ঢাকা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আগামী সপ্তাহে দুই উপদেষ্টার পদত্যাগ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৯:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / 114

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমের পদত্যাগ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী সপ্তাহে উপদেষ্টা পরিষদের দুই সদস্য পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। তারা হলেন—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম।

নির্বাচনে অংশ নিতে তারা তফসিল ঘোষণার আগেই পদত্যাগ করবেন। এই পদত্যাগকে কেন্দ্র করে উপদেষ্টা পরিষদে নতুন মুখ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া সমন্বয়কদের মধ্যে উল্লিখিত দুইজন উপদেষ্টা পদত্যাগের পর নির্বাচনে অংশ নিতে মাঠে নামবেন। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, তারা বিএনপির ছেড়ে দেওয়া আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। তাদের পদত্যাগের বিষয়টি ইতোমধ্যে মৌখিকভাবে প্রধান উপদেষ্টাকে জানানো হয়েছে।

সূত্র মতে, ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এর আগে ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত হবে ভোটার তালিকা। এছাড়া, এখন পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি বলে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে, নির্বাচনি বিভিন্ন জোটের হিসাব-নিকাশও এগিয়ে চলছে। জোটবদ্ধ নির্বাচনের বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে বুধবার রাতে নাহিদ ইসলামের বাসায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ এই বৈঠকে জোটের জন্য কয়েকটি বিকল্প অপশন নিয়ে আলোচনা হয়। কয়েকটি দলের সঙ্গে জোট করার বিষয়েও কথা হয়। তবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)–কে জোটভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হলে মাঝপথেই আলোচনা থমকে যায়।

বৈঠকে উপস্থিত ৪০ নেতার মধ্যে মাত্র ৩ জন আপ বাংলাদেশের সঙ্গে জোটের পক্ষে মত দেন। বাকিদের কেউ বিএনপির সঙ্গে জোট করতে চান, কেউ আবার এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছেন। ফলে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। এছাড়া জামায়াতের সঙ্গে জোট করতে এনসিপি নেতারা একেবারেই অনাগ্রহী। ফলে শেষ মুহূর্তে জোট ইস্যুতে এনসিপি ভাঙনের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার একটি অনুষ্ঠান শেষে পদত্যাগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। পদত্যাগ করেই নির্বাচন করব। উপদেষ্টা হলে নির্বাচন করা যাবে না—এমন কোনো আইন নেই। তবে নীতিগত কারণে উপদেষ্টা পদে থেকে নির্বাচন করা ঠিক হবে না। এখনো ঠিক করিনি কোন দল থেকে নির্বাচন করব।”

তিনি আরও বলেন, ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি নির্বাচন করবেন, তবে কোথা থেকে করবেন তা ঘোষণা দেননি। শুধু দুজন ছাত্র উপদেষ্টা নন, আরও কয়েকজন উপদেষ্টা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আগে কুমিল্লার ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হয়েছেন। এরপর থেকেই গুঞ্জন রয়েছে, তিনি হয়তো এই আসন থেকেই নির্বাচন করবেন। বিএনপি এখনো এই আসনে কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি।

৯ নভেম্বর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ঢাকা থেকেই নিশ্চিতভাবে নির্বাচন করব। এখন পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা আছে।”
১৪ আগস্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, তফসিল ঘোষণার আগেই তিনি পদত্যাগ করবেন।

অন্যদিকে ২৮ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, “দুই মাস ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি—আমি কবে পদ ছাড়ব, তা এখনো জানি না।”
২৬ অক্টোবর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “নভেম্বরেই শেষ হয়ে যাবে উপদেষ্টা পরিষদের সভা। এরপর নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নেবে। কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্ভবত কেবিনেট মিটিং আর বসে না।”
এরপরই সরকার থেকে বিবৃতি আসে।

বিবৃতিতে বলা হয়, নভেম্বরে কেবিনেট ক্লোজ হয়ে যাবে—এ কথা সঠিক নয়। নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত উপদেষ্টা পরিষদ দায়িত্ব পালন করবে। অর্থাৎ নভেম্বরের পরও পরিষদের সভা চলবে এবং সংস্কার কাজও থেমে থাকবে না।

৪ আগস্ট ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম লিখেছিলেন, “এক-এগারোর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।” পরে তিনি পোস্টটি সরিয়ে নেন। সাম্প্রতিক আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, “মজলুম জালিম হচ্ছে, ফ্যাসিবাদবিরোধীরা ফ্যাসিবাদী হচ্ছে—পুরো পরিস্থিতি হতাশা ও ক্ষোভের।”

দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এমন পোস্ট দেওয়া সমালোচিত হচ্ছে। সূত্র বলছে, এসব বক্তব্যে সরকারের নীতিনির্ধারকদের কিছুটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে।

এদিকে, নেপথ্যে থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কিছু ব্যক্তির সমন্বয়ে চলতি বছরের ৯ মে যাত্রা শুরু করে নতুন রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)। দলটির নেপথ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক একাধিক নেতা। ৮২ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটিতে আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ এবং সদস্য সচিব আরেফিন মুহাম্মদ হিজবুল্লাহ।

