ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সাবেক ৩ মন্ত্রীসহ অভিযুক্ত ২৩১ জন

চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনের মামলায় চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
  • / 280

চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনের মামলায় চার্জশিট

২০২৪ সালের ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শহিদুল ইসলাম শহিদ (৩৭), যিনি স্থানীয় একটি জুতার দোকানে কর্মরত ছিলেন। তাঁর ভাই শফিকুল ইসলাম ওই বছরের ১৫ আগস্ট চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এই মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই চার্জশিট জমা দেয় আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগে, যা ১ আগস্ট রাতে প্রকাশ্যে আসে। পরদিন ৩১ জুলাই চার্জশিটটি দাখিল করা হয় চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে। মামলার শুনানি আগামী ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

চার্জশিটে ২৩১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, সাবেক মেয়র এ জে এম নাসির উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ, আবু রেজা মুহাম্মদ নিজামউদ্দিন নদভী, মহিউদ্দিন বাচ্চু, আবদুস সালাম, দিদারুল আলম দিদার, এস এম আল মামুন, নোমান আল মাহমুদসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সাবেক কাউন্সিলর, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নুরুল হক চার্জশিটে ১২৮ জনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, শহিদুল ইসলাম শহিদ দোকান থেকে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। সে সময় আন্দোলনকারীরা তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ষোলশহর এলাকার বাসভবন এবং তৎকালীন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর বহদ্দারহাটের বাসভবনে হামলার চেষ্টা করে। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, শহিদ পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের গুলিতে নিহত হন। তবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, তারা শুধু টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করেছিল এবং মেয়রের বাসায় নিরাপত্তা দেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য ছিল।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় যেসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, তার মধ্যে এটি প্রথম মামলা যেখানে চার্জশিট দাখিল হলো। ফলে এটি তদন্তের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সাবেক ৩ মন্ত্রীসহ অভিযুক্ত ২৩১ জন

চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনের মামলায় চার্জশিট

সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

২০২৪ সালের ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শহিদুল ইসলাম শহিদ (৩৭), যিনি স্থানীয় একটি জুতার দোকানে কর্মরত ছিলেন। তাঁর ভাই শফিকুল ইসলাম ওই বছরের ১৫ আগস্ট চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এই মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই চার্জশিট জমা দেয় আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগে, যা ১ আগস্ট রাতে প্রকাশ্যে আসে। পরদিন ৩১ জুলাই চার্জশিটটি দাখিল করা হয় চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে। মামলার শুনানি আগামী ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

চার্জশিটে ২৩১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, সাবেক মেয়র এ জে এম নাসির উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ, আবু রেজা মুহাম্মদ নিজামউদ্দিন নদভী, মহিউদ্দিন বাচ্চু, আবদুস সালাম, দিদারুল আলম দিদার, এস এম আল মামুন, নোমান আল মাহমুদসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সাবেক কাউন্সিলর, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নুরুল হক চার্জশিটে ১২৮ জনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, শহিদুল ইসলাম শহিদ দোকান থেকে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। সে সময় আন্দোলনকারীরা তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ষোলশহর এলাকার বাসভবন এবং তৎকালীন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর বহদ্দারহাটের বাসভবনে হামলার চেষ্টা করে। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, শহিদ পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের গুলিতে নিহত হন। তবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, তারা শুধু টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করেছিল এবং মেয়রের বাসায় নিরাপত্তা দেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য ছিল।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় যেসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, তার মধ্যে এটি প্রথম মামলা যেখানে চার্জশিট দাখিল হলো। ফলে এটি তদন্তের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।