ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আবদুল কাদেরের ফেসবুক পোস্ট

ছাত্রলীগ পরিচয়ে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনে ছাত্রশিবির জড়িত

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:১২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / 279

আবদুল কাদেরের ফেসবুক পোস্ট

গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ছাত্রলীগ পরিচয়ে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনে অংশগ্রহণ করতেন এমন বহু ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মী।

তিনি বলেন, হলে থাকার কারণে ছাত্রশিবিরের অনেক সদস্য ছাত্রলীগে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। ‘আইডেনটিটি ক্রাইসিস’ থেকে মুক্তি পেতে এবং নিজেদের “আসল লীগার” হিসেবে প্রমাণ করার তাগিদ থেকেই তারা অতিউৎসাহী হয়ে উঠতেন এবং নির্যাতন-নিপীড়নের অংশ হয়ে যেতেন।

রবিবার রাতে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে আবদুল কাদের উদাহরণসহ বলেন, ২০২৩ সালের ২২ জানুয়ারি বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী শাহরিয়াদকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাতভর মারধর করেন। ওই ঘটনায় নেতৃত্বে ছিলেন মাজেদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি, যিনি পূর্বে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ছাত্রলীগ ঢাবি শাখার সর্বশেষ কমিটির দপ্তর সম্পাদক মুসাদ্দিক বিল্লাহ, যিনি তার জেলা থেকে এসেছেন এবং একসময় শিবিরের সাথী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পদ পাওয়ার জন্য কট্টর ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত হন।

আবদুল কাদের অভিযোগ করেন, ১৬-১৭ সেশনের আফজালুন নাঈম, যিনি জসীম উদ্দিন হলে ছাত্রলীগের হয়ে গেস্টরুমে শিক্ষার্থীদের নিপীড়নে অংশ নেন, এখন জামায়াত-শিবিরের আইকন শিশির মুনিরের বিশেষ সহকারী হিসেবে কাজ করছেন।

এছাড়াও, মুজিব হলের তৎকালীন ক্যান্ডিডেট ইলিয়াস হোসাইন এবং এফ রহমান হলের রায়হান উদ্দিন, যারা ছাত্রলীগের হয়ে কাজ করেছেন, পরবর্তীতে শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন কাদের।

তিনি দাবি করেন, ২০১৭ সালে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে পাঁচ শিক্ষার্থীকে ‘শিবির সন্দেহে’ মারধর করা হয় এবং পরে ওই ঘটনায় মামলা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন নামে একজন ছিলেন, যিনি আগে থেকেই শিবির সংশ্লিষ্ট ছিলেন। মামলার পরে জামায়াত-শিবিরের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা তার মুক্তির জন্য তদবির করেন।

আবদুল কাদের আরও বলেন, শিবিরের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অনেকেই ছাত্রলীগে পদ পেয়েছেন এবং তারাই গেস্টরুম, গণরুম, মিছিল-মিটিংয়ে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক অংশগ্রহণে বাধ্য করতেন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্টের পরে হলে হলে ব্যাচ প্রতিনিধি এবং শৃঙ্খলা কমিটি নির্বাচিত হয় অনলাইন ভোটাভুটির মাধ্যমে; যেখানে শিবিরের সমর্থকেরা নিজেদের লোক বসান। পরবর্তীতে তারাই ছাত্রলীগের নামের তালিকা তৈরি করেন, কিন্তু নিজেদের সংশ্লিষ্টদের নাম বাদ দেন।

আবদুল কাদের অভিযোগ করেন, শিবির এখন এসব অস্বীকার করছে এবং প্রমাণ দাবি করছে। কিন্তু তারা যদি বিগত এক যুগের হল কমিটি ও ঢাবি শাখার কমিটি প্রকাশ করে, তাহলেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

সবশেষে তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পরে হলগুলোর ভেতরে শিবিরের হয়ে ‘মাদবরি’ করা লোকদের প্রকৃত পরিচয় সবাই জানে, কিন্তু তারা প্রকাশ পাচ্ছে না কেবল শিবির নিজের কৃতকর্ম লুকাতে চায় বলে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আবদুল কাদেরের ফেসবুক পোস্ট

