ঢাকা ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রাতারাতি অর্ডার হারাবে না, তবু ঝুঁকি প্রবল

ট্রাম্পর শুল্কনীতিতে বিপর্যয়ে দেশের পোশাক খাত

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
  • / 233

ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে বিপর্যয়ে দেশের পোশাক খাত

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত, যা দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ, বর্তমানে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। যুক্তরাষ্ট্রে যদি ঘোষিত ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কার্যকর হয়, তবে এটি বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বর্তমানে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক বসে, যা ৫০ শতাংশে পৌঁছালে দেশের রপ্তানি সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক হ্রাস নিয়ে আলোচনা করছে। তারা যদি অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পায়, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে ১৫ শতাংশের মতো শুল্কবৈষম্য তৈরি হবে, যা আমাদের মূল প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে চ্যালেঞ্জে ফেলবে।

মূল্য প্রতিযোগিতার ধস

পোশাক শিল্প মূলত মূল্য প্রতিযোগিতার উপর নির্ভর করে। ভারত যদি শুল্ক কমিয়ে নেয় এবং বাংলাদেশ ১৫ শতাংশ বেশি দিতে বাধ্য হয়, তাহলে তুলা-ভিত্তিক পণ্যে, যেখানে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে প্রতিযোগিতায় হার মানবে। প্যাসিফিক জিন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর আশঙ্কা করছেন, এতে তাদের মতো প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ রপ্তানি ঝুঁকিতে পড়বে। তার প্রতিষ্ঠানের বছরে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের এক-পঞ্চমাংশ মার্কিন বাজারে যায়।

ডিবিএল গ্রুপের এম এ জব্বারও একমত। যদিও তার কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নয়, তিনি বলছেন, দামের ওপর কঠিন দর কষাকষির চাপ বাড়বে এবং ইউরোপের বাজারও সেই সুযোগে দাম কমাতে চাইবে।

চট্টগ্রামের এইচকেসি অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুল আলম জানান, তাদের ৯০ শতাংশ পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে যায়, অথচ এবার অর্ডার মাত্র ২০ শতাংশ এসেছে। একইভাবে স্নোটেক্স গ্রুপের এমডি এস এম খালেদ বলছেন, অর্ডার আসা তো দূরের কথা, বায়াররা আগের নিশ্চিত অর্ডারও কমিয়ে দিচ্ছেন।

ভারত, ভিয়েতনাম ও অন্যান্যদের অগ্রগতি

ভারতের উদাহরণই সবচেয়ে স্পষ্ট। ট্রাম্প ৩৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করার পরই দেশটির টেক্সটাইল কোম্পানির শেয়ারবাজারে উত্থান ঘটে। তারা এই সুযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বাজার দখলের জন্য এগিয়ে গেছে। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার গবেষণা বলছে, ভারত যদি মার্কিন বাজারে মাত্র ৫ শতাংশ বাজারহিস্যা বাড়াতে পারে, তবে জিডিপিতে ০.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যোগ হবে।

গত বছরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৭.৩৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক, যেখানে ভিয়েতনাম ১৪.৯৮ বিলিয়ন এবং চীন ১৬.৫১ বিলিয়ন ডলার। ভারত ও ইন্দোনেশিয়াও ক্রমেই তাদের অবস্থান মজবুত করছে।

রাতারাতি অর্ডার হারাবে না, তবু ঝুঁকি প্রবল

দেশীয় রপ্তানিকারকরা বলছেন, অর্ডার রাতারাতি চলে যাবে না। কারণ বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের আছে দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা পরিকাঠামো, দক্ষ শ্রমশক্তি, বড় পরিসরে উৎপাদন সক্ষমতা এবং বিশ্বব্যাপী নির্ভরযোগ্যতা। ডিবিএল গ্রুপের জব্বার বলেন, “যদি শুল্ক ব্যবধান ১৫ শতাংশেও পৌঁছে যায়, অর্ডার থাকবে, তবে আমাদের মার্জিন কমবে।”

প্যাসিফিক জিন্সের তানভীর বলেন, “৫,০০০-৬,০০০ কর্মী সমৃদ্ধ কারখানা আমাদের দেশে প্রচুর আছে, যা অন্য দেশে দুর্লভ। এটাই আমাদের স্কেল।”

তবে ঝুঁকি আছে উচ্চমূল্য সংযোজিত গার্মেন্টস প্রোডাক্টে। এস এম খালেদ বলেন, এগুলোতে প্রতিযোগিতা বেশি, আর মার্জিনও বড়, তাই এগুলোর ক্ষতি তুলনামূলক বেশি হবে।

সম্ভাব্য চেইন রিঅ্যাকশন

বাংলাদেশের পোশাক খাত শুধু রপ্তানির উৎস নয়, বরং দেশের ব্যাংকিং, বীমা, পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতের মেরুদণ্ড। যদি মাত্র ১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি কমে, তবে এর প্রভাব অনেক খাতে পড়বে, কর্মসংস্থান হুমকিতে পড়বে।

এইচকেসি অ্যাপারেলসের রাকিবুল আলম বলেন, “আরেকটা সিজন হয়তো টিকে যাব। কিন্তু মার্কেট না পেলে, ব্যাংক ঋণ শোধই করা সম্ভব হবে না।”

ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও সফট কূটনীতি
ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও সফট কূটনীতি

দীর্ঘমেয়াদী ভয়: ভারত ও ভিয়েতনামের স্কেল অর্জন
সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, “আসল ভয় তখনই, যখন ভারত বড় কারখানা গড়ে তুলবে। তারা ইতোমধ্যে তা শুরু করেছে। একবার স্কেলে পৌঁছে গেলে, আমাদের বর্তমান বাজারহিস্যা হুমকির মুখে পড়বে।”

নীতিগত প্রস্তাবনা: সময় এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার মনে করেন, বাংলাদেশকে এখনই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যান্য দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা জোরদার করা দরকার।

তাঁর মতে, শুল্ক যদি ৩৫ শতাংশে না-ও যায়, তবুও অন্যদের তুলনায় বেশি হলে, তার ভার সরবরাহকারী বা বায়ারদেরই বইতে হবে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও বন্দর খরচ কমিয়ে উৎপাদন খরচ হ্রাস করার জন্য।

জব্বার বলেন, “বাংলাদেশের একটি সুস্পষ্ট কৌশল দরকার, যাতে আমরা নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারি। এই জন্য নীতিগত সহায়তা, গবেষণা এবং বাজার বিশ্লেষণে বিনিয়োগ জরুরি।”

একটি বিষয় এখন স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক বৃদ্ধি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর কৌশলগত অগ্রগতি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য বড় ধরনের সংকেত। আর এটি কেবল পোশাক নয়; দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক ভারসাম্যের উপরও প্রভাব ফেলবে। এখন দরকার দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতা, নীতিগত সংস্কার ও রপ্তানিকারকদের জন্য সহায়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে সময়ই এখন বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রাতারাতি অর্ডার হারাবে না, তবু ঝুঁকি প্রবল

ট্রাম্পর শুল্কনীতিতে বিপর্যয়ে দেশের পোশাক খাত

সর্বশেষ আপডেট ১০:০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত, যা দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ, বর্তমানে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। যুক্তরাষ্ট্রে যদি ঘোষিত ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কার্যকর হয়, তবে এটি বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বর্তমানে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক বসে, যা ৫০ শতাংশে পৌঁছালে দেশের রপ্তানি সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক হ্রাস নিয়ে আলোচনা করছে। তারা যদি অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পায়, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে ১৫ শতাংশের মতো শুল্কবৈষম্য তৈরি হবে, যা আমাদের মূল প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে চ্যালেঞ্জে ফেলবে।

মূল্য প্রতিযোগিতার ধস

পোশাক শিল্প মূলত মূল্য প্রতিযোগিতার উপর নির্ভর করে। ভারত যদি শুল্ক কমিয়ে নেয় এবং বাংলাদেশ ১৫ শতাংশ বেশি দিতে বাধ্য হয়, তাহলে তুলা-ভিত্তিক পণ্যে, যেখানে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে প্রতিযোগিতায় হার মানবে। প্যাসিফিক জিন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর আশঙ্কা করছেন, এতে তাদের মতো প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ রপ্তানি ঝুঁকিতে পড়বে। তার প্রতিষ্ঠানের বছরে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের এক-পঞ্চমাংশ মার্কিন বাজারে যায়।

ডিবিএল গ্রুপের এম এ জব্বারও একমত। যদিও তার কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নয়, তিনি বলছেন, দামের ওপর কঠিন দর কষাকষির চাপ বাড়বে এবং ইউরোপের বাজারও সেই সুযোগে দাম কমাতে চাইবে।

চট্টগ্রামের এইচকেসি অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুল আলম জানান, তাদের ৯০ শতাংশ পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে যায়, অথচ এবার অর্ডার মাত্র ২০ শতাংশ এসেছে। একইভাবে স্নোটেক্স গ্রুপের এমডি এস এম খালেদ বলছেন, অর্ডার আসা তো দূরের কথা, বায়াররা আগের নিশ্চিত অর্ডারও কমিয়ে দিচ্ছেন।

