অনেকেই চান দুর্নীতি থাকুক: জ্বালানি উপদেষ্টা
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 80
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, দেশে উন্নয়নের চেয়ে দুর্নীতি কেন্দ্রিক প্রকল্প বেশি নেওয়া হয়। তিনি বলেন, “আমরা দুর্নীতিতে সন্তুষ্ট নই। কিন্তু অনেকেই চান দুর্নীতি থাকুক, যাতে সুবিধা নিতে পারেন। শুধু অতীত নয়, বর্তমানের দুর্নীতিও বন্ধ করতে হবে।”
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নিরাপত্তা, দুর্নীতি ও জ্বালানি’ শীর্ষক সংলাপে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফাওজুল কবির খান বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য আইন ও নীতি থাকলেও সেগুলোকেই অনেক সময় দুর্নীতির হাতিয়ার করা হয়েছে। তবে জ্বালানি খাতে এখন পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনি জানান, খাতে জমে থাকা ৩.২ বিলিয়ন টাকার বকেয়া অনেকটাই পরিশোধ করা হয়েছে, প্রতিযোগিতা ফিরেছে, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও প্রকল্প বন্ধ করা হয়েছে। আগে তেল আমদানির জন্য রিফাইনারি মালিক হওয়ার নিয়ম ছিল, সেটিও বাতিল করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রোজার সময় সাধারণত লোডশেডিং হয়, কিন্তু এবার তা কমেছে। এটি প্রমাণ করে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এছাড়া এমন টেমপ্লেট তৈরি করা হচ্ছে, যা আগামী সরকারকে পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আগে পাসপোর্ট করতে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রয়োজন হতো, যেখানে দুর্নীতি হতো, এখন আর তা নেই।
নির্বাচন সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নিরাপত্তার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। কার্যকর গণতন্ত্র ছাড়া এটি সম্ভব নয়। তিনি মনে করেন, দুর্নীতির মূল চালিকা শক্তি টাকা এবং নির্বাচনী রাজনীতি পরিষ্কার না হলে দুর্নীতি কমবে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তার পাঁচটি দিক; রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি, রাজনীতি, কূটনীতি ও সমাজ সবই ঝুঁকির মধ্যে। তিনি খাদ্য নিরাপত্তা, মিডিয়ার ভুয়া খবর, সাইবার নিরাপত্তা এবং জ্বালানি খাতে দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, কনভেনশোনাল চিন্তার বাইরে এসে নতুন যুগোপযোগী ধারণায় কাজ করতে হবে।
অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, বহু কমিশন হলেও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনো কমিশন হয়নি। পানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সমস্যা, সীমান্তে মানুষ হত্যা; সবই বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি মাদক পাচার ও ক্ষুদ্র অস্ত্র প্রবাহ বন্ধ করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তথ্যযুদ্ধ মোকাবেলায় সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সিনিয়র গবেষক সাফকাত মুনির বলেন, জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রথাগত ও অপ্রথাগত উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে। তার মতে, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করা দরকার এবং একটি জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা উচিত। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতার পর্যাপ্ততা নিয়েও ভাবতে হবে, যাতে তারা টিকে থাকতে সক্ষম হন।
সংলাপে বক্তারা একমত হন যে, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানো ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়।
































