ঢাকা ০৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ইস্যুতে

ইউনূস সরকারকে জামায়াতের মামলার হুমকি

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:১৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
  • / 323

ইউনূস-জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হুমকি দিয়েই জানিয়েছে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না দিলে কমিশনসহ ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করা হবে। আজ (৩১ জুলাই) জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সঙ্গে চলমান সংলাপের ২৩তম দিনের মধ্যাহ্নভোজ বিরতির সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বিএনপি বলছে, এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। কিন্তু আমরা মনে করি, কেবল প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করলে হবে না। আইনি ভিত্তি না থাকলে এই চার্টার মূল্যহীন হয়ে পড়বে। সেজন্য আমরা কমিশন এবং সরকারের বিরুদ্ধে কমপেনসেট মামলা করব।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার বলেছি, আমরা পিয়ার চাই এবং অধিকাংশ দলও পিয়ারের পক্ষে। কমিশন বিরতির পর সিদ্ধান্ত দেবে বলেছে। আমরা আশা করি, তা ইতিবাচক হবে।’

সংলাপে সময় ব্যয় ও কঠোর পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করে তাহের বলেন, ‘আমরা এত কষ্ট করলাম, আপনারা কাভার করলেন, কিন্তু বাস্তবায়ন না হলে এসবের কোনো মূল্য থাকবে না। বাস্তবায়ন না হলে শপথ করারও কোনো মূল্য থাকে না। তাই বাস্তবায়নটাই মুখ্য।’

তিনি বলেন, ‘আইনি ভিত্তি ছাড়া এই চার্টার শূন্য হবে। আমরা পরিষ্কার বলেছি, আইনগত ভিত্তি ছাড়া সই করব না। এই সরকারের মেয়াদেই এটি কার্যকর করতে হবে। কাল থেকেই এটা সম্ভব।’

সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের
সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের

নায়েবে আমির আরও বলেন, ‘গত ২৩ দিনে আমরা যে সংখ্যক “নোট অব ডিসেন্ট” দেখেছি, তা আগের ২২ দিনে দেখিনি। তবুও এটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। একজন “না” বলতেই পারেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ পক্ষে থাকলে সেটা গ্রহণযোগ্যতা পায়।’

তিনি বলেন, ‘আইনি ভিত্তি দেওয়া এখনই সম্ভব। বিকল্প আছে, উদাহরণ আছে। যারা বলছেন এটা এখন দেওয়া যাবে না, তারা জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন।’

তাহের বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করছি, আমরা আইনগত ভিত্তি চাই। আইনি ভিত্তি না থাকলে এই চার্টারে স্বাক্ষর করার অর্থ নেই। এমন সনদে সই করার আর না করার মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা শুধু আমাদের মত নয়, উচ্চকক্ষ হলো একটা “ব্যালেন্স অব অথরিটি”। মূল আইন প্রণয়ন হবে নিম্নকক্ষে, আর উচ্চকক্ষ হবে গাইডিং ও কন্ট্রোলিং বডি।’

জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের বৈঠক
জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের বৈঠক

তাহের বলেন, ‘আইনি ভিত্তি না দিয়ে যদি সরকার বাস্তবায়নের পথে না এগোয়, তাহলে আমরা এই সংস্কার প্রক্রিয়াকে অসমাপ্ত মনে করব। সই করলেই যদি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে এটা এক ধরনের প্রহসন। সুতরাং আমরা সরকার ও কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন নিজেদের ওয়াদা বাস্তবায়নের জন্য এখনই উদ্যোগ গ্রহণ করে।’

তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘আমরা জাতির সঙ্গে আর কোনো তামাশা হতে দেব না।’

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ইস্যুতে

ইউনূস সরকারকে জামায়াতের মামলার হুমকি

সর্বশেষ আপডেট ০৯:১৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হুমকি দিয়েই জানিয়েছে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না দিলে কমিশনসহ ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করা হবে। আজ (৩১ জুলাই) জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সঙ্গে চলমান সংলাপের ২৩তম দিনের মধ্যাহ্নভোজ বিরতির সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বিএনপি বলছে, এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। কিন্তু আমরা মনে করি, কেবল প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করলে হবে না। আইনি ভিত্তি না থাকলে এই চার্টার মূল্যহীন হয়ে পড়বে। সেজন্য আমরা কমিশন এবং সরকারের বিরুদ্ধে কমপেনসেট মামলা করব।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার বলেছি, আমরা পিয়ার চাই এবং অধিকাংশ দলও পিয়ারের পক্ষে। কমিশন বিরতির পর সিদ্ধান্ত দেবে বলেছে। আমরা আশা করি, তা ইতিবাচক হবে।’

সংলাপে সময় ব্যয় ও কঠোর পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করে তাহের বলেন, ‘আমরা এত কষ্ট করলাম, আপনারা কাভার করলেন, কিন্তু বাস্তবায়ন না হলে এসবের কোনো মূল্য থাকবে না। বাস্তবায়ন না হলে শপথ করারও কোনো মূল্য থাকে না। তাই বাস্তবায়নটাই মুখ্য।’

তিনি বলেন, ‘আইনি ভিত্তি ছাড়া এই চার্টার শূন্য হবে। আমরা পরিষ্কার বলেছি, আইনগত ভিত্তি ছাড়া সই করব না। এই সরকারের মেয়াদেই এটি কার্যকর করতে হবে। কাল থেকেই এটা সম্ভব।’

সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের
সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের

নায়েবে আমির আরও বলেন, ‘গত ২৩ দিনে আমরা যে সংখ্যক “নোট অব ডিসেন্ট” দেখেছি, তা আগের ২২ দিনে দেখিনি। তবুও এটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। একজন “না” বলতেই পারেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ পক্ষে থাকলে সেটা গ্রহণযোগ্যতা পায়।’

তিনি বলেন, ‘আইনি ভিত্তি দেওয়া এখনই সম্ভব। বিকল্প আছে, উদাহরণ আছে। যারা বলছেন এটা এখন দেওয়া যাবে না, তারা জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন।’

তাহের বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করছি, আমরা আইনগত ভিত্তি চাই। আইনি ভিত্তি না থাকলে এই চার্টারে স্বাক্ষর করার অর্থ নেই। এমন সনদে সই করার আর না করার মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা শুধু আমাদের মত নয়, উচ্চকক্ষ হলো একটা “ব্যালেন্স অব অথরিটি”। মূল আইন প্রণয়ন হবে নিম্নকক্ষে, আর উচ্চকক্ষ হবে গাইডিং ও কন্ট্রোলিং বডি।’

জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের বৈঠক
জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের বৈঠক

তাহের বলেন, ‘আইনি ভিত্তি না দিয়ে যদি সরকার বাস্তবায়নের পথে না এগোয়, তাহলে আমরা এই সংস্কার প্রক্রিয়াকে অসমাপ্ত মনে করব। সই করলেই যদি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে এটা এক ধরনের প্রহসন। সুতরাং আমরা সরকার ও কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন নিজেদের ওয়াদা বাস্তবায়নের জন্য এখনই উদ্যোগ গ্রহণ করে।’

তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘আমরা জাতির সঙ্গে আর কোনো তামাশা হতে দেব না।’