ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলা অ্যাফেয়ার্সে সংবাদের পর তৎপরতা, ধর্ষক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:১৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
  • / 982

ধর্ষক গ্রেপ্তার

বাংলা অ্যাফেয়ার্সে সংবাদ প্রকাশের পর বরিশালের আগৈলঝাড়ায় প্রতিবন্ধী নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারীর মা। প্রভাবশালীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে পুলিশের সহযোগিতায় মামলা দায়েরের পর কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানা এলাকা থেকে অভিযুক্ত ধর্ষককে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়া থানায় আনা হয়।

এর আগে গত ১ জুলাই ‘আগৈলঝাড়ায় ধর্ষণে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী নারী’ শিরোনামে বাংলাঅ্যাফেয়ার্সে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর প্রশাসনের টনক নড়ে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের চাত্রিশিরা গ্রামে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীকে প্রতিবেশী দুই সন্তানের জনক ভ্যানচালক পলাশ সরদার প্রায় ৬ মাস আগে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর ধর্ষকের হুমকির কারণে বিষয়টি গোপন রাখে ভুক্তভোগী। তবে পাঁচ মাস পর গর্ভধারণের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করিয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় পরিবার।

ভুক্তভোগী নারীর কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর প্রভাবশালীরা ঘটনাটি অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং মামলা না করার জন্য চাপ দেয়। কিন্তু ভুক্তভোগীর মা পুলিশের সহযোগিতায় থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপরই অভিযুক্ত ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।

আগৈলঝাড়ায় জোরপূর্বক ধর্ষণে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী নারী
আগৈলঝাড়ায় জোরপূর্বক ধর্ষণে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী নারী

ভুক্তভোগী নারী জানান, রমজানের আগে একদিন পাশের বাড়ির পলাশ সরদার তাকে ঘরে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং কাউকে কিছু না বলার জন্য ভয় দেখায়। মেয়েটির মা জানান, ধর্ষণের আগে ও পরে বারবার ভয় দেখানো হয়েছিল, যার ফলে তার মেয়ে কিছু বলেনি। পরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে প্রভাবশালীরা ঘটনাটি মীমাংসার কথা বলে ধামাচাপা দিতে চায়। তিনি ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবন্ধী নারীর প্রতি যে অন্যায় করা হয়েছে তা ক্ষমার অযোগ্য। তারা আরও বলেন, কেউ কেউ এখনো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করছেন। তারা ধর্ষকের পাশাপাশি ঘটনাটি ধামাচাপার পেছনে যেসব ব্যক্তি জড়িত, তাদেরও শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. অলিউল ইসলাম জানান, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে। এরপর থানায় মামলা হলে এসআই মামুন হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানা থেকে অভিযুক্ত পলাশ সরদারকে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়া থানায় নিয়ে আসে। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাংলা অ্যাফেয়ার্সে সংবাদের পর তৎপরতা, ধর্ষক গ্রেপ্তার

সর্বশেষ আপডেট ১২:১৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

বাংলা অ্যাফেয়ার্সে সংবাদ প্রকাশের পর বরিশালের আগৈলঝাড়ায় প্রতিবন্ধী নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারীর মা। প্রভাবশালীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে পুলিশের সহযোগিতায় মামলা দায়েরের পর কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানা এলাকা থেকে অভিযুক্ত ধর্ষককে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়া থানায় আনা হয়।

এর আগে গত ১ জুলাই ‘আগৈলঝাড়ায় ধর্ষণে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী নারী’ শিরোনামে বাংলাঅ্যাফেয়ার্সে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর প্রশাসনের টনক নড়ে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের চাত্রিশিরা গ্রামে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীকে প্রতিবেশী দুই সন্তানের জনক ভ্যানচালক পলাশ সরদার প্রায় ৬ মাস আগে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর ধর্ষকের হুমকির কারণে বিষয়টি গোপন রাখে ভুক্তভোগী। তবে পাঁচ মাস পর গর্ভধারণের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করিয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় পরিবার।

ভুক্তভোগী নারীর কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর প্রভাবশালীরা ঘটনাটি অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং মামলা না করার জন্য চাপ দেয়। কিন্তু ভুক্তভোগীর মা পুলিশের সহযোগিতায় থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপরই অভিযুক্ত ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।

আগৈলঝাড়ায় জোরপূর্বক ধর্ষণে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী নারী
আগৈলঝাড়ায় জোরপূর্বক ধর্ষণে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী নারী

ভুক্তভোগী নারী জানান, রমজানের আগে একদিন পাশের বাড়ির পলাশ সরদার তাকে ঘরে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং কাউকে কিছু না বলার জন্য ভয় দেখায়। মেয়েটির মা জানান, ধর্ষণের আগে ও পরে বারবার ভয় দেখানো হয়েছিল, যার ফলে তার মেয়ে কিছু বলেনি। পরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে প্রভাবশালীরা ঘটনাটি মীমাংসার কথা বলে ধামাচাপা দিতে চায়। তিনি ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবন্ধী নারীর প্রতি যে অন্যায় করা হয়েছে তা ক্ষমার অযোগ্য। তারা আরও বলেন, কেউ কেউ এখনো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করছেন। তারা ধর্ষকের পাশাপাশি ঘটনাটি ধামাচাপার পেছনে যেসব ব্যক্তি জড়িত, তাদেরও শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. অলিউল ইসলাম জানান, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে। এরপর থানায় মামলা হলে এসআই মামুন হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানা থেকে অভিযুক্ত পলাশ সরদারকে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়া থানায় নিয়ে আসে। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।