ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাল্টা শুল্ক কমাতে বাংলাদেশ আশার আলো দেখছে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৭:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
  • / 372

ট্রাম্প-ইউনূস

বাংলাদেশি পণ্যে ঘোষিত পাল্টা শুল্কের হার কমানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের দ্বিতীয় দিনের আলোচনা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বৈঠক শেষ হয় সাড়ে ৩টার দিকে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। সঙ্গে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকসূত্রে জানা গেছে, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। আলোচনায় যে অগ্রগতি হয়েছে, তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ইতিবাচক ফলাফলের আশাবাদী। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শেষ দিনে। তিন দিনের এই আলোচনা আজ বৃহস্পতিবার শেষ হবে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি অবস্থানপত্র পাঠিয়েছে, যার ভিত্তিতে দরকষাকষি চলছে। আলোচনা শেষে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পণ্যে ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা রয়েছে, যা আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি বাড়ানো এবং মার্কিন পণ্যে শুল্ক কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাল্টা শুল্ক কমানোর চেষ্টা করছে।

ইউএসটিআর’র সঙ্গে প্রথম দিনের আলোচনার ছবি
ইউএসটিআর’র সঙ্গে প্রথম দিনের আলোচনার ছবি

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্যে গড়ে ১৫.৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর ছিল। কিন্তু ২ এপ্রিল থেকে বিশ্বের সব দেশের জন্য ১০ শতাংশ ‘বেজ ট্যারিফ’ আরোপ করা হয়। পাল্টা শুল্কের নতুন হার নির্ধারিত হলে এই বেজ ট্যারিফ প্রযোজ্য থাকবে না। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্র যদি বাংলাদেশের পণ্যে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, তবে মোট শুল্কহার দাঁড়াবে প্রায় ৩০ শতাংশ।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২ এপ্রিল বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের জন্য পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। পরে ৯ এপ্রিল তিন মাসের জন্য পাল্টা শুল্ক আরোপ স্থগিত করা হয়। তবে স্থগিতাদেশের সময় শেষ হওয়ার আগেই ৮ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, বাংলাদেশের ওপর ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কার্যকর হবে।

মার্কিন পাল্টা শুল্ক কমাতে চূড়ান্ত দফার আলোচনার আগে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ আগামী এক বছরের মধ্যে ১৫০ কোটি ডলারের গম, ডাল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরকার ইতোমধ্যে জি-টু-জি ভিত্তিতে বছরে ৭ লাখ টন গম কেনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এছাড়া সম্প্রতি ২ লাখ ২০ হাজার টন গম কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

এলএনজি আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। বেসরকারি খাতের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ১৫০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের তুলা, গম, সয়াবিন ও ডাল আমদানি বাড়াতে আমদানিকারকদের একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পাল্টা শুল্ক কমাতে বাংলাদেশ আশার আলো দেখছে

সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৭:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশি পণ্যে ঘোষিত পাল্টা শুল্কের হার কমানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের দ্বিতীয় দিনের আলোচনা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বৈঠক শেষ হয় সাড়ে ৩টার দিকে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। সঙ্গে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকসূত্রে জানা গেছে, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। আলোচনায় যে অগ্রগতি হয়েছে, তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ইতিবাচক ফলাফলের আশাবাদী। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শেষ দিনে। তিন দিনের এই আলোচনা আজ বৃহস্পতিবার শেষ হবে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি অবস্থানপত্র পাঠিয়েছে, যার ভিত্তিতে দরকষাকষি চলছে। আলোচনা শেষে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পণ্যে ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা রয়েছে, যা আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি বাড়ানো এবং মার্কিন পণ্যে শুল্ক কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাল্টা শুল্ক কমানোর চেষ্টা করছে।

ইউএসটিআর’র সঙ্গে প্রথম দিনের আলোচনার ছবি
ইউএসটিআর’র সঙ্গে প্রথম দিনের আলোচনার ছবি

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্যে গড়ে ১৫.৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর ছিল। কিন্তু ২ এপ্রিল থেকে বিশ্বের সব দেশের জন্য ১০ শতাংশ ‘বেজ ট্যারিফ’ আরোপ করা হয়। পাল্টা শুল্কের নতুন হার নির্ধারিত হলে এই বেজ ট্যারিফ প্রযোজ্য থাকবে না। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্র যদি বাংলাদেশের পণ্যে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, তবে মোট শুল্কহার দাঁড়াবে প্রায় ৩০ শতাংশ।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২ এপ্রিল বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের জন্য পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। পরে ৯ এপ্রিল তিন মাসের জন্য পাল্টা শুল্ক আরোপ স্থগিত করা হয়। তবে স্থগিতাদেশের সময় শেষ হওয়ার আগেই ৮ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, বাংলাদেশের ওপর ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কার্যকর হবে।

মার্কিন পাল্টা শুল্ক কমাতে চূড়ান্ত দফার আলোচনার আগে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ আগামী এক বছরের মধ্যে ১৫০ কোটি ডলারের গম, ডাল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরকার ইতোমধ্যে জি-টু-জি ভিত্তিতে বছরে ৭ লাখ টন গম কেনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এছাড়া সম্প্রতি ২ লাখ ২০ হাজার টন গম কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

এলএনজি আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। বেসরকারি খাতের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ১৫০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের তুলা, গম, সয়াবিন ও ডাল আমদানি বাড়াতে আমদানিকারকদের একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে।