ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নাহিদ ইসলাম

আ.লীগকে দল হিসেবে বিচারের আওতায় আনা উচিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 97

নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্ব নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন এবং এখনই তা করার উপযুক্ত সময়।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য ও জেরা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে অভিযোগ আনার যথেষ্ট প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের হাতে এসেছে। তার ভাষায়, শেখ হাসিনা দলীয় প্রধান হিসেবে রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখতে জনগণের বিরুদ্ধে হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। জনগণের প্রতিরোধের মুখে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। তাই আওয়ামী লীগের অপরাধ রাজনৈতিকভাবে সংঘটিত, এবং দলটিকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা উচিত।

বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এদিন নাহিদ ইসলামের জেরা শেষ হয়। তিনি মামলার ৪৭তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস. এইচ. তামিমসহ অন্য প্রসিকিউটররা। পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে দায়িত্ব পালন করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। আরেক আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের হয়ে ছিলেন আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ।

গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। মামলায় পরবর্তীতে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, যা আদালত মঞ্জুর করে। তিনি মামলার ৩৬তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এই মামলার বাইরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা চলছে। একটি মামলায় দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের অভিযোগ রয়েছে। আরেকটি মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।

জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, দলীয় ক্যাডার, প্রশাসনের অনুগত অংশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিলিতভাবে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে—এমন অভিযোগে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কাজ চলমান রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নাহিদ ইসলাম

আ.লীগকে দল হিসেবে বিচারের আওতায় আনা উচিত

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্ব নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন এবং এখনই তা করার উপযুক্ত সময়।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য ও জেরা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে অভিযোগ আনার যথেষ্ট প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের হাতে এসেছে। তার ভাষায়, শেখ হাসিনা দলীয় প্রধান হিসেবে রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখতে জনগণের বিরুদ্ধে হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। জনগণের প্রতিরোধের মুখে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। তাই আওয়ামী লীগের অপরাধ রাজনৈতিকভাবে সংঘটিত, এবং দলটিকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা উচিত।

বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এদিন নাহিদ ইসলামের জেরা শেষ হয়। তিনি মামলার ৪৭তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস. এইচ. তামিমসহ অন্য প্রসিকিউটররা। পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে দায়িত্ব পালন করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। আরেক আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের হয়ে ছিলেন আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ।

গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। মামলায় পরবর্তীতে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, যা আদালত মঞ্জুর করে। তিনি মামলার ৩৬তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এই মামলার বাইরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা চলছে। একটি মামলায় দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের অভিযোগ রয়েছে। আরেকটি মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।

জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, দলীয় ক্যাডার, প্রশাসনের অনুগত অংশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিলিতভাবে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে—এমন অভিযোগে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কাজ চলমান রয়েছে।