ঢাকা ০৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুলাই ঘোষণাপত্র: মিথ্যার ভিত্তিতে জাতি বঞ্চিত

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৯:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫
  • / 100

জুলাই ঘোষণাপত্র

জুলাই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে মিথ্যার ভিত্তিতে জাতিকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কলামিস্ট, লেখক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বুদ্ধিজীবী, সামাজিক ও মানবাধিকার কর্মী এবং পরিবেশবাদী ফরহাদ মাজহার।

৮ আগস্ট নিজের ভেরিভাইড ফেসবুকে তিনি লিখেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র ২০২৫’-এর শুরুতেই দাবি করা হয়েছে; “১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করে জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল” ইত্যাদি।

কিন্তু ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণার সরাসরি কোনো প্রমাণ নেই। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাদের ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর পর শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সেনাদের হাতে ধরা দেন। চট্টগ্রামে শেখ মুজিবের পক্ষে মেজর জিয়াউর রহমান ও আওয়ামী লীগ নেতারা স্বাধীনতার ঘোষণা-সংক্রান্ত বার্তা প্রচার করেছিলেন বটে, কিন্তু ২৬ মার্চের ঘোষণাটি নিয়ে মতভেদ আছে। রাজনৈতিক ও আইনি দিক থেকে একে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা বলা যায় না।

তবে অনস্বীকার্য যে, সেটা ছিল পাকিস্তানি সেনাদের গণহত্যার প্রতিক্রিয়ায় প্রতিরোধের আহ্বান, যা পরবর্তীতে ১০ এপ্রিলের ‘মুজিবনগর সরকার’-এর ঘোষণার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক রূপ পায়। অতএব, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিল; এই দাবি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক উভয় অর্থেই ভুল। রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অর্থে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিল পরে; প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার বা মুজিবনগর সরকারের ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে।

ফরহাদ মাজহার
ফরহাদ মাজহার

দ্বিতীয়ত, ঘোষণাপত্রে বাহাত্তরে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে; সেটিও ভুল, মিথ্যা। স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের দ্বারা গণপরিষদ নির্বাচন হয়নি। যারা পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়ণের জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লিগাল ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই সকল পাকিস্তানিদেরই বাংলাদেশের গণপরিষদ সদস্য ঘোষণা দেওয়া হয়। তাদের দ্বারাই দিল্লীতে প্রণীত ১৯৭২ সালের সংবিধান আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়।

সেই সংবিধানই শেখ হাসিনার হাতে আরও ফ্যাসিস্ট রূপ নিয়েছে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরেও তা বহাল রাখা হয়েছে। ড. ইউনূস এই সংবিধান রক্ষার জন্যই শপথ নিয়ে উপদেষ্টা সরকারের প্রধান হয়েছেন।

বাংলাদেশের জনগণকে নিজেদের রাষ্ট্র নিজেরা গঠনের অধিকার থেকে বারবার বঞ্চিত করা হয়েছে। ‘জুলাই ঘোষণাপত্র ২০২৫’-এর মাধ্যমে আবারও সেই বঞ্চনা ঘটেছে।

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জুলাই ঘোষণাপত্র: মিথ্যার ভিত্তিতে জাতি বঞ্চিত

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৯:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫

জুলাই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে মিথ্যার ভিত্তিতে জাতিকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কলামিস্ট, লেখক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বুদ্ধিজীবী, সামাজিক ও মানবাধিকার কর্মী এবং পরিবেশবাদী ফরহাদ মাজহার।

৮ আগস্ট নিজের ভেরিভাইড ফেসবুকে তিনি লিখেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র ২০২৫’-এর শুরুতেই দাবি করা হয়েছে; “১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করে জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল” ইত্যাদি।

কিন্তু ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণার সরাসরি কোনো প্রমাণ নেই। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাদের ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর পর শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সেনাদের হাতে ধরা দেন। চট্টগ্রামে শেখ মুজিবের পক্ষে মেজর জিয়াউর রহমান ও আওয়ামী লীগ নেতারা স্বাধীনতার ঘোষণা-সংক্রান্ত বার্তা প্রচার করেছিলেন বটে, কিন্তু ২৬ মার্চের ঘোষণাটি নিয়ে মতভেদ আছে। রাজনৈতিক ও আইনি দিক থেকে একে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা বলা যায় না।

তবে অনস্বীকার্য যে, সেটা ছিল পাকিস্তানি সেনাদের গণহত্যার প্রতিক্রিয়ায় প্রতিরোধের আহ্বান, যা পরবর্তীতে ১০ এপ্রিলের ‘মুজিবনগর সরকার’-এর ঘোষণার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক রূপ পায়। অতএব, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিল; এই দাবি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক উভয় অর্থেই ভুল। রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অর্থে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিল পরে; প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার বা মুজিবনগর সরকারের ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে।

ফরহাদ মাজহার
ফরহাদ মাজহার

দ্বিতীয়ত, ঘোষণাপত্রে বাহাত্তরে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে; সেটিও ভুল, মিথ্যা। স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের দ্বারা গণপরিষদ নির্বাচন হয়নি। যারা পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়ণের জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লিগাল ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই সকল পাকিস্তানিদেরই বাংলাদেশের গণপরিষদ সদস্য ঘোষণা দেওয়া হয়। তাদের দ্বারাই দিল্লীতে প্রণীত ১৯৭২ সালের সংবিধান আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়।

সেই সংবিধানই শেখ হাসিনার হাতে আরও ফ্যাসিস্ট রূপ নিয়েছে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরেও তা বহাল রাখা হয়েছে। ড. ইউনূস এই সংবিধান রক্ষার জন্যই শপথ নিয়ে উপদেষ্টা সরকারের প্রধান হয়েছেন।

বাংলাদেশের জনগণকে নিজেদের রাষ্ট্র নিজেরা গঠনের অধিকার থেকে বারবার বঞ্চিত করা হয়েছে। ‘জুলাই ঘোষণাপত্র ২০২৫’-এর মাধ্যমে আবারও সেই বঞ্চনা ঘটেছে।