ঢাকা ১০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পারমাণবিক বোমা হামলার ৮০তম বার্ষিকী

পারমাণবিক যুদ্ধের সতর্কবাণী উচ্চারণ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / 69

দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের নাগাসাকিতে নাগাসাকির পিস পার্কে, শহরটিতে বোমা হামলার ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা। ছবি: রয়টার্স

পারমাণবিক বোমা হামলার ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার নাগাসাকিতে হাজারো মানুষ মাথা নত করে প্রার্থনা করলেন শহরটিতে।  অনুষ্ঠানে মেয়র সতর্ক করে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংঘাত বিশ্বকে আবারও পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় এই শহরটি ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, যখন যুক্তরাষ্ট্র “ফ্যাট ম্যান” নামে পরিচিত ১০,০০০ পাউন্ড ওজনের প্লুটোনিয়াম- ২৩৯ বোমা নিক্ষেপ করেছিল। বোমাটি সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ২ লাখ জনসংখ্যার শহরের প্রায় ২৭,০০০ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। ১৯৪৫ সালের শেষ নাগাদ তীব্র বিকিরণজনিত অসুস্থতায় মৃতের সংখ্যা প্রায় ৭০,০০০-এ পৌঁছায়।

নাগাসাকির ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছিল হিরোশিমায় যুক্তরাষ্ট্রের ইউরেনিয়াম-২৩৫ বোমা হামলার মাত্র তিন দিন পর। জাপান ১৫ আগস্ট আত্মসমর্পণ করে, যার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

শনিবার সকাল ১১টা ০২ মিনিটে, বিস্ফোরণের মুহূর্তে, এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর মেয়র শিরো সুজুকি জাতিসংঘ সনদের নীতিতে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিলুপ্তির জন্য সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন। তিনি সতর্ক করে দেন, আর দেরি করা “কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের নাগাসাকিতে নাগাসাকির পিস পার্কে, শহরটিতে বোমা হামলার ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা। ছবি: রয়টার্স
দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের নাগাসাকিতে নাগাসাকির পিস পার্কে, শহরটিতে বোমা হামলার ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা। ছবি: রয়টার্স

সুজুকি বলেন, “এটি মানব অস্তিত্বের একটি সংকট, যা আমাদের প্রত্যেকের উপর ধেয়ে আসছে।” তিনি এক জীবিত বোমা হামলা-স্মৃতিধারীর ভয়াবহ অভিজ্ঞতা উদ্ধৃত করে বলেন— “আমার চারপাশে এমন মানুষ ছিল যাদের চোখের বল বেরিয়ে এসেছিল… মৃতদেহগুলো পাথরের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই ‘বিশ্ব নাগরিক’ দৃষ্টিভঙ্গিই কি নয়, যা আমাদের বিভক্ত বিশ্বকে আবার একত্রে গেঁথে দেওয়ার চালিকাশক্তি হতে পারে?”

ধারণা করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র নাগাসাকিকে লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছিল কারণ এটি একটি প্রধান শিল্প ও বন্দর শহর ছিল। শহরের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি বিস্ফোরণের প্রভাব আরও ঘনীভূত করেছিল।

৯৫টি দেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধি—যার মধ্যে পারমাণবিক শক্তিধর যুক্তরাষ্ট্র ও পারমাণবিক অস্ত্রের অস্তিত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় রাখা ইসরায়েলও রয়েছে—এই স্মরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক মজুতধারী রাশিয়াও প্রতিনিধিত্ব পাঠায়।

ওসাকার ১৪ বছর বয়সী পর্যটক দাইজী কাওয়ানাকা মেয়রের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, “আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, এমন ট্র্যাজেডি আর কখনো ঘটতে দেওয়া যাবে না।” তিনি জানান, এই দিবস তরুণদের মধ্যেও শান্তি নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করে। “আমাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে শান্তির পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার জন্য।”

জাপানের প্রধান পারমাণবিক বোমা হামলা-জীবিতদের সংগঠন “নিহন হিদানকিও” গত বছর পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন বিশ্বের জন্য প্রচারণা চালানোর স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছে।

হিবাকুশা বা জীবিতরা এখনও বিকিরণজনিত শারীরিক সমস্যা ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার হন। চলতি বছর প্রথমবারের মতো তাদের সংখ্যা ১ লাখের নিচে নেমে এসেছে। তবুও তাদের স্মৃতিচারণ ও অভিজ্ঞতা পারমাণবিকমুক্ত বিশ্বের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জোগায়।

জাপান, যা বিশ্বের একমাত্র দেশ যে পারমাণবিক হামলার শিকার হয়েছে, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী বা পর্যবেক্ষক দেশ নয়।

