১৩২০ মেগাওয়াট সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট
পটুয়াখালীতে প্রকল্পের জমি নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ!
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
- / 643
প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমি পুণরায় লিজ দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্নসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। মো. রফিকুল ইসলাম নামের ওই কর্মকর্তা সংস্থাটির উদ্যোগে নির্মাণাধীন পটুয়াখালী ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর দায়িত্বে রয়েছেন।
জানা যায়, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানী লিমিটেড ও চায়না এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন লিমিটেড (এনার্জি চায়না) যৌথভাবে পটুয়াখালীতে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।
এই প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ও চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর, চালিতাবুনিয়া, পাঁচজুনিয়া ও ধানখালী মৌজার প্রায় ৯২৫ দশমিক ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটির মূল অবকাঠামো নির্মাণ কাজ এখনো শুরু হয়নি। আর এই সুযোগে জমি নিয়ে শুরু হয়েছে প্রতারণার নতুন আরেক ফাঁদ!
স্থানীয়দের মাঝে কৌশলে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে, সরকার পরিবর্তনের কারনে প্রকল্পটি আর বাস্তবায়ন হচ্ছে না। চায়না সরকার অর্থ দিচ্ছে না। তাই সরকার মৌখিকভাবে এই জমি ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। যারা জমির ভোগ দখলে থাকবেন, ভবিষ্যতে সরকার তাদের নামেই আবার জমি বরাদ্দ দিবেন- এমন নানাসব গুজব!
স্থানীয়রা বলছেন, এ কাজের জন্য রফিকুল ইসলাম স্থানীয়ভাবে একটি দালাল সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। তাদের মাধ্যমেই জমি ভোগ দখলের অনুমতি দেয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অধিগ্রহণকৃত জমিতে স্থানীয়রা চাষাবাদ করছেন, গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি প্রকল্পের বাঁধের মাটি কেটে বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে। যে বাঁধ কয়েক কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১৯ জুন সংস্থাটির পক্ষ থেকে একটি সাত সদস্যের মূল্যায়ণ কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রকল্প বাস্তবায়নে কোন অনিয়ম আছে কিনা; তা তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি দুদকের একটি তদন্ত দল পরিদর্শন গেলে এ নিয়ে লিজ নেওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে রফিকুলের বাকবিতন্ডার ঘটনাও ঘটেছে। তবে তিনি সবকিছু “ম্যানেজ” করার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
জানতে চাইলে প্রকল্পের নির্বাহী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তদন্ত কমিটির প্রধান আহসান হাবিবের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হননি এই প্রতিবেদক।
কেবল জমি লিজ দেওয়া না; এই প্রকল্পের অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের টাকা প্রাপ্তি নিয়েও নানা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
এই প্রকল্পে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ২৮১। পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ৬ হাজার ৭০০ পরিবার। ২৮১ পরিবারকেই পুনর্বাসনের তালিকায় আনা হয়েছে। পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে।
ওয়াটার কিপারস বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) গত মে মাসে ‘নির্মাণাধীন আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ প্রকল্প :একটি আর্থসামাজিক সমীক্ষা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সমীক্ষায় নেতৃত্ব দেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওমেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আশিকুর রহমান। প্রকল্প এলাকার ১০০ বাসিন্দা সমীক্ষায় অংশ নেন।
সেই সমীক্ষায় বলা হয়, জমির ক্ষতিপূরণ পেতে দালালদের সর্বনিম্ন ৪৪ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়।
এই প্রকল্পের জন্য শুরুতে ৯৩০ দশমিক ৬১ একর জমি অধিগ্রহণ করার কথা বলা হয়েছিল। যাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮১৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, জমি অধিগ্রহণের পাশাপাশি ৫৫০ দশমিক ৫৮ একর ভূমি উন্নয়ন করা হবে। এ ছাড়া ১১ কিলোমিটার নদী তীরে ভূমি সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, ৩ কিলোমিটার ভুমি সংরক্ষণ ঢাল নির্মাণ এবং প্রকল্প এলাকার ১২০টি পরিবারের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
কয়লাভিত্তিক এই কেন্দ্রটিতে ৬৬০ মেগাওয়াট করে পৃথক দুটি ইউনিট নির্মিত হবে। জ্বালানি বহুমুখীকরণ করার যে পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের সে পরিকল্পনা অনুয়ায়ী এই কেন্দ্রে কয়লা ব্যবহ্নত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০১৭ সালের ১৩ জুলাই এপিএসসিএল ও এনার্জি চায়নার মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
আরো পড়তে পারেন




































