে এবং ‘জুলাই সনদ’-এর আলোকে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি তুলবে।”

তিনি আরও জানান, দলের নিবন্ধন আবেদন সংশোধনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইতোমধ্যে ইসিতে জমা দেওয়া হয়েছে। দলটি ‘শাপলা’ প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার প্রত্যাশা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির পক্ষ থেকে আরও একটি দাবি তুলে ধরা হয়; প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন যেন প্রতি ১৫ দিন পরপর একটি অনলাইন ব্রিফিং আয়োজন করে।

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় এনসিপির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়। দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ এবং যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা।

নির্বাচন কমিশন এর আগে এনসিপিসহ ১৪৪টি নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আবেদন যাচাই করে তথ্য ঘাটতির বিষয়ে দলগুলোকে চিঠি দেয়। এনসিপির ক্ষেত্রে ছয়টি বিষয়ে ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল; জেলা ও উপজেলা কমিটির তালিকা, অফিস ভাড়ার চুক্তিপত্র, তহবিলের উৎস ও পরিমাণ, কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর, গঠনতন্ত্রে সংবিধানবিরোধী কোনো উপাদান নেই এ বিষয়ে প্রত্যয়ন, এবং প্রার্থী মনোনয়নে প্যানেল ব্যবস্থার উল্লেখ।

প্রসঙ্গত, গত জুন মাসে এনসিপি ট্রাকে করে ৪৩ হাজার ৩১৬ পৃষ্ঠার দলিল নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়। তবে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে দলটি ইসির মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়নি। কমিশন জানিয়েছে, ১৪৪টি দলের বেশিরভাগ আবেদনে বিভিন্ন ধরনের ঘাটতি রয়েছে।