ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির অমর চরিত্র মাহেরীন চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
  • / 252

শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনার মধ্যেও উঠে এসেছে আত্মত্যাগের এক হৃদয়বিদারক গল্প। আগুন ও ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে অন্তত ২০ জন শিশুশিক্ষার্থীকে জীবন বাঁচিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের প্রাইমারি সেকশনের শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান সোমবার (২১ জুলাই) রাতে মাহেরীন চৌধুরীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ঘটনার সময় শিক্ষিকা মাহেরীন ছিলেন ক্লাসরুমে। হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে ভবন। মুহূর্তেই ধোঁয়া ও আগুনে চারপাশ ভরে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকর্মীদের বরাতে জানা যায়, আতঙ্কিত শিশুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি নিজেই ছুটে যান। নিজের প্রাণের পরোয়া না করে একে একে অন্তত ২০ জন শিশুকে বের করে দেন ভবন থেকে।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে নিজে আর বের হতে পারেননি। আগুন ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকা পড়ে গুরুতর দগ্ধ হন মাহেরীন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

মাহেরীন চৌধুরীর এই আত্মত্যাগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অভিভাবক মহল ও সাধারণ মানুষ শোক ও শ্রদ্ধায় নত হয়েছে।
একজন অভিভাবক বলেন, “ম্যাডাম অনেক ভালো ছিলেন। সেনাবাহিনী আমাদের বলেছে, ওনার কারণেই অন্তত ২০ জন বেঁচে গেছে। আমরা চিরকাল ঋণী থাকবো তাঁর কাছে।”

এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। যার মধ্যে ২৫ জন মাইলস্টোনের শিক্ষার্থী। বাকি দুইজনের মধ্যে রয়েছেন সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ স্বীকার করা শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী এবং পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম।

লামিয়া রহমান নামের এক অভিভাবক বলেন, মাহেরীন চৌধুরীর এই ত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানবতার সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ বারবার জন্ম নেয় নিঃস্বার্থ কর্মের মাধ্যমে। শিশুদের জীবন রক্ষায় নিজের জীবন দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক অমর চরিত্র

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির অমর চরিত্র মাহেরীন চৌধুরী

সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনার মধ্যেও উঠে এসেছে আত্মত্যাগের এক হৃদয়বিদারক গল্প। আগুন ও ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে অন্তত ২০ জন শিশুশিক্ষার্থীকে জীবন বাঁচিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের প্রাইমারি সেকশনের শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান সোমবার (২১ জুলাই) রাতে মাহেরীন চৌধুরীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ঘটনার সময় শিক্ষিকা মাহেরীন ছিলেন ক্লাসরুমে। হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে ভবন। মুহূর্তেই ধোঁয়া ও আগুনে চারপাশ ভরে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকর্মীদের বরাতে জানা যায়, আতঙ্কিত শিশুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি নিজেই ছুটে যান। নিজের প্রাণের পরোয়া না করে একে একে অন্তত ২০ জন শিশুকে বের করে দেন ভবন থেকে।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে নিজে আর বের হতে পারেননি। আগুন ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকা পড়ে গুরুতর দগ্ধ হন মাহেরীন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

মাহেরীন চৌধুরীর এই আত্মত্যাগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অভিভাবক মহল ও সাধারণ মানুষ শোক ও শ্রদ্ধায় নত হয়েছে।
একজন অভিভাবক বলেন, “ম্যাডাম অনেক ভালো ছিলেন। সেনাবাহিনী আমাদের বলেছে, ওনার কারণেই অন্তত ২০ জন বেঁচে গেছে। আমরা চিরকাল ঋণী থাকবো তাঁর কাছে।”

এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। যার মধ্যে ২৫ জন মাইলস্টোনের শিক্ষার্থী। বাকি দুইজনের মধ্যে রয়েছেন সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ স্বীকার করা শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী এবং পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম।

লামিয়া রহমান নামের এক অভিভাবক বলেন, মাহেরীন চৌধুরীর এই ত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানবতার সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ বারবার জন্ম নেয় নিঃস্বার্থ কর্মের মাধ্যমে। শিশুদের জীবন রক্ষায় নিজের জীবন দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক অমর চরিত্র