ছাত্রলীগ পরিচয়ে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনে ছাত্রশিবির জড়িত

সর্বশেষ আপডেট ০১:১২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ছাত্রলীগ পরিচয়ে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনে অংশগ্রহণ করতেন এমন বহু ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মী।

তিনি বলেন, হলে থাকার কারণে ছাত্রশিবিরের অনেক সদস্য ছাত্রলীগে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। ‘আইডেনটিটি ক্রাইসিস’ থেকে মুক্তি পেতে এবং নিজেদের “আসল লীগার” হিসেবে প্রমাণ করার তাগিদ থেকেই তারা অতিউৎসাহী হয়ে উঠতেন এবং নির্যাতন-নিপীড়নের অংশ হয়ে যেতেন।

রবিবার রাতে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে আবদুল কাদের উদাহরণসহ বলেন, ২০২৩ সালের ২২ জানুয়ারি বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী শাহরিয়াদকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাতভর মারধর করেন। ওই ঘটনায় নেতৃত্বে ছিলেন মাজেদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি, যিনি পূর্বে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ছাত্রলীগ ঢাবি শাখার সর্বশেষ কমিটির দপ্তর সম্পাদক মুসাদ্দিক বিল্লাহ, যিনি তার জেলা থেকে এসেছেন এবং একসময় শিবিরের সাথী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পদ পাওয়ার জন্য কট্টর ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত হন।

আবদুল কাদের অভিযোগ করেন, ১৬-১৭ সেশনের আফজালুন নাঈম, যিনি জসীম উদ্দিন হলে ছাত্রলীগের হয়ে গেস্টরুমে শিক্ষার্থীদের নিপীড়নে অংশ নেন, এখন জামায়াত-শিবিরের আইকন শিশির মুনিরের বিশেষ সহকারী হিসেবে কাজ করছেন।

এছাড়াও, মুজিব হলের তৎকালীন ক্যান্ডিডেট ইলিয়াস হোসাইন এবং এফ রহমান হলের রায়হান উদ্দিন, যারা ছাত্রলীগের হয়ে কাজ করেছেন, পরবর্তীতে শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন কাদের।

তিনি দাবি করেন, ২০১৭ সালে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে পাঁচ শিক্ষার্থীকে ‘শিবির সন্দেহে’ মারধর করা হয় এবং পরে ওই ঘটনায় মামলা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন নামে একজন ছিলেন, যিনি আগে থেকেই শিবির সংশ্লিষ্ট ছিলেন। মামলার পরে জামায়াত-শিবিরের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা তার মুক্তির জন্য তদবির করেন।

আবদুল কাদের আরও বলেন, শিবিরের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অনেকেই ছাত্রলীগে পদ পেয়েছেন এবং তারাই গেস্টরুম, গণরুম, মিছিল-মিটিংয়ে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক অংশগ্রহণে বাধ্য করতেন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্টের পরে হলে হলে ব্যাচ প্রতিনিধি এবং শৃঙ্খলা কমিটি নির্বাচিত হয় অনলাইন ভোটাভুটির মাধ্যমে; যেখানে শিবিরের সমর্থকেরা নিজেদের লোক বসান। পরবর্তীতে তারাই ছাত্রলীগের নামের তালিকা তৈরি করেন, কিন্তু নিজেদের সংশ্লিষ্টদের নাম বাদ দেন।

আবদুল কাদের অভিযোগ করেন, শিবির এখন এসব অস্বীকার করছে এবং প্রমাণ দাবি করছে। কিন্তু তারা যদি বিগত এক যুগের হল কমিটি ও ঢাবি শাখার কমিটি প্রকাশ করে, তাহলেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

সবশেষে তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পরে হলগুলোর ভেতরে শিবিরের হয়ে ‘মাদবরি’ করা লোকদের প্রকৃত পরিচয় সবাই জানে, কিন্তু তারা প্রকাশ পাচ্ছে না কেবল শিবির নিজের কৃতকর্ম লুকাতে চায় বলে।”