ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
লালপুরে আত্মহত্যা করলেন তামাকচাষী দম্পতি

আড়ায় ঝুলছিল স্বামীর লাশ, বিছানায় স্ত্রীর নিথর দেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৮:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
  • / 275

দম্পত্তির মৃত্যু

নাটোরের লালপুরে তামাক চাষের ঋণের চাপে এক দম্পতির মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ জুন) ভোরে উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে নিজ ঘর থেকে স্বামী রইজুল ইসলাম (৪০) ও স্ত্রী ফাতেমা খাতুনের (৩০) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, রইজুল ইসলাম এ বছর তামাক চাষে বড় অঙ্কের ঋণগ্রস্ত হন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানি ও বাজারে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় তার লোকসান হয়। এরপর থেকে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

রোববার রাতে প্রতিদিনের মতো ঘুমাতে যান তারা। ভোরে ঘরের তামাক শুকানোর আড়ার সঙ্গে রইজুলকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান প্রতিবেশীরা। স্ত্রী ফাতেমার কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি দিলে বিছানায় তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান বলেন, “কোম্পানির প্ররোচনায় তারা ঋণ নিয়ে তামাক চাষে জড়ান। প্রায় সাত লাখ টাকার ঋণ ছিল তাদের ঘাড়ে। ফসলহানির কারণে সেই ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে তারা এমন পথ বেছে নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোমিনুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলেও থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, তামাক চাষে কৃষকদের ঝুঁকি ও নির্ভরতার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

লালপুরে আত্মহত্যা করলেন তামাকচাষী দম্পতি

আড়ায় ঝুলছিল স্বামীর লাশ, বিছানায় স্ত্রীর নিথর দেহ

সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৮:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

নাটোরের লালপুরে তামাক চাষের ঋণের চাপে এক দম্পতির মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ জুন) ভোরে উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে নিজ ঘর থেকে স্বামী রইজুল ইসলাম (৪০) ও স্ত্রী ফাতেমা খাতুনের (৩০) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, রইজুল ইসলাম এ বছর তামাক চাষে বড় অঙ্কের ঋণগ্রস্ত হন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানি ও বাজারে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় তার লোকসান হয়। এরপর থেকে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

রোববার রাতে প্রতিদিনের মতো ঘুমাতে যান তারা। ভোরে ঘরের তামাক শুকানোর আড়ার সঙ্গে রইজুলকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান প্রতিবেশীরা। স্ত্রী ফাতেমার কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি দিলে বিছানায় তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান বলেন, “কোম্পানির প্ররোচনায় তারা ঋণ নিয়ে তামাক চাষে জড়ান। প্রায় সাত লাখ টাকার ঋণ ছিল তাদের ঘাড়ে। ফসলহানির কারণে সেই ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে তারা এমন পথ বেছে নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোমিনুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলেও থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, তামাক চাষে কৃষকদের ঝুঁকি ও নির্ভরতার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি।