১৩ বিষয়ে দ্বিমতসহ ৬ সুপারিশ অনিশ্চিত
আইনি ভিত্তি ছাড়াই জুলাই সনদে সই নয়: বিএনপি
- সর্বশেষ আপডেট ১২:১১:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
- / 157
ঐকমত্য কমিশনের ২২তম দিনের সংলাপে ১৩টি সংস্কার প্রস্তাবে ‘দ্বিমতসহ ঐকমত্য’ হলেও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও ঐকমত্য হয়নি। আজ (৩১ জুলাই) সংলাপের শেষ দিন হলেও এখনও চূড়ান্ত হয়নি জুলাই সনদ। বুধবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত আলোচনায় নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে সীমিত ঐকমত্য আসে, তবে জামায়াতে ইসলামিসহ ছয়টি ধর্মভিত্তিক দল সরাসরি নির্বাচনে নারীদের মনোনয়নে দ্বিমত জানিয়েছে।
কমিশনের ঘোষণায় বলা হয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি বহাল থাকবে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোকে ন্যূনতম ৫ থেকে ১০ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে। ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব অর্জনের পর সংরক্ষিত আসন বাতিল হবে।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তাব বুধবারের আলোচনায় এলেও তাতে সিদ্ধান্ত আসেনি। কমিশন বলেছে, যদি রাজনৈতিক ঐকমত্য আসে, তাহলে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে নিয়োগ কার্যকর হবে। এর আওতায় নিয়োগ পাবেন অ্যাটর্নি জেনারেল, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, বাংলাদেশ ব্যাংক, ইউজিসি, ইআরসি, বিটিআরসি, সামরিক বাহিনীর প্রধান এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা।
বিএনপি আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারককে প্রধান বিচারপতি করার প্রস্তাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিলেও একমত হয়েছে। এক ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না; এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, কিন্তু ক্ষমতা হ্রাসে বিএনপি দ্বিমত জানিয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের একমাত্র স্থান সংসদ। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, সংসদ গঠনের দুই বছরের মধ্যে এই সংস্কার বাস্তবায়ন করব।”
তিনি বলেন, “সংলাপে মোট ৮২৬টি সুপারিশের মধ্যে বিএনপি মাত্র ৫১টিতে দ্বিমত জানিয়েছে। এরপরও কেউ কেউ বলছে, বিএনপি সংস্কার মানে না। এটি ভিত্তিহীন।”

সালাউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, এনসিপিসহ কয়েকটি দল জানিয়েছে, সনদের আইনি ভিত্তি, নির্বাচনের আগে সংস্কার, সনদের অধীনে ভোট হতে হবে। নইলে সনদে সই করবে না। বিএনপিও চাই আইনি ভিত্তির মাধ্যমেই জুলাই সনদ আসুক, যা পরবর্তী সংসদে বাস্তবায়নের সুযোগ থাকবে।
অন্যদিকে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. তাহের বলেছেন, “আইনগত ভিত্তি না থাকলে সনদ জনগণের কাছে মূল্যহীন হয়ে পড়বে। আমরা তাতে সই করব না।” তিনি জানান, সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে সাংবিধানিক ঘোষণা, গণভোট অথবা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে। তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদাহরণ তুলে বলেন, “তিনি সংবিধান পরিবর্তন করেছিলেন আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে, পরে সংসদ অনুমোদন দিয়েছিল।”
ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদও একই দাবিতে অনড়। এনসিপির আখতার হোসেন বলেন, “এমন সনদ চাই না যা ‘বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো’ হবে। বাস্তবায়নে ফাঁক থাকলে এটি প্রতারণার সুযোগ তৈরি করবে।”
আলীকাদারি প্রেসিডিয়াম সদস্য আলী আশরাফ আকন ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরও বলেছেন, “আইনগত ভিত্তি না থাকলে সনদে সই নয়।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সাংবিধানিক নিয়োগ, ভোট পদ্ধতি ও নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে সাতটি মূল সুপারিশ নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। অন্যদিকে বিএনপি ছাড়া অধিকাংশ রাজনৈতিক দল সনদ চূড়ান্ত করতে আরও সময় চায়।
কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে সংলাপের অগ্রগতি ও মতবিরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “যদি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বিষয়ে ঐকমত্য আসে, তবে তা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে কার্যকর করতে হবে।”
































