ইতিহাসের আদালতে শেখ হাসিনা: সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
- / 153
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিচার আজ রোববার শুরু হয়েছে।
আজ ৩ আগস্ট, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ এ মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালের অনুমতি সাপেক্ষে এই বিচারিক কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। এ মামলায় ৮১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। মামলার অপর আসামি সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রোভার) হতে রাজি হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তার আবেদন মঞ্জুর করে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এটিই প্রথম মামলা। ‘ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়’ বা ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি’ নীতিতে এই মামলা করা হয়।

১২ মে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম পরে তা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হিসেবে দাখিল করেন। মোট ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগনামায় পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়, যার মধ্যে ২,০১৮ পৃষ্ঠা তথ্যসূত্র, ৪,০০৫ পৃষ্ঠা দালিলিক প্রমাণ এবং ২,৭২৪ পৃষ্ঠায় শহীদদের তালিকা রয়েছে।
গত ১ জুন ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়। ১৬ জুন পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে হাজির করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। তারা হাজির না হওয়ায় অভিযোগ গঠন প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়।
এই মামলার পাশাপাশি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। এর একটি সাড়ে ১৫ বছরে সংঘটিত গুম ও হত্যার অভিযোগে, আরেকটি রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে গণহত্যা সংক্রান্ত।
২০২৩ সালের জুলাই-অগাস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, দলের সশস্ত্র শাখা এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অংশগ্রহণে গণহত্যা ও দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠে। ওই সময় থেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের দাবি জোরালো হয়।
ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর মতো দল ও ব্যক্তিদের বিচারের মতো আওয়ামী লীগের বিচার শুরুর পথও উন্মুক্ত করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার নতুন আইন করে রাজনৈতিক দল হিসেবেও বিচারের সুযোগ রেখেছে।
এ মামলায় বিচারের মধ্য দিয়ে চলমান গণতান্ত্রিক সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হলো বলে পর্যবেক্ষকদের মত।





































