ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ট্রাম্পের উপদেষ্টার অভিযোগ

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে অর্থায়ন করছে ভারত

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:১২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / 132

ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টার অভিযোগ: ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধকে অর্থায়ন করছে ভারত। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন শীর্ষ উপদেষ্টা অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় করার মাধ্যমে ভারত কার্যত ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধকে অর্থায়ন করছে। এর আগে ট্রাম্প ভারতকে রুশ তেল কেনা বন্ধ করার জন্য চাপ বাড়ান।

 

ট্রাম্পের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং তাঁর অন্যতম প্রভাবশালী উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার রোববার ফক্স নিউজের “সানডে মার্নিং ফিউচারের” অনুষ্ঠানে বলেন, “তিনি (ট্রাম্প) খুব স্পষ্টভাবে বলেছেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনে এই যুদ্ধকে অর্থায়ন করছে—এটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

 

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিই ছিল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম প্রধান মিত্র ভারতের প্রতি সবচেয়ে কঠোর সমালোচনাগুলোর একটি।

মিলার আরও বলেন, “মানুষ এটা শুনে চমকে যাবে যে, রাশিয়ার তেল কেনার দিক থেকে ভারত প্রায় চীনের সমকক্ষ। এটা সত্যিই বিস্ময়কর তথ্য।”

ওয়াশিংটনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এই বিষয়ে মন্তব্য জানাতে তৎক্ষণাৎ সাড়া দেয়নি।

তবে ভারত সরকারের একাধিক সূত্র শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি সত্ত্বেও নয়াদিল্লি রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখবে।

 

এদিকে, রাশিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম এবং জ্বালানি কেনার কারণে ভারতের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে। ট্রাম্প আরও হুমকি দিয়েছেন যে, রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে বড় ধরনের শান্তি চুক্তিতে না পৌঁছালে রুশ তেল কেনা দেশগুলো থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

 

এর আগে ইউক্রেন যু*দ্ধের মধ্যভাগে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেয়, পুতিনের দেশকে একঘরে করে রাখতে। বন্ধু হিসেবে সেটাই বাস্তবায়ন করার কথা মোদি প্রশাসনেরও। কিন্তু ভারত সাফ সাফ জানিয়ে দেয়, রাশিয়া থেকে তেল কেনা চালিয়ে যাবে তারা।

বর্তমানে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ। আর সেই ভারতের তেলের জোগানদাতা হিসেবে শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ভারত রাশিয়া থেকে দৈনিক গড়ে ১৭.৫ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করেছে, যা ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ৩৫ শতাংশ। এটা চীনের প্রায় সমান।

দিল্লী জানিয়েছে, এই চুক্তিগুলো সবই দীর্ঘমেয়াদি। হঠাৎ করে এগুলো বন্ধ করা কৌশলগতভাবে কঠিন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এর আগে বলেন, “রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বহু পুরনো ও পরীক্ষিত। আমরা আমাদের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নিই।”

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ট্রাম্পের উপদেষ্টার অভিযোগ

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে অর্থায়ন করছে ভারত

সর্বশেষ আপডেট ০২:১২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন শীর্ষ উপদেষ্টা অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় করার মাধ্যমে ভারত কার্যত ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধকে অর্থায়ন করছে। এর আগে ট্রাম্প ভারতকে রুশ তেল কেনা বন্ধ করার জন্য চাপ বাড়ান।

 

ট্রাম্পের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং তাঁর অন্যতম প্রভাবশালী উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার রোববার ফক্স নিউজের “সানডে মার্নিং ফিউচারের” অনুষ্ঠানে বলেন, “তিনি (ট্রাম্প) খুব স্পষ্টভাবে বলেছেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনে এই যুদ্ধকে অর্থায়ন করছে—এটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

 

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিই ছিল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম প্রধান মিত্র ভারতের প্রতি সবচেয়ে কঠোর সমালোচনাগুলোর একটি।

মিলার আরও বলেন, “মানুষ এটা শুনে চমকে যাবে যে, রাশিয়ার তেল কেনার দিক থেকে ভারত প্রায় চীনের সমকক্ষ। এটা সত্যিই বিস্ময়কর তথ্য।”

ওয়াশিংটনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এই বিষয়ে মন্তব্য জানাতে তৎক্ষণাৎ সাড়া দেয়নি।

তবে ভারত সরকারের একাধিক সূত্র শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি সত্ত্বেও নয়াদিল্লি রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখবে।

 

এদিকে, রাশিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম এবং জ্বালানি কেনার কারণে ভারতের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে। ট্রাম্প আরও হুমকি দিয়েছেন যে, রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে বড় ধরনের শান্তি চুক্তিতে না পৌঁছালে রুশ তেল কেনা দেশগুলো থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

 

এর আগে ইউক্রেন যু*দ্ধের মধ্যভাগে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেয়, পুতিনের দেশকে একঘরে করে রাখতে। বন্ধু হিসেবে সেটাই বাস্তবায়ন করার কথা মোদি প্রশাসনেরও। কিন্তু ভারত সাফ সাফ জানিয়ে দেয়, রাশিয়া থেকে তেল কেনা চালিয়ে যাবে তারা।

বর্তমানে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ। আর সেই ভারতের তেলের জোগানদাতা হিসেবে শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ভারত রাশিয়া থেকে দৈনিক গড়ে ১৭.৫ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করেছে, যা ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ৩৫ শতাংশ। এটা চীনের প্রায় সমান।

দিল্লী জানিয়েছে, এই চুক্তিগুলো সবই দীর্ঘমেয়াদি। হঠাৎ করে এগুলো বন্ধ করা কৌশলগতভাবে কঠিন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এর আগে বলেন, “রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বহু পুরনো ও পরীক্ষিত। আমরা আমাদের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নিই।”