আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না: ইউনূস
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
- / 77
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে দলটির কার্যক্রম স্থগিত থাকায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন মন্ত্রী ব্যারোনেস জেনি চ্যাপম্যানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ বিষয়টি তুলে ধরেন। শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ইউনূস বলেন, দলটির কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকা থেকেও বাদ দিয়েছে। আগের ১৬ বছরে ‘দুঃশাসনের’ সময়ে যে তিনটি বিকৃত নির্বাচনে অনেক তরুণ ভোটের সুযোগ পাননি, এবার প্রায় ১০ লাখ নতুন ভোটার প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পারবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক, এবং ভোটার উপস্থিতিও থাকবে ব্যাপক।
জুলাই সনদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যা গত বছরের জুলাই–আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া লাখো মানুষের প্রত্যাশা প্রতিফলিত করবে।
যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচন ছাড়াও বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, রোহিঙ্গা সংকট এবং বিমান ও সামুদ্রিক খাতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ব্রিটিশ মন্ত্রী চ্যাপম্যান প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর জোর দেন।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, বৈধ পথে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিবিরে বেড়ে ওঠা তরুণরা ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ—তাদের জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়া ঢাকা–লন্ডন বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। ইউনূস জানান, উপকূলীয় ও সামুদ্রিক গবেষণার জন্য বাংলাদেশ একটি ব্রিটিশ গবেষণা জাহাজ কিনছে। ব্রিটিশ মন্ত্রী জানান, এয়ারবাস ইন্টারন্যাশনালের প্রধান শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসবেন।
বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, এসডিজি কো-অর্ডিনেটর লামিয়া মোর্শেদ এবং ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক উপস্থিত ছিলেন।