সূত্র: যুগান্তর

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আগামী সপ্তাহে দুই উপদেষ্টার পদত্যাগ

সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৯:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী সপ্তাহে উপদেষ্টা পরিষদের দুই সদস্য পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। তারা হলেন—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম।

নির্বাচনে অংশ নিতে তারা তফসিল ঘোষণার আগেই পদত্যাগ করবেন। এই পদত্যাগকে কেন্দ্র করে উপদেষ্টা পরিষদে নতুন মুখ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া সমন্বয়কদের মধ্যে উল্লিখিত দুইজন উপদেষ্টা পদত্যাগের পর নির্বাচনে অংশ নিতে মাঠে নামবেন। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, তারা বিএনপির ছেড়ে দেওয়া আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। তাদের পদত্যাগের বিষয়টি ইতোমধ্যে মৌখিকভাবে প্রধান উপদেষ্টাকে জানানো হয়েছে।

সূত্র মতে, ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এর আগে ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত হবে ভোটার তালিকা। এছাড়া, এখন পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি বলে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে, নির্বাচনি বিভিন্ন জোটের হিসাব-নিকাশও এগিয়ে চলছে। জোটবদ্ধ নির্বাচনের বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে বুধবার রাতে নাহিদ ইসলামের বাসায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ এই বৈঠকে জোটের জন্য কয়েকটি বিকল্প অপশন নিয়ে আলোচনা হয়। কয়েকটি দলের সঙ্গে জোট করার বিষয়েও কথা হয়। তবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)–কে জোটভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হলে মাঝপথেই আলোচনা থমকে যায়।

বৈঠকে উপস্থিত ৪০ নেতার মধ্যে মাত্র ৩ জন আপ বাংলাদেশের সঙ্গে জোটের পক্ষে মত দেন। বাকিদের কেউ বিএনপির সঙ্গে জোট করতে চান, কেউ আবার এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছেন। ফলে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। এছাড়া জামায়াতের সঙ্গে জোট করতে এনসিপি নেতারা একেবারেই অনাগ্রহী। ফলে শেষ মুহূর্তে জোট ইস্যুতে এনসিপি ভাঙনের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার একটি অনুষ্ঠান শেষে পদত্যাগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। পদত্যাগ করেই নির্বাচন করব। উপদেষ্টা হলে নির্বাচন করা যাবে না—এমন কোনো আইন নেই। তবে নীতিগত কারণে উপদেষ্টা পদে থেকে নির্বাচন করা ঠিক হবে না। এখনো ঠিক করিনি কোন দল থেকে নির্বাচন করব।”

তিনি আরও বলেন, ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি নির্বাচন করবেন, তবে কোথা থেকে করবেন তা ঘোষণা দেননি। শুধু দুজন ছাত্র উপদেষ্টা নন, আরও কয়েকজন উপদেষ্টা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আগে কুমিল্লার ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হয়েছেন। এরপর থেকেই গুঞ্জন রয়েছে, তিনি হয়তো এই আসন থেকেই নির্বাচন করবেন। বিএনপি এখনো এই আসনে কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি।

৯ নভেম্বর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ঢাকা থেকেই নিশ্চিতভাবে নির্বাচন করব। এখন পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা আছে।”
১৪ আগস্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, তফসিল ঘোষণার আগেই তিনি পদত্যাগ করবেন।

অন্যদিকে ২৮ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, “দুই মাস ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি—আমি কবে পদ ছাড়ব, তা এখনো জানি না।”
২৬ অক্টোবর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “নভেম্বরেই শেষ হয়ে যাবে উপদেষ্টা পরিষদের সভা। এরপর নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নেবে। কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্ভবত কেবিনেট মিটিং আর বসে না।”
এরপরই সরকার থেকে বিবৃতি আসে।

বিবৃতিতে বলা হয়, নভেম্বরে কেবিনেট ক্লোজ হয়ে যাবে—এ কথা সঠিক নয়। নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত উপদেষ্টা পরিষদ দায়িত্ব পালন করবে। অর্থাৎ নভেম্বরের পরও পরিষদের সভা চলবে এবং সংস্কার কাজও থেমে থাকবে না।

৪ আগস্ট ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম লিখেছিলেন, “এক-এগারোর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।” পরে তিনি পোস্টটি সরিয়ে নেন। সাম্প্রতিক আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, “মজলুম জালিম হচ্ছে, ফ্যাসিবাদবিরোধীরা ফ্যাসিবাদী হচ্ছে—পুরো পরিস্থিতি হতাশা ও ক্ষোভের।”

দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এমন পোস্ট দেওয়া সমালোচিত হচ্ছে। সূত্র বলছে, এসব বক্তব্যে সরকারের নীতিনির্ধারকদের কিছুটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে।

এদিকে, নেপথ্যে থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কিছু ব্যক্তির সমন্বয়ে চলতি বছরের ৯ মে যাত্রা শুরু করে নতুন রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)। দলটির নেপথ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক একাধিক নেতা। ৮২ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটিতে আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ এবং সদস্য সচিব আরেফিন মুহাম্মদ হিজবুল্লাহ।

সূত্র: যুগান্তর