ইরানে বিক্ষোভের মধ্যে দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৮:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / 65
ইরানে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ বেড়ে যাওয়ায় ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে অনলাইন নজরদারি সংস্থা নেটব্লকস। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের আগে ধাপে ধাপে ডিজিটাল সেন্সরশিপ জোরদার করা হচ্ছিল, যা জনগণের যোগাযোগের অধিকার মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।
দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবং স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভে অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৫ জন শিশু এবং ৮ জন নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন। এছাড়া ২,২৭০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এএফপির প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ২১ জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানবিরোধী স্লোগানও শোনা গেছে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক চাপ সাধারণ মানুষের আস্থা ভেঙে দিয়েছে, বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে দ্বৈত সুর দেখা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভ মোকাবিলায় সংযম দেখানোর আহ্বান দিয়েছেন। তবে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, দাঙ্গাকারীদের ‘উচিত শিক্ষা’ দিতে হবে। প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই অভিযোগ তুলেছেন, যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য রাস্তায় নেমেছেন তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শত্রুদের সঙ্গে কাজ করছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কর্তৃপক্ষকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে ২০২২ ও ২০২৩ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে ঘিরে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, নিরাপত্তা বাহিনী আহত বিক্ষোভকারীদের আটক করতে হাসপাতালে অভিযান চালাচ্ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ইলাম শহরের ইমাম খোমেনি হাসপাতালে পুলিশ দরজা ভেঙে ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে আহত ও চিকিৎসাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
মৃত্যু ও গ্রেপ্তারের এই তথ্য ইরানের চলমান অস্থিরতা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা ও যোগাযোগ সংকটের বিষয়কে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে।





































