ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
গেরিলা প্রশিক্ষণ মামলায়

মেজর সাদিকের স্ত্রী সুমাইয়া ৫ দিনের রিমান্ডে

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:১১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫
  • / 164

মেজর সাদিকের স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিন

রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় মেজর সাদিকের স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুমাইয়ার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ তা সমর্থন করে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ জামিন চেয়ে রিমান্ড বাতিলের আবেদন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বুধবার (৬ আগস্ট) রাতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল সুমাইয়া জাফরিনকে হেফাজতে নেয় এবং পরে মিন্টো রোডে ডিবির কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে ভাটারা থানায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, রাজধানীর কেবি কনভেনশন সেন্টারে ৮ জুলাই অনুষ্ঠিত একটি গোপন বৈঠকে সুমাইয়া জাফরিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন সেন্টারটি ভাড়া নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের প্রায় ৪০০ জন নেতাকর্মীকে গোপনে গেরিলা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই প্রশিক্ষণ ছিল দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির পরিকল্পনার অংশ।

ঘটনার খবর জুলাইয়ের শেষদিকে প্রকাশ্যে আসলে তা দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় গোপালগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেত্রী শামীমা নাসরিন শম্পা, বরগুনার যুবলীগ নেতা সোহেল রানা ও মেহেরপুরের যুবলীগ আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে, এই প্রশিক্ষণ ও বৈঠকের মূল সংগঠক ছিলেন সেনাবাহিনীর মেজর সাদেকুল হক। তার স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনও এতে যুক্ত ছিলেন বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। প্রথমে সুমাইয়াকে পুলিশের একজন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে দাবি করা হলেও পরে পুলিশ সদর দপ্তর নিশ্চিত করে, পুলিশে এ নামে কোনো কর্মকর্তা নেই।

ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় মেজর সাদিককে সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় একটি নিরপেক্ষ তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। ঘটনাটি দেশের রাজনীতিতে আলোড়ন তোলে এবং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়েও নড়াচড়া সৃষ্টি করে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গেরিলা প্রশিক্ষণ মামলায়

মেজর সাদিকের স্ত্রী সুমাইয়া ৫ দিনের রিমান্ডে

সর্বশেষ আপডেট ০৩:১১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫

রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় মেজর সাদিকের স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুমাইয়ার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ তা সমর্থন করে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ জামিন চেয়ে রিমান্ড বাতিলের আবেদন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বুধবার (৬ আগস্ট) রাতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল সুমাইয়া জাফরিনকে হেফাজতে নেয় এবং পরে মিন্টো রোডে ডিবির কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে ভাটারা থানায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, রাজধানীর কেবি কনভেনশন সেন্টারে ৮ জুলাই অনুষ্ঠিত একটি গোপন বৈঠকে সুমাইয়া জাফরিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন সেন্টারটি ভাড়া নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের প্রায় ৪০০ জন নেতাকর্মীকে গোপনে গেরিলা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই প্রশিক্ষণ ছিল দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির পরিকল্পনার অংশ।

ঘটনার খবর জুলাইয়ের শেষদিকে প্রকাশ্যে আসলে তা দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় গোপালগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেত্রী শামীমা নাসরিন শম্পা, বরগুনার যুবলীগ নেতা সোহেল রানা ও মেহেরপুরের যুবলীগ আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে, এই প্রশিক্ষণ ও বৈঠকের মূল সংগঠক ছিলেন সেনাবাহিনীর মেজর সাদেকুল হক। তার স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনও এতে যুক্ত ছিলেন বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। প্রথমে সুমাইয়াকে পুলিশের একজন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে দাবি করা হলেও পরে পুলিশ সদর দপ্তর নিশ্চিত করে, পুলিশে এ নামে কোনো কর্মকর্তা নেই।

ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় মেজর সাদিককে সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় একটি নিরপেক্ষ তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। ঘটনাটি দেশের রাজনীতিতে আলোড়ন তোলে এবং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়েও নড়াচড়া সৃষ্টি করে।