ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইলিশ নিয়ে জেলেদের কান্না!

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
  • / 63

সারিসারি বাঁধা এসব জেলে নৌকা হাতিয়ার মেঘনা পাড়ের। কেউ মাঝ সমুদ্র থেকে ফিরেছেন। কেউ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 

এপ্রিল থেকে আগস্ট- এ সময়টা সাগরে ইলিশের ভরা মৌসুম। সাধারণত এ সময়ে জেলেরা নদীর ঢেউয়ের সাথে লড়াই করে দিনরাত ব্যস্ত থাকে। তবে চলতি বছরে, দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ঘাটগুলোতে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র।

 

নিঝুমদ্বীপ, বন্দরটিলা, সুইজের ঘাট, মোক্তারিয়া, দানারদোল, সূর্যমূখী, কাজিরবাজার বাংলাবাজার ও চেয়ারম্যান ঘাটসহ ছোট-বড় ৪২ ঘাটে লক্ষাধীক জেলে নদীতে মাছ শিকার করতে যায়। কিন্তু এই ভরা মৌসুমেও জেলেদের জালে নেই কাঙ্ক্ষিত ইলিশ।

 

হাতিয়ায় ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করছে। জেলে পেশার সাথে জড়িত এই এলাকায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। যদিও সরকারিভাবে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২৫ হাজার ৯৯৫ জন।

 

মৌসুমের এই সময়টাতে ঘাটগুলোতে থাকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক, ব্যস্ততা। দিন রাত একাকার করে ফেলেন সবাই। কিন্তু এবার চিত্র একেবারেই ভিন্ন।

 

জেলেরা বলছেন, মাঝ নদীতে ৬-৭ দিন জাল ফেলেও কাঙ্খিত মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝ নদীতে একটি ট্রলার যাত্রা করতে প্রতিদিনই যে খরচ হচ্ছে, তার তুলনায় মাছ মিলছে সামান্য। ফলে বাড়ছে জেলেদের ঋণের পরিমান। মাছ ধরে অনেকে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

 

ভরা মৌসুমে ইলিশ না পাওয়ার পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, জাটকা নিধন ও মা ইলিশ ধরা। দ্বিতীয়ত, ডুবোচর এবং জলবায়ুর পরিবর্তন। তৃতীয়ত, উপকূলীয় এলাকায় কলকারখানার বর্জ্য নদীতে প্রবাহিত হওয়ায় মাছের বিচরণ অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। এবং বিদেশী ট্রলারের অবৈধ মাছ শিকার।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমের সামনের সময়গুলোতে আশা করা যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাওয়া যাবে। তবে তা কতটা সত্যি হবে, তা সময় বলে দেবে।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইলিশ নিয়ে জেলেদের কান্না!

সর্বশেষ আপডেট ১১:০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

সারিসারি বাঁধা এসব জেলে নৌকা হাতিয়ার মেঘনা পাড়ের। কেউ মাঝ সমুদ্র থেকে ফিরেছেন। কেউ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 

এপ্রিল থেকে আগস্ট- এ সময়টা সাগরে ইলিশের ভরা মৌসুম। সাধারণত এ সময়ে জেলেরা নদীর ঢেউয়ের সাথে লড়াই করে দিনরাত ব্যস্ত থাকে। তবে চলতি বছরে, দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ঘাটগুলোতে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র।

 

নিঝুমদ্বীপ, বন্দরটিলা, সুইজের ঘাট, মোক্তারিয়া, দানারদোল, সূর্যমূখী, কাজিরবাজার বাংলাবাজার ও চেয়ারম্যান ঘাটসহ ছোট-বড় ৪২ ঘাটে লক্ষাধীক জেলে নদীতে মাছ শিকার করতে যায়। কিন্তু এই ভরা মৌসুমেও জেলেদের জালে নেই কাঙ্ক্ষিত ইলিশ।

 

হাতিয়ায় ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করছে। জেলে পেশার সাথে জড়িত এই এলাকায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। যদিও সরকারিভাবে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২৫ হাজার ৯৯৫ জন।

 

মৌসুমের এই সময়টাতে ঘাটগুলোতে থাকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক, ব্যস্ততা। দিন রাত একাকার করে ফেলেন সবাই। কিন্তু এবার চিত্র একেবারেই ভিন্ন।

 

জেলেরা বলছেন, মাঝ নদীতে ৬-৭ দিন জাল ফেলেও কাঙ্খিত মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝ নদীতে একটি ট্রলার যাত্রা করতে প্রতিদিনই যে খরচ হচ্ছে, তার তুলনায় মাছ মিলছে সামান্য। ফলে বাড়ছে জেলেদের ঋণের পরিমান। মাছ ধরে অনেকে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

 

ভরা মৌসুমে ইলিশ না পাওয়ার পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, জাটকা নিধন ও মা ইলিশ ধরা। দ্বিতীয়ত, ডুবোচর এবং জলবায়ুর পরিবর্তন। তৃতীয়ত, উপকূলীয় এলাকায় কলকারখানার বর্জ্য নদীতে প্রবাহিত হওয়ায় মাছের বিচরণ অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। এবং বিদেশী ট্রলারের অবৈধ মাছ শিকার।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমের সামনের সময়গুলোতে আশা করা যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাওয়া যাবে। তবে তা কতটা সত্যি হবে, তা সময় বলে দেবে।