ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৩ বছর পর বৈদেশিক বাণিজ্যে স্বস্তির বার্তা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / 183

টানা তিন বছরের ঘাটতির পর অবশেষে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনে এসেছে উদ্বৃত্ত। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছর শেষে সার্বিক উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৩.৩ বিলিয়ন ডলার, যেখানে আগের বছর ঘাটতি ছিল ৪.৩ বিলিয়ন ডলার।

এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ; প্রচুর পরিমাণ রেমিট্যান্স, বৈদেশিক সহায়তা, ডলারের নমনীয় বিনিময় হার এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মনিটরিং। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।

চলতি হিসাবে এসেছে ১ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত, আর্থিক হিসাবে ৩.২ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত। আগের বছর এই দুই হিসাবেই ছিল বড় ঘাটতি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই ঘাটতি ছিল ৮.২২ বিলিয়ন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরেও ঘাটতি ছিল ৫.৩৮ বিলিয়ন ডলার।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি বেড়েছে ৮.৬ শতাংশ; মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৪৮.৩ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে আমদানি বেড়েছে মাত্র ২.৪ শতাংশ, যা নিয়ন্ত্রিত প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। গত অর্থবছরে আমদানি ১১.১ শতাংশ কমে গিয়েছিল ডলার সংকটে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভোগ্যপণ্য ও গার্মেন্ট খাতের কাঁচামাল আমদানির চাপ থাকলেও মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি এখনো কম, যা বিনিয়োগে মন্থরতার প্রতিফলন। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বেসরকারি খাত এখনো বিনিয়োগে সক্রিয় হয়নি, কিন্তু এখন বিধিনিষেধ নেই।”

তিনি আরও যোগ করেন, “রিজার্ভ এখন শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আমদানি বাড়লেও তা সামাল দেওয়া সম্ভব। তবে ভবিষ্যতে আমদানির চাপ বাড়লে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি।”

বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবির ঋণ-সহায়তা আর্থিক হিসাবে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। রেমিট্যান্স প্রবাহ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রিত আমদানি; এই তিন মিলে বৈদেশিক বাণিজ্যে ব্যালান্স ফিরেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বৈদেশিক লেনদেনে এই উদ্বৃত্তের ফলে রিজার্ভ পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে আমদানি বিধিনিষেধ শিথিলের ওপর। ডলারের স্থিতিশীল হার ধরে রাখাও ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সিপিডি মনে করছে, এই প্রবণতা ধরে রাখা গেলে অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। তবে তাদের সতর্কতা, হঠাৎ করে আমদানির চাপ বেড়ে গেলে ফের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা, আমদানি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ পরিবেশ; সবকিছুতে সমন্বয় রাখতে হবে।

বৈদেশিক লেনদেনে এই উদ্বৃত্ত নিঃসন্দেহে অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা। রেমিট্যান্স ও রপ্তানির ইতিবাচক ধারা যদি বজায় থাকে, আর বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে ভবিষ্যতে আরও বড় মাত্রার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

৩ বছর পর বৈদেশিক বাণিজ্যে স্বস্তির বার্তা

সর্বশেষ আপডেট ০২:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

টানা তিন বছরের ঘাটতির পর অবশেষে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনে এসেছে উদ্বৃত্ত। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছর শেষে সার্বিক উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৩.৩ বিলিয়ন ডলার, যেখানে আগের বছর ঘাটতি ছিল ৪.৩ বিলিয়ন ডলার।

এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ; প্রচুর পরিমাণ রেমিট্যান্স, বৈদেশিক সহায়তা, ডলারের নমনীয় বিনিময় হার এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মনিটরিং। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।

চলতি হিসাবে এসেছে ১ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত, আর্থিক হিসাবে ৩.২ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত। আগের বছর এই দুই হিসাবেই ছিল বড় ঘাটতি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই ঘাটতি ছিল ৮.২২ বিলিয়ন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরেও ঘাটতি ছিল ৫.৩৮ বিলিয়ন ডলার।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি বেড়েছে ৮.৬ শতাংশ; মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৪৮.৩ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে আমদানি বেড়েছে মাত্র ২.৪ শতাংশ, যা নিয়ন্ত্রিত প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। গত অর্থবছরে আমদানি ১১.১ শতাংশ কমে গিয়েছিল ডলার সংকটে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভোগ্যপণ্য ও গার্মেন্ট খাতের কাঁচামাল আমদানির চাপ থাকলেও মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি এখনো কম, যা বিনিয়োগে মন্থরতার প্রতিফলন। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বেসরকারি খাত এখনো বিনিয়োগে সক্রিয় হয়নি, কিন্তু এখন বিধিনিষেধ নেই।”

তিনি আরও যোগ করেন, “রিজার্ভ এখন শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আমদানি বাড়লেও তা সামাল দেওয়া সম্ভব। তবে ভবিষ্যতে আমদানির চাপ বাড়লে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি।”

বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবির ঋণ-সহায়তা আর্থিক হিসাবে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। রেমিট্যান্স প্রবাহ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রিত আমদানি; এই তিন মিলে বৈদেশিক বাণিজ্যে ব্যালান্স ফিরেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বৈদেশিক লেনদেনে এই উদ্বৃত্তের ফলে রিজার্ভ পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে আমদানি বিধিনিষেধ শিথিলের ওপর। ডলারের স্থিতিশীল হার ধরে রাখাও ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সিপিডি মনে করছে, এই প্রবণতা ধরে রাখা গেলে অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। তবে তাদের সতর্কতা, হঠাৎ করে আমদানির চাপ বেড়ে গেলে ফের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা, আমদানি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ পরিবেশ; সবকিছুতে সমন্বয় রাখতে হবে।

বৈদেশিক লেনদেনে এই উদ্বৃত্ত নিঃসন্দেহে অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা। রেমিট্যান্স ও রপ্তানির ইতিবাচক ধারা যদি বজায় থাকে, আর বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে ভবিষ্যতে আরও বড় মাত্রার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব হবে।