বেনজীরের ব্যবহৃত শার্ট-প্যান্ট নিলামে তোলা হচ্ছে
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:২১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
- / 327
পলাতক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমদের গুলশানের অভিজাত ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটের ব্যবহৃত সামগ্রী নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালত। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের নির্দেশে একটি নিলাম কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (২১ জুলাই) এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শিগগিরই নিলামের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।
গুলশানের র্যান্কন টাওয়ারের ১২/এ, ১২/বি, ১৩/এ ও ১৩/বি নম্বর চারটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট একত্রিত করে তৈরি করা ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে জব্দ করা হয় ২৪৬টি মূল্যবান আইটেম।
ইনভেন্টরি কমিটির এক সদস্য বলেন, “তালিকা তৈরি করতে গিয়ে মনে হয়েছে আমরা যেন আশির দশকের ফিলিপাইনের মার্কোস ও ইমেলদা মার্কোস দম্পতির সম্পদের তালিকা করছি।”
শুধু একটি ভবনের ফ্ল্যাটেই পাওয়া তাদের ব্যবহৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে- শার্ট ১২২টি, প্যান্ট ২৬৬টি, ৩০ ব্লেজার, আটটি স্যুট, টি-শার্ট ৭২২টি, পাঞ্জাবী ২২৪টি, পায়জামা ৪৭টি, স্যান্ডেল ৮৮ জোড়া, কেডস ৩৫ জোড়া, জুতা ৩৮ জোড়া, শাড়ি ৪৯৪টি, থ্রিপিস ২৫০ সেট, সালোয়ার-কামিজ ৪৯৬টি, ব্লাউজ ৬৫টি, জামা ২১২টি, জ্যাকেট ৫৬টি, বেডশিট ১০৯টি, লেডিস ভ্যানিটি ব্যাগ ৭৫টি, লেডিস টপস ৬২২টি, সোয়েটার পুরুষ-১১টি, লেডিস-৩৪টি, লেডিস প্যান্ট ৩৫৫টি, লেডিস টি-শার্ট ২৮টি, নাইট ড্রেস ৫৮টি, ওড়না ৩৪৭টি, শাল-চাদর ৮৯টি, শীতের জামা ১৩২টি, লেহেঙ্গা ১৬টি, সানগ্লাস ৩৪টি, ট্রাউজার ৬৭টি।
সুসজ্জিত থিয়েটার রুম, অতিথি বিনোদন কক্ষ, ডাইনিং সেট, ড্রেসিং টেবিলসহ অনেক আসবাবপত্রও জব্দ করা হয়েছে। তবে মূল্যবান আসবাবপত্রের একটি অংশ আপাতত নিলামের বাইরে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দুদক ইতোমধ্যে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই কন্যার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে একাধিক মামলা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মোট অবৈধ সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেনজীরের একার বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ এবং ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের ৪ মে বেনজীর আহমেদ স্ত্রী-কন্যাসহ মিথ্যা ঘোষণায় পাসপোর্ট করে গোপনে দেশ ছাড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর দুদক বেনজীরের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করে। এছাড়াও তার স্ত্রী জিশান মির্জা, বড় মেয়ে ফারহীন ও ছোট মেয়ে তাহসীনের বিরুদ্ধেও পৃথকভাবে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা রয়েছে।
ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে ব্যবহৃত সম্পদের নিলাম কার্যক্রমে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে সভাপতি করে গঠিত কমিটিতে বিচার বিভাগের ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান এই উদ্যোগ দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠেছে।































