ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, আজ পবিত্র হজ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৬:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫
  • / 648

আজ বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের পরম আকাঙ্ক্ষিত দিন—পবিত্র হজ। আরাফাতের ময়দানে আজ সমবেত হয়েছেন লাখো হাজি, যাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে—“লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক”—প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে হাজির হওয়ার এই ঘোষণা।

সৌদি হিজরি পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ ৯ জিলহজ, হজের প্রধান পর্ব ‘ইয়াওমুল আরাফা’। এই দিন হাজিরা মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে পৌঁছে অবস্থান করছেন জাবালে রহমতের পাদদেশ ও মসজিদে নামিরার আশপাশে। এখানে তারা আদায় করবেন জোহর ও আসরের নামাজ, ত্যাগ করবেন দুনিয়াবি সকল মোহ এবং কান্নাজড়িত কণ্ঠে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন জীবনের সব গুনাহ মাফের জন্য।

নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “আল-হাজ্জু আরাফাহ”—আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের মূল অংশ।

এই ময়দানেই হজরত আদম (আ.) ও মা হাওয়া (আ.) দুনিয়ায় বিচ্ছিন্ন থাকার পর প্রথমবারের মতো পুনর্মিলিত হন। এই জায়গাতেই তাদের দোয়া কবুল হয় এবং আল্লাহ তাদের ক্ষমা করেন। এখানেই নবী মুহাম্মদ (সা.) প্রদান করেন বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ।

সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে রওনা হবেন মুযদালিফার উদ্দেশে। সেখানে তারা আদায় করবেন মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে, একটি আজান ও দুইটি একামতে। খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন শেষে ১০ জিলহজ সুবহে সাদিকের পর তারা মিনা ফিরে যাবেন।

মিনায় গিয়ে বড় জামারাতে সাতটি পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা, এরপর কোরবানি ও মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম ত্যাগ করবেন। পরবর্তী দুই দিন, ১১ ও ১২ জিলহজেও তিনটি জামারাতে সাতটি করে কঙ্কর নিক্ষেপের নিয়ম রয়েছে। কেউ চাইলে ১২ তারিখেই মিনা ত্যাগ করতে পারেন, অন্যথায় ১৩ জিলহজ পর্যন্ত অবস্থান করে জামারাতে পাথর নিক্ষেপ সম্পন্ন করবেন।

সবশেষে হাজিরা মক্কায় ফিরে বিদায়ী তাওয়াফ করবেন। এই তাওয়াফের মাধ্যমে শেষ হবে তাদের হজযাত্রা—এক জীবনের শ্রেষ্ঠ আরাধনা। একটাই আকাঙ্ক্ষা—আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তার অশেষ ক্ষমা।

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, আজ পবিত্র হজ

সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৬:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫

আজ বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের পরম আকাঙ্ক্ষিত দিন—পবিত্র হজ। আরাফাতের ময়দানে আজ সমবেত হয়েছেন লাখো হাজি, যাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে—“লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক”—প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে হাজির হওয়ার এই ঘোষণা।

সৌদি হিজরি পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ ৯ জিলহজ, হজের প্রধান পর্ব ‘ইয়াওমুল আরাফা’। এই দিন হাজিরা মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে পৌঁছে অবস্থান করছেন জাবালে রহমতের পাদদেশ ও মসজিদে নামিরার আশপাশে। এখানে তারা আদায় করবেন জোহর ও আসরের নামাজ, ত্যাগ করবেন দুনিয়াবি সকল মোহ এবং কান্নাজড়িত কণ্ঠে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন জীবনের সব গুনাহ মাফের জন্য।

নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “আল-হাজ্জু আরাফাহ”—আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের মূল অংশ।

এই ময়দানেই হজরত আদম (আ.) ও মা হাওয়া (আ.) দুনিয়ায় বিচ্ছিন্ন থাকার পর প্রথমবারের মতো পুনর্মিলিত হন। এই জায়গাতেই তাদের দোয়া কবুল হয় এবং আল্লাহ তাদের ক্ষমা করেন। এখানেই নবী মুহাম্মদ (সা.) প্রদান করেন বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ।

সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে রওনা হবেন মুযদালিফার উদ্দেশে। সেখানে তারা আদায় করবেন মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে, একটি আজান ও দুইটি একামতে। খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন শেষে ১০ জিলহজ সুবহে সাদিকের পর তারা মিনা ফিরে যাবেন।

মিনায় গিয়ে বড় জামারাতে সাতটি পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা, এরপর কোরবানি ও মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম ত্যাগ করবেন। পরবর্তী দুই দিন, ১১ ও ১২ জিলহজেও তিনটি জামারাতে সাতটি করে কঙ্কর নিক্ষেপের নিয়ম রয়েছে। কেউ চাইলে ১২ তারিখেই মিনা ত্যাগ করতে পারেন, অন্যথায় ১৩ জিলহজ পর্যন্ত অবস্থান করে জামারাতে পাথর নিক্ষেপ সম্পন্ন করবেন।

সবশেষে হাজিরা মক্কায় ফিরে বিদায়ী তাওয়াফ করবেন। এই তাওয়াফের মাধ্যমে শেষ হবে তাদের হজযাত্রা—এক জীবনের শ্রেষ্ঠ আরাধনা। একটাই আকাঙ্ক্ষা—আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তার অশেষ ক্ষমা।

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক