জামায়াতের জাতীয় সমাবেশ
আমন্ত্রণ নেই বিএনপি-এবি পার্টির
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
- / 184
ঐতিহাসিক সোহারাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে ইতিমধ্যেই যোগ দিয়েছেন সমমনা বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তাদের জন্য মঞ্চে আসনও বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে আমন্ত্রণ পেয়েও এ সমাবেশে কোনো প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন না এক সময়ে জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তবে অন্য আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি এই সমাবেশে আমন্ত্রণ পায়নি। এছাড়া পিআরের পক্ষে থাকার পরও দলত্যাগী জামায়াতের সাবেক নেতাদের দল এবি পার্টিকেও আমন্ত্রণ করেনি তারা।
জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গণমাধ্যমকে জানান, পিআরের পক্ষে থাকা দলগুলোকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে।
জানা যায়, জামায়াত সংখ্যানুপাতিক বা পিআর পদ্ধতিসহ আরো অন্তত ৭ টি বিষয়ে সরকারকে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা চালাচ্ছে বিশাল এই সমাবেশের মাধ্যমে।
কিন্তু, বিএনপি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনে জামায়াতের সাথে একমত নয়। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির কিছু কর্মকাণ্ডকে পুঁজি করে সারাদেশে দলটির বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চলাচ্ছে জামায়াত। এ নিয়ে দল দু’টির মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিএনপি মনে করে, এই সমাবেশে মাধ্যমে জামায়াত তাদের শক্তি প্রদর্শন করার চেষ্টা করছে। যে কারণে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো ধরণের প্রতিনিধি না পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত।
উল্লেখ্য, রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুপুর দুইটায় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে জামায়াতের সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ৭ দফা দাবিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নানা ইস্যুতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। সাম্প্রতিক সময়ে মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘিরে এই টানাপোড়েন আরো প্রকট আকার ধারণ করে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সাল থেকে পরের দুই যুগ একজোট ছিল বিএনপি ও জামায়াত। একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সমঝোতার ভিত্তিতে জোট ভাঙে দুই দল। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপির যুগপৎ আন্দোলন থেকেও সরে যায় জামায়াত। জুলাই অভ্যুত্থানে দল দুটি অংশ নিলেও ৫ আগস্টের পর বিএনপির প্রধান নির্বাচনী প্রতিযোগী হওয়ার চেষ্টা করছে জামায়াত। তবে দুই দলের নেতারা একে অপরের কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।
একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত- এ অবস্থানের কারণে জামায়াত থেকে ২০১৯ সালে বহিষ্কার করা হয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জুকে। পরের বছর তিনি এবি পার্টি গঠন করেন। জামায়াত, শিবিরের অনেকেই যোগ দিয়েছেন এ দলে।
এবি পার্টিও পিআর চায়। তারপরও সমাবেশে আমন্ত্রণ না করার কারণ সম্পর্কে জামায়াতের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, মজিবুর রহমান মঞ্জুর প্রতি নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ, কারণ তিনি নিয়মিত জামায়াতের সমালোচনা করেন। তিনি সমাবেশে বক্তৃতা করলে কর্মীরা প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন। এ ঝুঁকির কারণে আমন্ত্রণ করা হয়নি এবি পার্টিকে।
































