নাফ নদী থেকে
আরও ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
- / 91
মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) সদস্যরা কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীর মোহনা থেকে আবারও দুটি মাছ ধরার ট্রলারসহ ১৩ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। তবে জেলেদের মধ্যে মাঝি আব্দুল হাফেজ ও মো. আমিনের নাম জানা গেলেও বাকিদের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি। সাগর থেকে মাছ শিকার শেষে টেকনাফ ফেরার পথে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শাহপরীর দ্বীপের নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালীয়া ঘাট ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম জানান, “আজকেও দুটি ট্রলার ১৩ জন মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। এছাড়া ঘাটে মাছ ধরতে আরও কয়েকটি ট্রলারের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মূলত ভাটার কারণে জেলেরা মিয়ানমার সীমানা দিয়ে ফেরার পথে এ ধরনের সমস্যায় পড়ছে। অন্যদিকে চরের কারণে ট্রলার চলাচল সীমিত।”
ওই ট্রলারের মাঝি আব্দুল হাফেজ সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়েছে বলে জানান আবুল কালাম। তিনি বলেন, “সাগরে মাছ শিকার শেষে টেকনাফে ফেরার পথে শাহপরীর দ্বীপের পূর্ব-দক্ষিণে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনাসংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকেই উৎপাতে থাকা আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোটে জেলেদের ধাওয়া করে আটক করে। পরে তাদের মিয়ানমারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এরপর থেকে ট্রলারের মাঝিমাল্লাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।”
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। তবে প্রতিদিনই আরাকান আর্মির সদস্যরা বঙ্গোপসাগর থেকে ফেরার পথে বাংলাদেশি ট্রলারসহ জেলেদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। গত চার দিনে পাঁচটি ট্রলারসহ ৪৬ জন জেলেকে ধরে নেওয়া হয়েছে বলে ট্রলার মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে।”
ট্রলার মালিক ও বিজিবি জানায়, গত আট মাসে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নাফ নদীসহ সংলগ্ন এলাকা থেকে অন্তত ৩০০ জেলেকে অপহরণ করেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে চলতি বছরের মার্চ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত অপহৃত হয়েছেন ২২০ জন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সহায়তায় এদের মধ্যে প্রায় ২০০ জনকে ফেরত আনা হয়েছে। বাকি ১০০ জন জেলেদের মধ্যে গত এক সপ্তাহে ৫১ জনকে আবারও ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি।
































