আম্বানি পরিবারের ঘুম হারাম করে দিয়েছে একটি পাখি
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:১৮:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 94
বিরল একটি ‘স্পিক্স ম্যাকাও’ নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন ভারতের অন্যতম শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির পরিবার। বিষয়টি জড়িয়ে গেছে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, আইনি প্রশ্ন এবং ধনকুবেরদের ব্যক্তিগত শখের সঙ্গে।
স্পিক্স ম্যাকাও (Spix’s Macaw)- আকাশী-নীল রঙের দুর্লভ টিয়া- ২০১৯ সালে বন্য পরিবেশ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে জার্মানি ও ব্রাজিলের যৌথ উদ্যোগে প্রজনন কর্মসূচি চালু হয় এবং কিছু টিয়াকে আবার ব্রাজিলে ফিরিয়ে আনা হয়।
কিন্তু হঠাৎই দেখা যায়, এই পাখির ২৬টি ভারতীয় শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির পরিবারের পরিচালিত গুজরাটের ‘ভান্তারা’ প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চলে গেছে। ২০২৩ সালে জার্মানি থেকে টিয়াগুলো আমদানি করা হয়।

কাস্টমস নথিতে দেখা যায়, প্রতিটি পাখির জন্য পরিবহন ও বীমা খরচ ধরা হয়েছিল প্রায় ৯৬৯ মার্কিন ডলার। কিন্তু ব্রাজিল অভিযোগ তোলে- তাদের অনুমতি ছাড়াই এ স্থানান্তর ঘটেছে।
ব্রাজিলের সরকারি সংস্থা শিকো মেন্দেস ইনস্টিটিউট ফর বায়োডাইভার্সিটি কনজারভেশন বলেছে, ভারত এখনো স্পিক্স ম্যাকাও জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির সদস্য নয়। সুতরাং এই পাখি ভারতে পাঠানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই।
জার্মানি প্রথমে অনুমোদন দিলেও পরে ব্রাজিলের আপত্তির কারণে নতুন করে আর টিয়া পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়। অন্যদিকে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এ প্রক্রিয়ায় কোনো বাণিজ্য হয়নি, বরং এটি ছিল সংরক্ষণ প্রজনন কর্মসূচির অংশ।
গুজরাটে ৩,৫০০ একর জুড়ে বিস্তৃত ‘ভান্তারা’ চিড়িয়াখানা ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করে। এর মধ্যে ২,০০০ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। রেকর্ড অনুযায়ী, শুধু ২০২২ সাল থেকে কেন্দ্রটি বিদেশ থেকে এনেছে হাজারো বিরল প্রাণী- ২,৮৯৬ সাপ, ১,৪৩১ কচ্ছপ, ২১৯ বাঘ, ১৪৯ চিতা, ১০৫ জিরাফ, ৬২ শিম্পাঞ্জি, ২০ গণ্ডারসহ আরও অসংখ্য প্রজাতি। ঘোষিত মূল্যে এসব চালান ছিল প্রায় ৯ মিলিয়ন ডলার, যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে এটি কেবল পরিবহন ও বীমার খরচ।
গত আগস্টে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, ভান্তারার কার্যক্রম দেশীয় আইন ও বন্যপ্রাণী বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশন- এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কিনা তা তদন্ত করতে।
চলতি সপ্তাহে তদন্তকারীরা জানায়, কোনো অবৈধতা পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ভান্তারা পরিদর্শন করে বিভিন্ন প্রাণীকে খাওয়ানোর ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে একটি স্পিক্স ম্যাকাওও তাঁর হাতে বসে থাকতে দেখা যায়।
যদিও ভারত ভান্তারাকে একটি স্বীকৃত সংরক্ষণ কেন্দ্র বলে দাবি করছে, ব্রাজিল এখনো অসন্তুষ্ট। ইউরোপীয় ইউনিয়নও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ভারতের উদ্দেশ্যে বন্যপ্রাণী রপ্তানির ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হবে। ফলে বিষয়টি এখনো কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আটকে আছে।
একদিকে বিলুপ্তির মুখ থেকে টিয়াকে বাঁচানোর বৈশ্বিক উদ্যোগ, অন্যদিকে বিশ্বের ধনীতম পরিবারের ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিরল প্রাণীর বিশাল সংগ্রহ- এই দুই বাস্তবতা স্পিক্স ম্যাকাওকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে। ভারত, জার্মানি ও ব্রাজিলের মধ্যে সমাধান খুঁজতে আলোচনার চেষ্টা চলছে, তবে বিতর্কের শেষ কোথায় দাঁড়াবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
তথ্য সূত্র: রয়টার্স




































