ঢাকা ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজকে ঢাকার বায়ুমান উগান্ডার চেয়ে তিন ধাপ ভালো

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৫:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৫
  • / 100

এই চিত্র ঢাকার নিত্যদিনের

ঢাকার বায়ুমান আজকেও খুবই অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ারের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা থেকে ১২ টার মধ্যে ঢাকার স্কোর ২১৭, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর বায়ুমান রয়েছে উগান্ডার কামপালাতে। সেখানকার স্কোর ২৮৫। ২৭০ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিসরের রাজধানী কায়রো। এরপর রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাজধানী দিল্লি, স্কোর ২৪০। ২১৭ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের করাচি। সেখানের স্কোর এসেছে ১৯৩, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন সূচক যাচাই করে বায়ুমানের স্কোর করে থাকে আইকিউ এয়ার। তাদের মান অনুযায়ী, কোনও স্থানের বায়ুমান স্কোর ০ থেকে ৫০ থাকলে ‘ভালো’, ৫১ থেকে ১০০ থাকলে ‘মোটামুটি’, ১০১ থেকে ১৫০ ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর বায়ুমান স্কোর ৩০০ অতিক্রম করলে সেটা ‘মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে তালিকাভুক্ত করা হয়।

প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে ঢাকার বায়ু দূষণ তার চরম সীমায় পৌঁছায়। বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহর হিসেবে পরিচিত এই শহরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব ভয়াবহ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকার বায়ু দূষণের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ইটভাটার অস্বাস্থ্যকর কার্যক্রম, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণ কাজের ধূলা, এবং আবর্জনা পোড়ানো। জানুয়ারি মাসে শীতকালীন উচ্চচাপের কারণে বাতাসের চলাচল কমে যায়। ফলে বায়ুদূষণকারী উপাদানগুলো বাতাসে দীর্ঘ সময় স্থির থেকে দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

বায়ু দূষণের কারনে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, হৃদরোগ, এবং ফুসফুস ক্যান্সারের মতো রোগগুলো ঢাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। শিশু এবং বয়স্করা এই দূষণের প্রধান ভুক্তভোগী। জানুয়ারিতে, যখন দূষণ চরমে পৌঁছে, তখন রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

জানুয়ারি মাসে ঢাকার বায়ুর মান PM2.5-এর দিক থেকে বিপজ্জনক মাত্রায় থাকে। এটি এমন এক ধরনের সূক্ষ্ম কণা যা ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে এবং রক্তপ্রবাহেও চলে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে, এটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।”

ঢাকার বায়ুদূষণ শুধু স্বাস্থ্যের ওপরই প্রভাব ফেলে না, এটি অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কর্মক্ষমতার হ্রাস, চিকিৎসা খরচের বৃদ্ধি, এবং পরিবেশগত ক্ষতির কারণে দেশের অর্থনীতি প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

এর বিপরীতে সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ খুবই সীমিত। কয়েক জায়গার রাস্তায় পানি ছিটানো ছাড়া দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আজকে ঢাকার বায়ুমান উগান্ডার চেয়ে তিন ধাপ ভালো

সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৫:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৫

ঢাকার বায়ুমান আজকেও খুবই অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ারের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা থেকে ১২ টার মধ্যে ঢাকার স্কোর ২১৭, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর বায়ুমান রয়েছে উগান্ডার কামপালাতে। সেখানকার স্কোর ২৮৫। ২৭০ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিসরের রাজধানী কায়রো। এরপর রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাজধানী দিল্লি, স্কোর ২৪০। ২১৭ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের করাচি। সেখানের স্কোর এসেছে ১৯৩, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন সূচক যাচাই করে বায়ুমানের স্কোর করে থাকে আইকিউ এয়ার। তাদের মান অনুযায়ী, কোনও স্থানের বায়ুমান স্কোর ০ থেকে ৫০ থাকলে ‘ভালো’, ৫১ থেকে ১০০ থাকলে ‘মোটামুটি’, ১০১ থেকে ১৫০ ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর বায়ুমান স্কোর ৩০০ অতিক্রম করলে সেটা ‘মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে তালিকাভুক্ত করা হয়।

প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে ঢাকার বায়ু দূষণ তার চরম সীমায় পৌঁছায়। বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহর হিসেবে পরিচিত এই শহরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব ভয়াবহ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকার বায়ু দূষণের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ইটভাটার অস্বাস্থ্যকর কার্যক্রম, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণ কাজের ধূলা, এবং আবর্জনা পোড়ানো। জানুয়ারি মাসে শীতকালীন উচ্চচাপের কারণে বাতাসের চলাচল কমে যায়। ফলে বায়ুদূষণকারী উপাদানগুলো বাতাসে দীর্ঘ সময় স্থির থেকে দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

বায়ু দূষণের কারনে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, হৃদরোগ, এবং ফুসফুস ক্যান্সারের মতো রোগগুলো ঢাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। শিশু এবং বয়স্করা এই দূষণের প্রধান ভুক্তভোগী। জানুয়ারিতে, যখন দূষণ চরমে পৌঁছে, তখন রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

জানুয়ারি মাসে ঢাকার বায়ুর মান PM2.5-এর দিক থেকে বিপজ্জনক মাত্রায় থাকে। এটি এমন এক ধরনের সূক্ষ্ম কণা যা ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে এবং রক্তপ্রবাহেও চলে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে, এটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।”

ঢাকার বায়ুদূষণ শুধু স্বাস্থ্যের ওপরই প্রভাব ফেলে না, এটি অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কর্মক্ষমতার হ্রাস, চিকিৎসা খরচের বৃদ্ধি, এবং পরিবেশগত ক্ষতির কারণে দেশের অর্থনীতি প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

এর বিপরীতে সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ খুবই সীমিত। কয়েক জায়গার রাস্তায় পানি ছিটানো ছাড়া দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।