ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সেন্টমার্টিনের জন্য মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত হচ্ছে

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫
  • / 199

সেন্টমার্টিনের জন্য মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত হচ্ছে

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা দীপংকর বর জানিয়েছেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপের জন্য মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বিকল্প আয় নিশ্চিতকরণেও কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পর্যটন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দ্বীপের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

গত এক বছরে মন্ত্রণালয় পরিবেশ সুরক্ষা, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে। শপিংমলসহ বিভিন্ন স্থানে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ সরবরাহের জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন, অবৈধ ইটভাটা ভাঙা, সীসা কারখানা বন্ধ এবং শব্দ দূষণ কমানোর জন্য সচেতনতা বাড়ানো হয়েছে।

গাজীপুরের গাছা খালের দূষণকারী কারখানাগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের নতুন কর্মসূচি অনুমোদিত ও অফিস ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাহাড় সংরক্ষণের জন্য ১৬ জেলার তথ্য অনলাইন ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ৩৫১ কোটি টাকার ৪১টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।

বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণেও বিশেষ অগ্রগতি হয়েছে। কক্সবাজার ও সোনাদিয়ায় ১০ হাজার ৩২২ একর বনভূমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। পূর্বাচলকে বিশেষ জীববৈচিত্র্য এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। বেদখল হওয়া ৫ হাজার ৯৩ একর বনভূমি পুনরুদ্ধার করে বনায়নের কাজ করা হয়েছে। ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছের চারা উৎপাদন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মধুপুর শালবন পুনরুদ্ধারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাতির চলাচলের পথ তৈরির জন্য চুনতি ও শেরপুরের বন পুনরুদ্ধার চলছে।

মানব-হাতি সংঘাত কমাতে ১৫৯টি ‘এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে। বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ময়ূর ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিপন্ন প্রজাতি সুরক্ষিত, জলাভূমি অভয়ারণ্যে রূপান্তর এবং ২৯৩টি বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন অভিযানে ৫ হাজার ৬৮৪টি প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। জাতীয় উদ্যান ও ইকোপার্কে প্লাস্টিক ও পিকনিক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী আইন আধুনিকীকরণ ও নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।

মন্ত্রণালয়ের এসব উদ্যোগ দেশের পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের পথে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা জলবায়ু প্রতিরোধী বাংলাদেশ গড়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সেন্টমার্টিনের জন্য মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত হচ্ছে

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা দীপংকর বর জানিয়েছেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপের জন্য মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বিকল্প আয় নিশ্চিতকরণেও কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পর্যটন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দ্বীপের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

গত এক বছরে মন্ত্রণালয় পরিবেশ সুরক্ষা, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে। শপিংমলসহ বিভিন্ন স্থানে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ সরবরাহের জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন, অবৈধ ইটভাটা ভাঙা, সীসা কারখানা বন্ধ এবং শব্দ দূষণ কমানোর জন্য সচেতনতা বাড়ানো হয়েছে।

গাজীপুরের গাছা খালের দূষণকারী কারখানাগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের নতুন কর্মসূচি অনুমোদিত ও অফিস ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাহাড় সংরক্ষণের জন্য ১৬ জেলার তথ্য অনলাইন ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ৩৫১ কোটি টাকার ৪১টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।

বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণেও বিশেষ অগ্রগতি হয়েছে। কক্সবাজার ও সোনাদিয়ায় ১০ হাজার ৩২২ একর বনভূমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। পূর্বাচলকে বিশেষ জীববৈচিত্র্য এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। বেদখল হওয়া ৫ হাজার ৯৩ একর বনভূমি পুনরুদ্ধার করে বনায়নের কাজ করা হয়েছে। ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছের চারা উৎপাদন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মধুপুর শালবন পুনরুদ্ধারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাতির চলাচলের পথ তৈরির জন্য চুনতি ও শেরপুরের বন পুনরুদ্ধার চলছে।

মানব-হাতি সংঘাত কমাতে ১৫৯টি ‘এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে। বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ময়ূর ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিপন্ন প্রজাতি সুরক্ষিত, জলাভূমি অভয়ারণ্যে রূপান্তর এবং ২৯৩টি বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন অভিযানে ৫ হাজার ৬৮৪টি প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। জাতীয় উদ্যান ও ইকোপার্কে প্লাস্টিক ও পিকনিক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী আইন আধুনিকীকরণ ও নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।

মন্ত্রণালয়ের এসব উদ্যোগ দেশের পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের পথে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা জলবায়ু প্রতিরোধী বাংলাদেশ গড়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।