ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইলিশের দাম চড়া, খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন ক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:২৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
  • / 229

ইলিশের দাম চড়া, খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন ক্রেতারা

পদ্মা-মেঘনা নদীতে পানি ও বৃষ্টির প্রবণতা বাড়লেও চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশের সরবরাহ খুবই কম। ইলিশের চাহিদা যেমন রয়েছে, ক্রেতার উপস্থিতিও তেমনি। তবে চড়া দাম জেনে অনেক ক্রেতাই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ কম থাকায় দাম চড়া হয়েছে। আগে এই ঘাটে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ মণ ইলিশ বেচাকেনা হত, কিন্তু এখন সেই পরিমাণ কমে মাত্র ৫০ থেকে ১০০ মণে এসে দাঁড়িয়েছে।

রোববার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মাছঘাটে অবস্থান করে দেখা গেছে, অনেক ক্রেতাই ইলিশের দাম দেখে দরদাম করেও কিনে না। আবার কেউ বিশেষ প্রয়োজন কিংবা দূর থেকে আসা হওয়ায় বড় বা দুটি ইলিশ কিনছেন।

রাজধানী থেকে চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটে আসা আবু রায়হান বলেন, “চার বন্ধু লঞ্চে করে তিন নদীর মোহনায় ঘুরতে এসেছি। মোহনার পাশেই ইলিশ ঘাট। ঘুরে ঘুরে ইলিশের বাজার দেখলাম। তবে এখানে এসে ভিন্ন অভিজ্ঞতা হলো, ইলিশের স্তুপ নেই এবং দামও বেশি। সাধ্যের মধ্যে হলে কিনে নিয়ে যাব।”

চাঁদপুর শহরের বাসিন্দা সায়েম মিয়া বলেন, “ঢাকা থেকে অতিথি এসেছে। তাদের ইলিশ কিনে দেওয়ার মতো অবস্থা নেই। প্রতি কেজি ইলিশ আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একটি ইলিশ দুই হাজার টাকায় কিনে পাশের হোটেলে আপ্যায়ন করেছি।”

ঘাটের ব্যবসায়ী নবীর হোসেন জানান, “ইলিশের মৌসুম চলছে, কিন্তু পদ্মা-মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে কম ইলিশ ধরা পড়ছে। সারাদেশে চাঁদপুরের ইলিশের চাহিদা থাকলেও বাজারে মাছের আমদানি কম। আগে ট্রলারে করে দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশ দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ মণ আসত, কিন্তু পদ্মা সেতু হওয়ায় এখন আর সেই মাছ ঘাটে আসে না। এখন দিনে ৫০ থেকে ১০০ মণের বেশি ইলিশ আসে না। সামনে ইলিশের ভরা মৌসুম, নদীর পানি বৃদ্ধি ও বৃষ্টি থাকলে ইলিশ ধরা পড়বে, তখন দাম কমবে।”

আরেক ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, “এখন ঘাটে আসা ইলিশ আকারে বড় এবং স্থানীয় নদীর। সপ্তাহজুড়ে ক্রেতারা আসেন, অধিকাংশই দরদাম করেন, কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই কিনে না। তাই বিক্রি কমেছে।”

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সবেবরাত সরকার জানান, “বাজারে এক কেজির ইলিশ বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৩০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকায়। ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায়। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ দুই হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইলিশের দাম চড়া, খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন ক্রেতারা

সর্বশেষ আপডেট ০১:২৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

পদ্মা-মেঘনা নদীতে পানি ও বৃষ্টির প্রবণতা বাড়লেও চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশের সরবরাহ খুবই কম। ইলিশের চাহিদা যেমন রয়েছে, ক্রেতার উপস্থিতিও তেমনি। তবে চড়া দাম জেনে অনেক ক্রেতাই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ কম থাকায় দাম চড়া হয়েছে। আগে এই ঘাটে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ মণ ইলিশ বেচাকেনা হত, কিন্তু এখন সেই পরিমাণ কমে মাত্র ৫০ থেকে ১০০ মণে এসে দাঁড়িয়েছে।

রোববার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মাছঘাটে অবস্থান করে দেখা গেছে, অনেক ক্রেতাই ইলিশের দাম দেখে দরদাম করেও কিনে না। আবার কেউ বিশেষ প্রয়োজন কিংবা দূর থেকে আসা হওয়ায় বড় বা দুটি ইলিশ কিনছেন।

রাজধানী থেকে চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটে আসা আবু রায়হান বলেন, “চার বন্ধু লঞ্চে করে তিন নদীর মোহনায় ঘুরতে এসেছি। মোহনার পাশেই ইলিশ ঘাট। ঘুরে ঘুরে ইলিশের বাজার দেখলাম। তবে এখানে এসে ভিন্ন অভিজ্ঞতা হলো, ইলিশের স্তুপ নেই এবং দামও বেশি। সাধ্যের মধ্যে হলে কিনে নিয়ে যাব।”

চাঁদপুর শহরের বাসিন্দা সায়েম মিয়া বলেন, “ঢাকা থেকে অতিথি এসেছে। তাদের ইলিশ কিনে দেওয়ার মতো অবস্থা নেই। প্রতি কেজি ইলিশ আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একটি ইলিশ দুই হাজার টাকায় কিনে পাশের হোটেলে আপ্যায়ন করেছি।”

ঘাটের ব্যবসায়ী নবীর হোসেন জানান, “ইলিশের মৌসুম চলছে, কিন্তু পদ্মা-মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে কম ইলিশ ধরা পড়ছে। সারাদেশে চাঁদপুরের ইলিশের চাহিদা থাকলেও বাজারে মাছের আমদানি কম। আগে ট্রলারে করে দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশ দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ মণ আসত, কিন্তু পদ্মা সেতু হওয়ায় এখন আর সেই মাছ ঘাটে আসে না। এখন দিনে ৫০ থেকে ১০০ মণের বেশি ইলিশ আসে না। সামনে ইলিশের ভরা মৌসুম, নদীর পানি বৃদ্ধি ও বৃষ্টি থাকলে ইলিশ ধরা পড়বে, তখন দাম কমবে।”

আরেক ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, “এখন ঘাটে আসা ইলিশ আকারে বড় এবং স্থানীয় নদীর। সপ্তাহজুড়ে ক্রেতারা আসেন, অধিকাংশই দরদাম করেন, কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই কিনে না। তাই বিক্রি কমেছে।”

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সবেবরাত সরকার জানান, “বাজারে এক কেজির ইলিশ বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৩০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকায়। ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায়। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ দুই হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।”