খবর: রয়টার্স

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পারমাণবিক বোমা হামলার ৮০তম বার্ষিকী

পারমাণবিক যুদ্ধের সতর্কবাণী উচ্চারণ

সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫

পারমাণবিক বোমা হামলার ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার নাগাসাকিতে হাজারো মানুষ মাথা নত করে প্রার্থনা করলেন শহরটিতে।  অনুষ্ঠানে মেয়র সতর্ক করে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংঘাত বিশ্বকে আবারও পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় এই শহরটি ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, যখন যুক্তরাষ্ট্র “ফ্যাট ম্যান” নামে পরিচিত ১০,০০০ পাউন্ড ওজনের প্লুটোনিয়াম- ২৩৯ বোমা নিক্ষেপ করেছিল। বোমাটি সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ২ লাখ জনসংখ্যার শহরের প্রায় ২৭,০০০ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। ১৯৪৫ সালের শেষ নাগাদ তীব্র বিকিরণজনিত অসুস্থতায় মৃতের সংখ্যা প্রায় ৭০,০০০-এ পৌঁছায়।

নাগাসাকির ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছিল হিরোশিমায় যুক্তরাষ্ট্রের ইউরেনিয়াম-২৩৫ বোমা হামলার মাত্র তিন দিন পর। জাপান ১৫ আগস্ট আত্মসমর্পণ করে, যার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

শনিবার সকাল ১১টা ০২ মিনিটে, বিস্ফোরণের মুহূর্তে, এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর মেয়র শিরো সুজুকি জাতিসংঘ সনদের নীতিতে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিলুপ্তির জন্য সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন। তিনি সতর্ক করে দেন, আর দেরি করা “কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের নাগাসাকিতে নাগাসাকির পিস পার্কে, শহরটিতে বোমা হামলার ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা। ছবি: রয়টার্স
দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের নাগাসাকিতে নাগাসাকির পিস পার্কে, শহরটিতে বোমা হামলার ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা। ছবি: রয়টার্স

সুজুকি বলেন, “এটি মানব অস্তিত্বের একটি সংকট, যা আমাদের প্রত্যেকের উপর ধেয়ে আসছে।” তিনি এক জীবিত বোমা হামলা-স্মৃতিধারীর ভয়াবহ অভিজ্ঞতা উদ্ধৃত করে বলেন— “আমার চারপাশে এমন মানুষ ছিল যাদের চোখের বল বেরিয়ে এসেছিল… মৃতদেহগুলো পাথরের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই ‘বিশ্ব নাগরিক’ দৃষ্টিভঙ্গিই কি নয়, যা আমাদের বিভক্ত বিশ্বকে আবার একত্রে গেঁথে দেওয়ার চালিকাশক্তি হতে পারে?”

ধারণা করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র নাগাসাকিকে লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছিল কারণ এটি একটি প্রধান শিল্প ও বন্দর শহর ছিল। শহরের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি বিস্ফোরণের প্রভাব আরও ঘনীভূত করেছিল।

৯৫টি দেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধি—যার মধ্যে পারমাণবিক শক্তিধর যুক্তরাষ্ট্র ও পারমাণবিক অস্ত্রের অস্তিত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় রাখা ইসরায়েলও রয়েছে—এই স্মরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক মজুতধারী রাশিয়াও প্রতিনিধিত্ব পাঠায়।

ওসাকার ১৪ বছর বয়সী পর্যটক দাইজী কাওয়ানাকা মেয়রের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, “আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, এমন ট্র্যাজেডি আর কখনো ঘটতে দেওয়া যাবে না।” তিনি জানান, এই দিবস তরুণদের মধ্যেও শান্তি নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করে। “আমাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে শান্তির পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার জন্য।”

জাপানের প্রধান পারমাণবিক বোমা হামলা-জীবিতদের সংগঠন “নিহন হিদানকিও” গত বছর পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন বিশ্বের জন্য প্রচারণা চালানোর স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছে।

হিবাকুশা বা জীবিতরা এখনও বিকিরণজনিত শারীরিক সমস্যা ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার হন। চলতি বছর প্রথমবারের মতো তাদের সংখ্যা ১ লাখের নিচে নেমে এসেছে। তবুও তাদের স্মৃতিচারণ ও অভিজ্ঞতা পারমাণবিকমুক্ত বিশ্বের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জোগায়।

জাপান, যা বিশ্বের একমাত্র দেশ যে পারমাণবিক হামলার শিকার হয়েছে, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী বা পর্যবেক্ষক দেশ নয়।

খবর: রয়টার্স