ঢাকা ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মায়ানমারে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার, ডিসেম্বরে নির্বাচন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৩২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
  • / 302

জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং বুধবার জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করেন

চার বছর পাঁচ মাস পর মায়ানমারের সামরিক জান্তা দেশটির দীর্ঘমেয়াদী জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করেছে। পাশাপাশি তারা চলতি বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে ডিসেম্বরের কত তারিখে নির্বাচন সে বিষয়ে কিছু জানায়নি। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

এই জরুরি অবস্থা জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংকে আইনসভা, নির্বাহী এবং বিচার বিভাগের সর্বময় ক্ষমতা দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি তিনি নির্বাচনকে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার একটি পথ হিসেবে তুলে ধরছেন।

কিন্তু অভ্যুত্থানে উৎখাত হওয়া সাবেক সংসদ সদস্যসহ বিরোধী দলগুলো ইতোমধ্যেই এই নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে।

গত মাসে এক জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ এই নির্বাচনকে ‘প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেন—যার উদ্দেশ্য সামরিক শাসনের বৈধতা নিশ্চিত করা।জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুন সাংবাদিকদের পাঠানো এক ভয়েস বার্তায় জানান, একাধিক দলের গণতান্ত্রিক পথে দেশকে এগিয়ে নিতে আজ জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন শেষে মিন অং হ্লাইং হয়তো রাষ্ট্রপতি অথবা সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে ক্ষমতা ধরে রাখবেন, ফলে তার কার্যত শাসন অব্যাহত থাকবে।

নাইপিদোতে জান্তার প্রশাসনিক কাউন্সিলের এক সম্মাননা অনুষ্ঠানে মিন অং হ্লাইং বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই প্রথম অধ্যায় অতিক্রম করেছি।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে এবং সব যোগ্য ভোটার যাতে ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা চালানো হবে।

যদিও জান্তা এখনো নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি। তবে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো নিবন্ধিত হচ্ছে এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে।

রয়াটার্স জানিয়েছে, মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন জান্তা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং-এর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। মিন অং হ্লাইং কার্যকরভাবে দেশের দায়িত্বে থাকবেন, অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে যিনি ভোট তত্ত্বাবধান করবেন।

এটি হবে প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যেটি ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অভ্যুত্থান যা দেশটিকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয় এবং সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের জন্য অস্থিতিশীলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মায়ানমারে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার, ডিসেম্বরে নির্বাচন

সর্বশেষ আপডেট ০২:৩২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
চার বছর পাঁচ মাস পর মায়ানমারের সামরিক জান্তা দেশটির দীর্ঘমেয়াদী জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করেছে। পাশাপাশি তারা চলতি বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে ডিসেম্বরের কত তারিখে নির্বাচন সে বিষয়ে কিছু জানায়নি। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

এই জরুরি অবস্থা জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংকে আইনসভা, নির্বাহী এবং বিচার বিভাগের সর্বময় ক্ষমতা দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি তিনি নির্বাচনকে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার একটি পথ হিসেবে তুলে ধরছেন।

কিন্তু অভ্যুত্থানে উৎখাত হওয়া সাবেক সংসদ সদস্যসহ বিরোধী দলগুলো ইতোমধ্যেই এই নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে।

গত মাসে এক জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ এই নির্বাচনকে ‘প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেন—যার উদ্দেশ্য সামরিক শাসনের বৈধতা নিশ্চিত করা।জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুন সাংবাদিকদের পাঠানো এক ভয়েস বার্তায় জানান, একাধিক দলের গণতান্ত্রিক পথে দেশকে এগিয়ে নিতে আজ জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন শেষে মিন অং হ্লাইং হয়তো রাষ্ট্রপতি অথবা সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে ক্ষমতা ধরে রাখবেন, ফলে তার কার্যত শাসন অব্যাহত থাকবে।

নাইপিদোতে জান্তার প্রশাসনিক কাউন্সিলের এক সম্মাননা অনুষ্ঠানে মিন অং হ্লাইং বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই প্রথম অধ্যায় অতিক্রম করেছি।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে এবং সব যোগ্য ভোটার যাতে ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা চালানো হবে।

যদিও জান্তা এখনো নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি। তবে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো নিবন্ধিত হচ্ছে এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে।

রয়াটার্স জানিয়েছে, মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন জান্তা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং-এর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। মিন অং হ্লাইং কার্যকরভাবে দেশের দায়িত্বে থাকবেন, অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে যিনি ভোট তত্ত্বাবধান করবেন।

এটি হবে প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যেটি ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অভ্যুত্থান যা দেশটিকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয় এবং সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের জন্য অস্থিতিশীলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।