আমি এখন মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে: উপদেষ্টা শারমীন মুরশিদ
- সর্বশেষ আপডেট ১২:০৯:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
- / 181
নারী ও শিশু নির্যাতন দেশের জন্য এক ভয়াবহ সংকটে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিষয়টি এখন মহামারির পর্যায়ে পৌঁছেছে।”
তিনি জানান, ২০ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত মাত্র ৯ দিনের ব্যবধানে ২৪ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন ষাট বছরের বৃদ্ধ একজন শিশুকে ধর্ষণ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শারমীন মুরশিদের ভাষায়, “আমরা তো ধর্মভীরু জাতি, ধর্মবিরোধী না—তাহলে এমন অমানবিক কাজ কীভাবে সম্ভব?”
এ সময় নারী নির্যাতনের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব, মাদক, মোবাইল ফোন ও পর্নোগ্রাফিকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। এ সকল বিষয়ে নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের বিষয়েও সরকারের ভাবনার কথা জানান।
উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমি একজন মানবাধিকার কর্মী হলেও, এখন এ ধরনের অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছি।”
মাদ্রাসাসমূহে শিশুদের যৌন নিপীড়নের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “মাদ্রাসাগুলো অনেকটা চোখের আড়ালে থাকে। সেসব স্থানে কী ঘটছে, তার নির্ভরযোগ্য তথ্য আসছে না। অথচ সেখানেও বহু শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, তাদের মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।”
শারমীন মুরশিদ জানান, মন্ত্রণালয়ের কাছে বর্তমানে ২ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৫টি নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ জমা রয়েছে। তবে জনবল ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সব অভিযোগের সমাধান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এরপরও তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, শতাধিক নারীকে কাউন্সেলিং ও আইনি সহায়তার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো হয়েছে।
তিনি জানান, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে, যারা যেকোনো নির্যাতনের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে। শুধু জেলা বা উপজেলা নয়, এ টিম ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়েও কাজ করবে।
কুমিল্লার মুরাদনগরে গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় গঠিত টিম ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। এ ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিও জানান তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে গোটা বছরজুড়ে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চালানো হবে। আমাদের দায়িত্ব নারী-শিশুর জন্য সহিংসতামুক্ত একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা।”
































