ঢাকা ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের স্থল অভিযান শুরু, গাজা ছেড়ে পালাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩০:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 86

ছবি: রয়টার্স

সপ্তাহব্যাপী তীব্র বিমান হামলার পর গাজা সিটিতে স্থল অভিযানের মূল পর্যায় শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনারা। রাতভর ভারি বোমা হামলা হওয়ার কথা জানিয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার এই অভিযানের ঘোষণা দিয়ে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কার্টজ এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন ‘গাজা জ্বলছে।’ নগরীর ওপর বিমান, সমুদ্র ও স্থল তিন দিক দিয়ে আক্রমণ চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বিকট বিস্ফোরণ দেখার কথা জানিয়েছেন। বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা। তারা মঙ্গলবারের বোমা হামলাকে গাজায় দুইবছরের যুদ্ধের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক বলে বর্ণনা করেছে।

গাজা সিটিতে ৩ হাজার হামাস যোদ্ধা রয়েছে বলে বিশ্বাস আইডিএফ এর। তাদেরকে মোকাবেলায় এই বাড়তি সেনা নামানো হবে বলে জানিয়েছে আইডিএফ।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মঙ্গলবার সকালের দিকে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছেন। এর নিহতদের বেশিরভাগই গাজা সিটির।

গাজার সবচেয়ে বড় এই শহরে এখনো কয়েক লাখ বাসিন্দা অবস্থান করছেন, যেখানে ইতোমধ্যে ইসরায়েলি অবরোধের কারণে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে অভিযানটি এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, গাজা সিটি হামাসের শেষ কয়েকটি শক্ত ঘাঁটির একটি।

ইসরায়েলের এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসকে পরাজিত করতে যতদিন প্রয়োজন ততদিন সেনারা গাজা সিটিতে অভিযান চালাবে।

তিনি আরও বলেন, সেনারা অভিযান দ্রুত শেষ করতে চায় এবং জিম্মি ও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

‘চারিদিকে বোমা’

“গত রাতটা ছিল সবচেয়ে কঠিন রাতগুলোর একটি,” বিবিসি নিউজডে-কে এমনটাই জানিয়েছেন গাজা সিটির বাসিন্দা ইমাদ।

তিনি বলেন, চারদিকে “বোমা পড়ছে,” অসংখ্য ভবন টার্গেট করা হচ্ছে। আকাশজুড়ে ধোঁয়া আর আগুন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।

“বিভিন্ন জায়গা থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল,” বলেন ইমাদ।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দেখেছেন, মানুষ দিকবিদিক ছুটছে—কোথায় যাবে তা জানে না। হাসপাতালগুলো আহত রোগীতে ভরা, যাদের চিকিৎসা দেওয়ারও সুযোগ নেই, দক্ষিণে নেওয়ারও উপায় নেই।

“পরিস্থিতি সত্যিই ভয়াবহ… আমরা খুব একটা আশাবাদী নই, তবে অন্তত আশা করতে তো পারি,” বলেন ইমাদ।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইসরায়েলের স্থল অভিযান শুরু, গাজা ছেড়ে পালাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩০:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সপ্তাহব্যাপী তীব্র বিমান হামলার পর গাজা সিটিতে স্থল অভিযানের মূল পর্যায় শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনারা। রাতভর ভারি বোমা হামলা হওয়ার কথা জানিয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার এই অভিযানের ঘোষণা দিয়ে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কার্টজ এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন ‘গাজা জ্বলছে।’ নগরীর ওপর বিমান, সমুদ্র ও স্থল তিন দিক দিয়ে আক্রমণ চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বিকট বিস্ফোরণ দেখার কথা জানিয়েছেন। বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা। তারা মঙ্গলবারের বোমা হামলাকে গাজায় দুইবছরের যুদ্ধের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক বলে বর্ণনা করেছে।

গাজা সিটিতে ৩ হাজার হামাস যোদ্ধা রয়েছে বলে বিশ্বাস আইডিএফ এর। তাদেরকে মোকাবেলায় এই বাড়তি সেনা নামানো হবে বলে জানিয়েছে আইডিএফ।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মঙ্গলবার সকালের দিকে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছেন। এর নিহতদের বেশিরভাগই গাজা সিটির।

গাজার সবচেয়ে বড় এই শহরে এখনো কয়েক লাখ বাসিন্দা অবস্থান করছেন, যেখানে ইতোমধ্যে ইসরায়েলি অবরোধের কারণে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে অভিযানটি এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, গাজা সিটি হামাসের শেষ কয়েকটি শক্ত ঘাঁটির একটি।

ইসরায়েলের এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসকে পরাজিত করতে যতদিন প্রয়োজন ততদিন সেনারা গাজা সিটিতে অভিযান চালাবে।

তিনি আরও বলেন, সেনারা অভিযান দ্রুত শেষ করতে চায় এবং জিম্মি ও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

‘চারিদিকে বোমা’

“গত রাতটা ছিল সবচেয়ে কঠিন রাতগুলোর একটি,” বিবিসি নিউজডে-কে এমনটাই জানিয়েছেন গাজা সিটির বাসিন্দা ইমাদ।

তিনি বলেন, চারদিকে “বোমা পড়ছে,” অসংখ্য ভবন টার্গেট করা হচ্ছে। আকাশজুড়ে ধোঁয়া আর আগুন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।

“বিভিন্ন জায়গা থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল,” বলেন ইমাদ।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দেখেছেন, মানুষ দিকবিদিক ছুটছে—কোথায় যাবে তা জানে না। হাসপাতালগুলো আহত রোগীতে ভরা, যাদের চিকিৎসা দেওয়ারও সুযোগ নেই, দক্ষিণে নেওয়ারও উপায় নেই।

“পরিস্থিতি সত্যিই ভয়াবহ… আমরা খুব একটা আশাবাদী নই, তবে অন্তত আশা করতে তো পারি,” বলেন ইমাদ।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস