গুলির খোসা পড়ল বাংলাদেশে
আরাকান আর্মি-আরএসও সংঘর্ষে কেঁপে উঠল নাইক্ষ্যংছড়ি
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
- / 157
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)-এর মধ্যে ফের তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা, ঘুমধুম ও দৌছড়ি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
সীমান্তবাসী ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানিয়েছেন, গত ২৪ জুলাই থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি-মিয়ানমার সীমান্তের ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৮ ও ৪৯ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারসংলগ্ন এলাকায় গোলাগুলি চলছে। আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে গুলি চালানো হয়েছে। এ সময় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলির একটি খোসা বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরে এসে পড়ে বলে জানা গেছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চাকঢালা সীমান্তে আজ সকাল থেকে ফের গোলাগুলি শুরু হয়। প্রচণ্ড শব্দে সীমান্তবর্তী আকাশ কেঁপে ওঠে, ফলে নারী-শিশুসহ এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সচেতন মহল বলছে, আরাকান আর্মির সঙ্গে আরএসও-র অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে এই সংঘর্ষ চলছে। কিছু অংশ সেনা-জান্তা সরকারের সহযোগী বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভারী অস্ত্র ব্যবহারে সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে এবং তার প্রতিধ্বনি এসে পৌঁছেছে বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা জনপদে।
চাকঢালা সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম, শফিউল আলম ও আবদুর রহমান জানান, শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ৫০ নম্বর পিলার থেকে ৪৮ নম্বর পিলার এলাকায় থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শুনেছেন তাঁরা।
তাঁরা আরও জানান, বিদ্রোহী আরসা বাহিনী প্রতিদ্বন্দ্বী একটি দলের ‘বেন্ডুলা’ ঘাঁটি দখলের চেষ্টা করছিল, তবে টানা বর্ষণের কারণে তা সম্ভব হয়নি। যদিও এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতায় সীমান্তবাসীর মধ্যে উৎকণ্ঠা ও অস্থিরতা বেড়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “একটি গুলির খোসা বাংলাদেশ সীমান্তে এসে পড়েছে। এতে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরের সংঘর্ষ সম্পর্কে আমরা অবগত।”
তিনি আরও জানান, “পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে উপজেলা প্রশাসন এবং ৩৪ বিজিবি। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পাশাপাশি ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
































