যুদ্ধের মাঠে তেলাপোকা!
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫
- / 248
রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর বদলে গেছে ইউরোপের নিরাপত্তা চিত্র। বদলে গেছে জার্মানির যুদ্ধনীতিও। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শান্তিবাদী মনোভাব ও মার্কিন নিরাপত্তা ছাতার নিচে নির্ভরশীল জার্মানি, এখন পরিণত হচ্ছে ইউরোপের সবচেয়ে উদ্ভাবনী সামরিক প্রযুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে।
হেলসিং- জার্মানির মিউনিখভিত্তিক এক স্টার্টআপ, যার সহ-প্রতিষ্ঠাতা গুন্ডবার্ট শার্ফ। মাত্র চার বছর আগেও বিনিয়োগ পেতে হিমশিম খাওয়া শার্ফ এখন ১২ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানির নেতা। তার প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে যুদ্ধ ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক যুদ্ধব্যবস্থা।
ইউরোপ এখন প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বেশি খরচ করছে সামরিক প্রযুক্তিতে। এটা একটা ঐতিহাসিক মোড়।
জার্মান সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় তিনগুণ করে ১৬২ বিলিয়ন ইউরোতে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে। লক্ষ্য- যুদ্ধের ধরন-ই বদলে ফেলা।
শুধু হেলসিং নয়, অজস্র স্টার্টআপ কাজ করছে রোবট সৈন্য, স্বয়ংক্রিয় সাবমেরিন, এমনকি “স্পাই ককারোচ” তৈরিতে- যা দেখতে আসল তেলাপোকার মতো, কিন্তু বুকে লাগানো ক্যামেরা আর সেন্সরের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে গুপ্তচরবৃত্তি চালাতে সক্ষম।
জার্মানির সেনাবাহিনী এখন স্টার্টআপদের সরাসরি সংযুক্ত করছে উচ্চপর্যায়ের সামরিক সিদ্ধান্তে। এমনকি নতুন আইনও পাস হচ্ছে, যাতে প্রাথমিক অর্থসহায়তা দিয়ে স্টার্টআপদের উৎসাহ দেওয়া হয়।
কোম্পানিগুলো বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর মানুষ এখন প্রতিরক্ষা খাত নিয়ে অনেক বেশি আগ্রহী। এখন আমি প্রতিদিন ২০-৩০টি নতুন প্রস্তাব পাচ্ছি।
‘সোয়ার্ম বায়োট্যাকটিক্স’ নামের প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে এমন তেলাপোকা, যেগুলো মানুষের নিয়ন্ত্রণে চলবে, তথ্য সংগ্রহ করবে, এমনকি শত্রু অঞ্চলে ঢুকে লাইভ ভিডিও পাঠাবে।
স্টেফান উইলহেল্ম- একটি স্টার্টআপ কোম্পানির মালিক। তিনি বলছেন, তাদের বায়ো-রোবটগুলো নিউরাল স্টিমুলেশন ও সেন্সর দিয়ে পরিচালিত। এগুলো এককভাবে চলতে পারে।
জার্মানি একসময় প্রযুক্তিগতভাবে সামরিক অগ্রগতির অগ্রপথিক ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তা থেমে যায়। এখন আবার সেই বিজ্ঞানমনস্কতা ফিরিয়ে আনতে চাইছে তারা- তবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে।
২০২৪ সালে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা স্টার্টআপে বিনিয়োগ ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। হেলসিং ছাড়াও, কোয়ান্টাম সিস্টেমস ও টেকেভার এখন এক বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের কোম্পানি।
জার্মানি এখন ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র যোগানদাতা। আগে যেসব অনুমোদন পেতে বছর লেগে যেত, এখন তা মাসেই সম্পন্ন হচ্ছে।
গুপ্তচর তেলাপোকা, এআই রোবট, ড্রোন- এসব আর কল্পবিজ্ঞান নয়। জার্মানি ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এবং এই প্রযুক্তি শুধুই প্রতিরক্ষা নয়, বরং একটি নতুন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত যুগেরও সূচনা।
তথ্য সূত্র : রয়টার্স






