ভারত, ভিয়েতনাম ও অন্যান্যদের অগ্রগতি

ভারতের উদাহরণই সবচেয়ে স্পষ্ট। ট্রাম্প ৩৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করার পরই দেশটির টেক্সটাইল কোম্পানির শেয়ারবাজারে উত্থান ঘটে। তারা এই সুযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বাজার দখলের জন্য এগিয়ে গেছে। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার গবেষণা বলছে, ভারত যদি মার্কিন বাজারে মাত্র ৫ শতাংশ বাজারহিস্যা বাড়াতে পারে, তবে জিডিপিতে ০.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যোগ হবে।

গত বছরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৭.৩৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক, যেখানে ভিয়েতনাম ১৪.৯৮ বিলিয়ন এবং চীন ১৬.৫১ বিলিয়ন ডলার। ভারত ও ইন্দোনেশিয়াও ক্রমেই তাদের অবস্থান মজবুত করছে।

রাতারাতি অর্ডার হারাবে না, তবু ঝুঁকি প্রবল

দেশীয় রপ্তানিকারকরা বলছেন, অর্ডার রাতারাতি চলে যাবে না। কারণ বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের আছে দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা পরিকাঠামো, দক্ষ শ্রমশক্তি, বড় পরিসরে উৎপাদন সক্ষমতা এবং বিশ্বব্যাপী নির্ভরযোগ্যতা। ডিবিএল গ্রুপের জব্বার বলেন, “যদি শুল্ক ব্যবধান ১৫ শতাংশেও পৌঁছে যায়, অর্ডার থাকবে, তবে আমাদের মার্জিন কমবে।”

প্যাসিফিক জিন্সের তানভীর বলেন, “৫,০০০-৬,০০০ কর্মী সমৃদ্ধ কারখানা আমাদের দেশে প্রচুর আছে, যা অন্য দেশে দুর্লভ। এটাই আমাদের স্কেল।”

তবে ঝুঁকি আছে উচ্চমূল্য সংযোজিত গার্মেন্টস প্রোডাক্টে। এস এম খালেদ বলেন, এগুলোতে প্রতিযোগিতা বেশি, আর মার্জিনও বড়, তাই এগুলোর ক্ষতি তুলনামূলক বেশি হবে।

সম্ভাব্য চেইন রিঅ্যাকশন

বাংলাদেশের পোশাক খাত শুধু রপ্তানির উৎস নয়, বরং দেশের ব্যাংকিং, বীমা, পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতের মেরুদণ্ড। যদি মাত্র ১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি কমে, তবে এর প্রভাব অনেক খাতে পড়বে, কর্মসংস্থান হুমকিতে পড়বে।

এইচকেসি অ্যাপারেলসের রাকিবুল আলম বলেন, “আরেকটা সিজন হয়তো টিকে যাব। কিন্তু মার্কেট না পেলে, ব্যাংক ঋণ শোধই করা সম্ভব হবে না।”

ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও সফট কূটনীতি
ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও সফট কূটনীতি

দীর্ঘমেয়াদী ভয়: ভারত ও ভিয়েতনামের স্কেল অর্জন
সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, “আসল ভয় তখনই, যখন ভারত বড় কারখানা গড়ে তুলবে। তারা ইতোমধ্যে তা শুরু করেছে। একবার স্কেলে পৌঁছে গেলে, আমাদের বর্তমান বাজারহিস্যা হুমকির মুখে পড়বে।”

নীতিগত প্রস্তাবনা: সময় এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার মনে করেন, বাংলাদেশকে এখনই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যান্য দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা জোরদার করা দরকার।

তাঁর মতে, শুল্ক যদি ৩৫ শতাংশে না-ও যায়, তবুও অন্যদের তুলনায় বেশি হলে, তার ভার সরবরাহকারী বা বায়ারদেরই বইতে হবে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও বন্দর খরচ কমিয়ে উৎপাদন খরচ হ্রাস করার জন্য।

জব্বার বলেন, “বাংলাদেশের একটি সুস্পষ্ট কৌশল দরকার, যাতে আমরা নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারি। এই জন্য নীতিগত সহায়তা, গবেষণা এবং বাজার বিশ্লেষণে বিনিয়োগ জরুরি।”

একটি বিষয় এখন স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক বৃদ্ধি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর কৌশলগত অগ্রগতি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য বড় ধরনের সংকেত। আর এটি কেবল পোশাক নয়; দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক ভারসাম্যের উপরও প্রভাব ফেলবে। এখন দরকার দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতা, নীতিগত সংস্কার ও রপ্তানিকারকদের জন্য সহায়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে সময়ই এখন বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার।